মেইন ম্যেনু

মৌ-মৌ পাকা ফলের সুগন্ধে জুড়িয়ে যায় প্রাণ

মৌসুমী ফলে সরগরম রাউজানের হাটবাজার

রাউজান উপজেলার বিভিন্ন গ্রামঞ্চলের বাজার এখন মৌসুমি ফলে সরগরম হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অত্র উপজেলার অনেক মানুষ এখন মৌসুমি ফলের ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে। ঋতুগত পরিবর্তন এবং আবহওয়ার কারণে এ সময় আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, তরমুজ, লেবু, পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, জামরুল, বেলসহ আমাদের জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে স¤পৃক্ত হয়। এখন উপজেলার রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও ফুটপাত সবখানে ফলের সমাহারে সরগরম ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। আম, জাম, আনারস, কাঁঁঠাল, লিচু, জামরুল, বেল, তরমুজ, আতাসহ বিভিন্ন রসালো ফলমূল গাছে গাছে হাটবাজারে যে দিকে চোখ যাচ্ছে সেদিকে চোখে পড়ছে। আর বাতাসে ভেসে আসছে মৌসুমী এসব রসালো ফলের মৌ-মৌ সুগন্ধ। মৌ-মৌ পাকা ফলের সুগন্ধে জিহ্বায় জল এসে ফল খাওয়ার জন্য মনকে জাগিয়ে তুলছে।

এদিকে উপজেলার হাট বাজারেও জমে উঠেছে মৌসুমী রসালো ফলের বাজার। বাহারী মৌসুমী ফলে সয়লাব উপজেলার হাটবাজারগুলো। তবে দাম এখনো চড়া হওয়ায় নিম্ম আয়ের সাধারন মানুষগুলো চাহিদা অনুযায়ী ক্রয় করতে পারছেনা। জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে আম, কাঁঠাল, আনারস ভাল ফলে। তাই ফলের বাগান করা ছাড়াও বসত ভিটায় ফলের গাছ রোপন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে।

এছাড়া বিক্রেতারা পার্বত্য অঞ্চলের হাটবাজার থেকে সংগ্রহ করে রাউজানের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করে বিধায় ক্রেতারা খুব সহজে ক্রয় করতে পারে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের উৎপাদিত আম পাইকাররা সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার ফকিরহাট, গহিরা চৌমুহনী, জানালিহাট, নতুনহাট, নোয়াপাড়া, পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায় উপজেলায় এবার ৩৫ রকমারী স্বাদ, গন্ধ, রস ও জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। এদের মধ্যে রূপলী, লক্ষ্মি, বাটার, হিমসাগর, রাজশাহী, গোপালভোগ, মালভোগ, ল্যাংড়া, সুন্দরী, ভবানী, বৈশাখী, সিঁদুরকোটা, বউভোলানি, হিমসাগর, কাজলী, কলাবতী ইত্যাদি নামের আম উল্লেখযোগ্য। এখন বাজারে মৌসুমী ফলমূল আম, জাম, কাঠাঁল, আনারস, লিচু, খেজুর, জামরুল বেল, আতাসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলে বাজার সয়লাভ।

এসব মৌসুমী ফল ক্রয়ে ক্রেতাদের ভীড় লক্ষণীয়। প্রতিশ দেশীয় লিচু বিক্রি হচ্ছে ১০০-১৫০ টাকা, চায়না-২ চায়না-৩ ও রাজশাহী প্রতিশ লিচু ২০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ছোট সাইজের প্রতি কাঁঠাল ৫০-৮০ টাকা, মাঝারী সাইজের প্রতি কাঁঠাল ১০০-১৫০ টাকা, বড় সাইজের প্রতি কাঁঠাল ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় আম প্রতি কেজি ৪০-৬০ টাকা, রুপালী, লক্ষ্মি, বাটার, গোপালভোগ, মোহনভোগ, রাজশাহীসহ বিভিন্ন প্রজাতের আম ১০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ফল ক্রেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, বছরের ফল হিসেবে ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও বোনের বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ক্রয় করছি। দাম বেশি হওয়ায় চাহিদামত ক্রয় করতে পারছি না। বিক্রেতা রাজু বলেন, দাম বেশি হলেও বিক্রি ভাল হচ্ছে। তবে কিছুদিন পর দাম কমবে তখন বেচা-বিক্রি আরো ভাল হবে।