মেইন ম্যেনু

মৌসুমীর ছবি ধরে কাঁদলেন মাহি!

ঢাকা শহরে কোনো ঠিকানা খুঁজে পেতে এত ভোগান্তি পোহাতে হয় কি-না জানা নেই, যতটা হয়েছে ‘হারজিৎ’-এর লোকেশন খুঁজে পেতে।

উত্তরার একটি পাঁচতলা বাড়ির তিন ও চার তলা জুড়ে শুটিং ফ্লোর ‘স্বপ্নিল ৩’। ঢুকতেই নায়িকা মাহির দর্শন মিলল। দুইমাসের বিরতিতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। তার চোখে কি-না পানি! কিছুটা খটকা লাগল। উত্তর খুঁজতে খুঁজতে দাঁড়িয়ে গেলাম এক কোণায়।

‘তুমি চলে যাবার পর আপুকে আমি নানা জায়গায় খুঁজেছি। শেষে একদিন শুনি রেলে কাটা পড়ে তিনি মারা গেছেন।’— সজল সংলাপগুলো বলছিলেন আর মাহির চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। মোটামুটি দ্বিতীয় টেকে শটটি ওকে হল।

শট শেষে নায়িকার সাথে ইশারায় কুশল বিনিমিয়। ক্লোজ শট থেকে দৃশ্যটি নেওয়া হবে। চোখে গ্লিসারিন দিয়ে মাহি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। শট ওকে হওয়ার পর জিজ্ঞাসা করলাম, ‘একটা গ্যাপের পরে শুটিং করছেন। অসুবিধা লাগছে না?’

মাহি বললেন, ‘দুই মাসের গ্যাপ। আমার খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। কারণ আমি আগেও বছরে ৩-৪টা ছবি করতাম। যার কারণে প্রায় বছরেই দু-তিনমাসের ছুটি পেতাম।’

আলাপচারিতায় তিনি জানালেন ‘হারজিৎ’-এ একজন প্রতিবাদী নারীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন। বেশকিছু অ্যাকশন দৃশ্যেও তাকে দেখা যাবে।

এরই মাঝে পরবর্তী শট রেডি। মৌসুমীর বড় একটি ছবির সামনে দাঁড়ালেন মাহি। সাদা শাড়ি পরা ছবিতে ফুলের মালা। মাহি ছবিটিতে হাত বুলিয়ে চুমু খেলেন। পরিচালক বদিউল আলম খোকন বললেন, ‘মাহি আপু আপনি বাঁ চোখে পানি দিয়ে নেন।’ মাহি বললেন, ‘স্যার, আমি অলরেডি পানি নিয়ে নিয়েছি।’

শটটি দিয়ে এসে ‘কৃষ্ণপক্ষ’ নায়িকা বললেন, ‘ভাইয়া, সেটে কখনো দেরি করে আসার রেকর্ড নেই আমার। আজ সাড়ে ১০টার কলে উপস্থিত হয়েছি ১১টায়। যদিও পরিচালক বকা দেননি, এরপরও একটু খারাপ লাগছে।’

খোকনের ২৯তম ছবি ‘হারজিৎ’। এর আগে টানা ২২টি সিনেমার নায়ক ছিলেন শাকিব খান। পরিচিত বৃত্তের বাইরে এসে ছবি নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দর্শক রুচির পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া আমারও মনে হয়েছে যারা সুপারস্টার তাদের ছবি তো দর্শক এমনিতেই দেখে। এর বাইরে গিয়ে একটু কাজ করেই দেখি না।’

জানালেন এ বাড়িতে টানা চারদিন শুটিং হবে। এরপর উত্তরা ও পূবাইলের বিভিন্ন লোকেশনে যাবে ‘হারজিৎ’ টিম।

দৃশ্যধারণ শেষে বিশ্রামে গেলেন মাহি। শুটিং ইউনিটে তখন দুপুরের খাবারের বিরতি, বাইরে ঝুম বৃষ্টি। আমরা রিকশার খোঁজে দাঁড়িয়ে!