মেইন ম্যেনু

মোল্লাকান্দির কেন্দ্রে কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, জয়ী হলেন বিদ্রোহী প্রার্থী কল্পনা

নাসরিন আক্তার, মুন্সীগঞ্জ থেকে : সন্ত্রাসের জনপদ মোল্লাকান্দিতে নৌকার প্রার্থী পুন:নির্বাচন দাবি Mohasina Haque Kalpanaকরলেন। এরআগে বিভিন্ন কেন্দ্রে শত শত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান নৌকার প্রার্থী রিপন পাটোরির সমর্থকরা। পুলিশের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটান তারা। এ সময় বেশ কয়েকটি কেন্দ্র দীর্ঘ সময় ধরে ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এদিকে, কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্কিত হয়ে ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমে যায়। ম্যাজিস্ট্রেটও বিজিবি নিয়ে ঘটনা পর্যবেক্ষন করেন। শনিবার মুন্সীগঞ্জের পঞ্চম ধাপের শেষ নির্বাচন শুরু হওয়ার পরপরই এ তান্ডব শুরু হয়ে। শেষাবধি ভোট কেন্দ্র দখল করতে না পেরে পিছু হটেন নৌকার প্রার্থী। মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারি পুন:নির্বাচন দাবিতে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন।

সরজমিন ঘটনাস্থল গেলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরাই আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভোট কেন্দ্র দখলের জন্য ককটেল বিস্ফোরণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মহাসিনা হক কল্পনার সমর্থকরা অসহায় হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে। তিনি ইউপি আওয়ামী লীগসহ তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মোল্লাকান্দির চরডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নৌকার প্রার্থী রিপন পাটোয়ারি বহিরাগত সন্ত্রাসীরা একেরপর এক বৃষ্টিরমতো ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা। ভোটাররা দ্বিগবিদ্বিগ ছুটাছুটি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। প্রিজাইডিং অফিসারসহ ভোট কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা দরজা-জালানা বন্ধ করে বসে থাকেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়লে দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে বেলা ১১টা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হলেও ভোটার উপস্থিতি ছিলো না। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হ্নদয় কৃঞ্চ মন্ডল বেলা সাড়ে ১১টায় জানান, এ কেন্দ্রে ১৯৫৬ ভোটের মধ্যে ৩৪০টি ভোট কাস্ট হয়েছে।

মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে নৌকার সমর্থকরা শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই ঘটনার পর ভোটারের উপস্থিতি একেবারে কমে যায়। রাজারচর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে খালের ওপার থেকে জমিতে নৌকার সমর্থকরা ভোট কেন্দ্র লক্ষ্য করে প্রায় বৃষ্টির মতো ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা চান। ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান বিজিবি নিয়ে ঘটনা পর্যবেক্ষন করতে থাকেন। পরে র‌্যাবের উপস্থিতিতে বেলা পৌনে ১১টায় পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ওই সময় এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আশাদুজ্জামান জানান, এ কেন্দ্রে ২৫৬৪ ভোটের মধ্যে ২৫০টি ভোট কাস্ট হয়েছে। এ কেন্দ্রটির অধিকাংশ ভোটার বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের। নোয়াদ্দা এবতেদায়ী সরকারি মাদ্রাসা কেন্দ্রে নৌকার সমর্থকরা ৫০-৬০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ভোটার উপস্থিতি কমানোর লক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীর একচেটিয়া ভোটপ্রাপ্তির কেন্দ্র মুন্সিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের আশপাশে ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই থেমে থেকে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তবে, এ ইউনিয়নের ১০টি ভোট কেন্দ্রের কোনটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে, এ রিপোর্ট লেখার সময় বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মহাসিনা হক কল্পনা। নৌকার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

এদিকে, জালভোট, এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়া, কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে শনিবার দুপুরে পুন:নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রার্থী স্থানীয় নির্বাচন কমিশন, জেলা পুলিশ সুপার ও প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুরাদউদ্দিন হাওলাদার বলেছেন, কোন কেন্দ্র স্থগিত হয়নি, নৌকার প্রার্থী অনেক কেন্দ্রে নিজেরাই এজেন্ট দিতে পারেননি।

এদিকে, পাশ্ববর্তী আধারা ইউনিয়নে নৌকা ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর সরকারি প্রাথমিক ভোট কেন্দ্রে নৌকার সমর্থকরা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ভোট কেন্দ্রটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।