মেইন ম্যেনু

মৌলভীবাজারে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরে ভুয়া ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় মুন্না আহমদ (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

দীর্ঘ ১ মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে শেষ পর্যন্ত হার মানলো চার বছরের শিশু মুন্না আহমদ। পরিবারের সবাইকে কাদিয়ে ১৯ জুন রোববার বিকাল আড়াইটায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে। একমাত্র সন্তানের অকাল মৃত্যুত্বে বেদনায় মা বাবা পাগলপ্রায়।

জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের কামারকান্দি গ্রামের দরিদ্র মুস্তাকিন মিয়ার একমাত্র শিশু পুত্রের চোখের সমস্যা দেখা দিলে কুলাউড়া শহরের স্টেশন রোডে কথিত ভুয়া ডাক্তার আবুল হোসেনের কাছে গত ১৩ মে নিয়ে আসেন। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে তার পদবিতে লেখা বি.এ, ডি.এইচ, এম.এস, বি.এইচ.বি (ঢাকা), রেজি: নং ১৯৩৬২। মেডিক্যাল অফিসার, ফারুকী দাতব্য হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র, গোলাপগঞ্জ, সিলেট। চেম্বার : মা হোমিও হেলথ সেন্টার জল্লারপার রোড, মির্জাজঙ্গাল, সিলেট।

moulvibazar pic 19-06-2016 (1) (1)

কথিত এই ভুয়া ডাক্তার নিজের তৈরি ঔষধের পর পর ৩ বার অতিরিক্ত ডোজ দিলে শিশু মুন্নার অবস্থা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছে। অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তার শিশুটিকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য শিশুর পিতা মোস্তাকিন মিয়াকে বলেন। ২৩ মে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে শিশু মুন্নাকে ভর্তি করা হয় এবং ১ জুন পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলে। চিকিৎসাকালীন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পরবর্তী চিকিৎসার জন্য অতিসত্বর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, শেরে বাংলানগর, ঢাকা যোগাযোগ করার জন্য উপদেশ দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেন।

এরপর মোস্তাকিন মিয়া গুরুতর অসুস্থ শিশু ৪ জুন ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনন্সিটিউট এন্ড হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ৫ জুন ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে একটি মেডিক্যাল বোর্ড শিশু মুন্নার অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে জানিয়ে তাদের ফেরৎ পাঠায়।

মুন্নার পিতা জানান, একমাত্র শিশুটির মৃত্যুতে তাদের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। এভাবে ভুল চিকিৎসায় শিশুটিকে হারাতে হবে কোনদিন কল্পনা করতে পারিনি। তিনি ভুয়া ডাক্তারের উপযুক্ত বিচার চান। যাতে আর কোন দিন এ রকম ভুয়া ডাক্তারের কারণে আর কোন শিশুর জীবন প্রদীপ নিবে না যায়।

ইতোমধ্যে মুস্তাকিন মিয়া কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে শিশুর অবস্থা বেগতিক দেখে কথিত ভুয়া ডাক্তার আবুল হোসেন তার কুলাউড়া চেম্বারে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।

ডাক্তারের মোবাইল ফোনে রোগি দেখার কথা বলে কুলাউড়া আসবেন কি না? এ প্রশ্নের জবাবে ডাক্তার আবুল হোসেন জানান, কুলাউড়ার চেম্বারে আর তিনি বসবেন না। রোগি থাকলে সিলেট মির্জাজঙ্গালে অথবা গোলাপগঞ্জের চেম্বারে নিয়ে যাবার পরামর্শ দেন।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, এ ব্যাপারে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।