মেইন ম্যেনু

মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদল

মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে পছন্দের অপারেটর বেছে নিতে পারবেন গ্রাহকরা। বহির্বিশ্বের আদলে গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ‘মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি’ (এমএনপি) চালু করতে যাচ্ছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সচিবালয়ে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ তথ্য জানান।

তারানা হালিম জানান, ন্যূনতম ফি দিয়ে গ্রাহক তার মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অন্য কোনো পছন্দের অপারেটরের সংযোগ ব্যবহার করতে পারবেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে আরো আগে করার চেষ্টা থাকবে। এমএনপি সুবিধা চালুর বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত হলেই বিটিআরসিকে প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হবে।

তিনি আরো জানান, ২০১৩ সালে মোবাইল অপারেটরদের টু-জি লাইসেন্স দেওয়ার সময় এ সুবিধা চালু করার বিষয়টি বলা ছিল। তারা সে সময় আপত্তি করবে না বলেও জানিয়েছিল। গ্রাহকসেবার মান বাড়াতেই এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে। মোবাইল গ্রাহকরা ন্যুনতম ফিতে এমএনপি সুবিধাভোগ করতে পারবেন। অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলে ওই টাকায় গ্রাহকরা মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অন্য যে কোনো অপারেটর ব্যবহার করতে পারবেন। গ্রাহক এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে যেতে চাইলে কমপক্ষে ৪০ দিন আগের অপারেটরে থাকতে হবে। এরপর আবার ফি দিয়ে অপারেটর পরিবর্তন করতে পারবেন।

তারানা হালিম জানান, নিলামের মাধ্যমে ১৫ বছরের জন্য একটি কোম্পানিকে এমএনপি লাইসেন্স দেবে সরকার। এক বছরের লাইসেন্স ফি হবে ২০ লাখ টাকা। লাইসেন্স ইস্যুর পর দ্বিতীয় বছর থেকে এমএনপি অপারেটরকে ৫.৫ শতাংশ হারে রাজস্ব দিতে হবে। লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে ন্যূনতম তিন বছর এমএনপি সার্ভিস প্রদানের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে রেজিস্ট্রারকৃত যোগ্য কোম্পানি এ নিলামে অংশ নিতে পারবে। বাংলাদেশি কিংবা প্রবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি যোগ্য হিসেবে নিলামে অংশ নিতে পারবে। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশি অংশীদার লাগবে। এক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ মালিকানা ৫১ শতাংশ হতে হবে। ওই প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই তার অংশ বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগ করতে হবে। সে প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে না।

তবে বাংলাদেশের লাইসেন্সধারী মোবাইল অপারেটরের মালিক, পরিচালক, অংশীদার, বিনিয়োগকারী, শেয়ার হোল্ডার এমএনপি লাইসেন্স নিলামে অংশ নিতে পারবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফয়েজুর রহমান।