মেইন ম্যেনু

মৌলভীবাজার শহরের যানজট রহস্য!

সিটির মতো মৌলভীবাজার শহরের পরিধি ব্যাপ্ত কিংবা মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন না হলেও তা ব্যাহত হচ্ছে মহানগরীর তালে। শব্দ দূষণ আর যানজটের অধিক্যে নাকাল হয়ে উঠছে নগর এবং নাগরীক জীবন। ঘন্টাধিক সময় যানজটে আটকা পড়তে হচ্ছে সাধারন মানুষকে। ঈদের কেনাকাটার খায়েস ঘায়েল হচ্ছে হঠাৎ সৃষ্ট যানজটে। একটি মফস্বল শহরের এমন যানজটের পেছনে কি এমন রহস্য রয়েছে?

গতকাল সোমবার শহর ঘুরে রহস্য খুঁজতে দেখা গেল তার জন্য যতটা দায়ি ট্রফিক পুলিশ তার চেয়ে বেশি দায়ি অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠা বিপনী বিতান সমূহ। তার সাথে রয়েছে যত্রতত্র পার্কিং যান চলাচলের অসম প্রতিযোগীতা।

শহরের চৌমুহনী থেকে শমসের নগর রোড এবং সাইফুর রহমান রোড (সেন্ট্রাল) যানজট এই শহরের নিত্য দিনের সঙ্গী। যার একমাত্র কারণ হল অবৈধ পার্কিং আর অপরিকল্পিত বিপনী বিতানের সম্মোহন। সবচেয়ে বড় দুটি প্রতিষ্ঠান এমবি ও বিলাশ শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গন্য সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত। নি¤œ বিক্ত থেকে আরম্ভ করে উচ্চবিত্ত পরিবারের সিংহ ভাগ কেনা কাটার জন্য ছুটে আসে এদুটি প্রতিষ্টানে। তাই প্রতিষ্টান দু‘টোর সম্মুখ ও লাগুয়া এলাকায় জমে উঠে যানজট। এ যানজটের স্বীকার হচ্ছেন গ্রাহক এবং পথচারীরা। চৌমুহনী হতে পশ্চিম বাজার পৌঁছাতে ৮ মিনিটের স্থলে সময় লাগছে ২০-২৫ মিনিট। যানজটে দীর্ঘ লাইন অপেক্ষা করতে হচ্ছে কেনাকাটা করতে আসা মানুষদেরকে।

নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় ক্রেতারা প্রাইভেট কারসহ নানা যানবাহন পার্কিং করছেন তাদের শপের সামনে যার ফলে সংকীর্ণ হয়ে থাকে সড়ক। ২৫ ফুট চওড়া রাস্তায় কখনও একটি গাড়ী পার হওয়া অসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। সরেজমিন দেখা যায় সাধারণ যান উপেক্ষা করে ক্রেতাদের গাড়ী স্বযতেœ রাস্তা জুড়ে পার্কিং করতে ব্যস্থ হয়ে পড়েন উভয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মীরা। যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় কুসুমবাগ হতে চৌমুহনী পর্যন্ত।

এছাড়া যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যায়, সব কটি বড় আর্থিক প্রতিষ্টান, মেগাশপ, শপিং মহল এবং ব্যাংকগুলো সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত। কিন্তু তাদেও নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় গ্রাহকরা রাস্তা জুড়ে প্রাইভেট গাড়ি পার্কিং করতে বাধ্য হচ্চে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক গুণ। যার ফলে প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে ছিনতাইকারীদের খপ্পড়ে। এতে চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন কেনাকাটা করতে আসা পরিবারগুলো।

এছাড়া শহরের কুসুমবাগ, বেরিরপার, শমসেরনগর, চাঁদনীঘাট বাসস্ট্যান্ডসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় রাস্তা জুড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরির কারনে লেগে থাকে যানজট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু ব্যবসায়ীর অভিযোগ করে বলেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা এসব বাসস্ট্যান্ড থেকে মাসোয়ারা নিচ্ছেন তারা।

ব্যাপারে জানতে মৌলভীবাজার ট্রাফিক সার্জন মাহফুজ আলম বলেন, যানজট নিরসনের জন্য আমরা তৎপর আছি। কিন্তু যানবাহনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সব ক্ষেত্রে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।