মেইন ম্যেনু

মোল্লা ওমরের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে

তালেবান নেতা মোল্লা ওমর আফগানিস্তানে স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন। কিন্তু তার মৃত্যু সম্পর্কে নানা রটনা তৈরি করে তালেবান নেতৃত্বে ভাঙ্গন ধরানোর চেষ্টা করছে শক্রপক্ষ। রোবাবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন স্বয়ং মোল্লা ওমরের ছেলে।

গত জুলাই মাসে মোল্লা ওমরের মৃত্যুর সত্যতা স্বীকার করে প্রথমবারের মত বিবৃতি দেয় তালেবান জঙ্গিরা। তারা জানায়, দু বছরেরও বেশি সময় আগে মারা গেছেন তাদের নেতা। বিবৃতি দেয়ার পরের দিনই এক ঐতিহাসিক সম্মেলনে ওমরের সহকারি মোল্লা মনসুরকে নিজেদের নতুন নেতা নির্বাচন করে তালেবানরা। তখন এই নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল অনেক তালেবান নেতা এবং মোল্লা ওমরের পরিবার।

রোববার রাতে পিতার মৃত্যুর ওপর প্রথমবারের মত বিবৃতি দিয়েছেন মোল্লা ওমরের বড় ছেলে মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব। এক অডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন,‘আমি আপনাদের এই মর্মে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আমার বাবার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকবার অসুস্থ হলেও তার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল। আমরা তাকে বিভিন্ন সময়ে ডাক্তারও দেখিয়েছি। তবে তিনি হেপাটাইটিস সি রোগে ভুগছিলেন।’

অডিওবার্তায় আরো বলা হয়েছে,‘আফগানিস্তানে মার্কিন দখলদারিত্বের সময়ও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি এখানেই মারা গেছেন এবং নিজ দেশের মাটিতেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে।’

মোল্লা ওমর নিজের কোনো উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যাননি বলেও দাবি করেছেন মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব। এর আগে তালেবানদের একা্ংশ দাবি করেছিল, মনসুরকে নিজের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন তালেবান নেতা।

তালেবানদের নতুন নেতা মনসুরকে ঘিরে নানা বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে তার মাখামাখি ভালো চোখে দেখছে না অধিকাংশ তালেবান। এ কারণেই চলতি বছর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানদের শান্তি আলোচনায় মদদদানের বিষয়টি বেশ সমালোচিত হয়। এ ঘটনায় কিছু তালেবান কমান্ডার এই মর্মে অভিযোগ তুলেছেন, মনসুর পাক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পকেটে চলে গেছেন।

একসময় পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলেও এখন আর পাকিস্তানকে বিশ্বাস করতে পারছে না তালেবানরা। এ দিকে ইঙ্গিত করেই মোল্লা ওমরের ছেলে ওই অডিওবার্তায় বলেছেন,‘মার্কিন মদদপুষ্ট আফগান সরকার আমাদের শক্র। এখন আরো কিছু ইসলামি দেশও আমাদের শক্রর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।’

২৭ বছরের ইয়াকুব আরো জানিয়েছেন, তার নেতা হওয়ার কোনো খায়েশ নেই। তিনি তালেবান পরিষদের প্রতি নিজের পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: রয়টার্স