মেইন ম্যেনু

ম্যাডামের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে ষষ্ঠ কাউন্সিল

মেজর অব মো. আখতারুজ্জামান: ১৯ মার্চ ২০১৬ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনের সর্বাত্মক সফলতা কামনা করছি। সেই সঙ্গে স্বাগত জানাচ্ছি সম্মানিত কাউন্সিলারদের।

সরকারের দুঃশাসনের সব বাধা অতিক্রম করে এবারের সম্মেলন করাটাই হবে চরম সফলতা। সরকার সুকৌশলে একদিকে তৃণমূল বিএনপিকে ব্যস্ত রাখছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবং অন্যদিকে সরকারের হাতে দলকে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্রে মেতেছে ম্যাডামকে ঘিরে রাখা সরকারের মদদপুষ্ঠ হায়েনারা। বিএনপিকে বাইরে থেকে ভাঙার চেষ্টা বহুবার করা হয়েছে। কিন্তু ম্যাডামের দূরদর্শিতার কারণে শত্রুরা কখনই সফল হতে পারেনি। এবার দলের শত্রুরা ম্যাডামের ঘরেই শত্রু ঢুকিয়ে দিয়েছে। দুর্জনেরা বলে সেই শত্রুর ইশারায় শুধু দল নয় স্বয়ং ম্যাডামও চলে। বাইরে রটনা আছে দল নাকি লন্ডন থেকে গায়েবি আওয়াজে চলে। নিঃসন্দেহে দল গায়েবি আওয়াজে চলে। তবে সে আওয়াজ লন্ডন থেকে আসে না। গায়েবি আওয়াজ যদি লন্ডন থেকে আসতো তাহলে তা নিশ্চয় তারেক রহমানের কাছ থেকে আসতো। বাংলাদেশ থেকে গত ছয় মাসে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছে এমন কোনো নেতার নাম কি কেউ দিতে পারবেন? এমনকি তারেক রহমান যদি ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলতেন তাহলে তা কি সরকার জানতো না? সরকার সেই কথা জানলে সরকারের জাঁদরেল তথ্যমন্ত্রী ও সর্বকালের সেরা নব্য চানক্য ইনু সাহেব কি চুপ করে থাকতেন ? ম্যাডাম লন্ডন থেকে আসার পরে মা-বেটার কথা হয়েছে এমন কোনো সংবাদ কোনো সংবাদ মাধ্যম প্রচার করেছে বা প্রচার করতে পেরেছে? অথচ বাজারে চাউর ম্যাডাম ও তারেক রহমান উভয়েই মিলে দলের সম্মেলনের নীতিনির্ধারণ করছেন। তাই যদি হয় তাহলে কি সরকার মা-বেটার পরামর্শে সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য বিএনপিকে সুসংগঠিত করার সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছে! এই কথা বিএনপির একশ্রেণির নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করলেও রাজনৈতিক সচেতন ও অভিজ্ঞ মহল কখনই বিশ্বাস করে না।

সরকার সুকৌশলে এবং যোগাযোগ মাধ্যমের উৎকর্ষের সুযোগ নিয়ে এমন একটি অবয়ব সৃষ্টি করছে যাতে সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মে ম্যাডাম ও তারেক রহমান প্রতিদিন কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে সরকারের সব আড়িপাতা উপেক্ষা করে ম্যাডাম ও তারেক রহমান হ্যালো শব্দটি উচ্চারণ করারও সুযোগ নেই। সরকারের অনুমোদিত টেলিফোন ছাড়া অন্য কোনো টেলিফোনে কথা বলা ম্যাডামের পক্ষে কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তার উপরে ম্যাডামের বাড়ির উপরে সরকারের ইলেকট্রনিক্স জ্যাম ও স্ক্যানার লাগানো আছে যা বেদ করে কেউ কথা বলতে পারবে না। ১/১১ এর সরকারের প্রথম দিকে ম্যাডাম টেলেফোনে সারা দেশের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলতেন। কিন্তু এখন বলছেন না কেন? নাকি বলার সুযোগ নাই? এই বিষয়গুলো নিয়ে বস্তুনিষ্ঠভাবে চিন্তা করলে ষড়যন্ত্রের সব রহস্য উম্মোচিত হয়ে যাবে।

হয়তো প্রথামাফিক দলের সম্মেলন হয়ে যাবে। সম্মেলনের শেষে দলের সব কমিটি গঠন করার একক দায়িত্ব ম্যাডামের ওপর দিয়ে দেয়া হবে। তারপরে চলবে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। গৌহাটিতে বসে কেউ দলের কথা ভাবেন, দলের গঠনতন্ত্র নিয়ে বিনিদ্র রজনী কাটান আর বাকি নেতারা ঢাকায় বসে ভেরান্ডা ভাজেন এবং আমরা বসে বসে আঙুল চুষি!

মনে হয় বিএনপি একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি যে কোম্পানির ১০০% শেয়ার শুধু ম্যাডামের। গণতন্ত্র এখানে লেবাস মাত্র। সরকার এই অবস্থার পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে। যেখানে ম্যাডামের কথাই বিএনপির নির্দেশ সেখানে সেই নির্দেশ কে দিচ্ছে তা প্রশ্ন করার ক্ষমতা বিএনপিতে কার আছে? যে কমিটি ম্যাডামের নামে ঘোষিত হবে সেই নাম যে ম্যাডামই দিয়েছেন সেই কথাটি দলের নেতাকর্মীরা জানবে কার কাছ থেকে? ম্যাডাম বন্দী, বন্দী দলের নেতাকর্মীরা। তৃণমূল বিএনপি এই বন্দী থেকে মুক্তি চায়। তাই আজকে সময় এসেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তির জন্য আওয়াজ তোলার। সরকারের রাহুগ্রাশ থেকে দলকে মুক্ত করার জন্য এবারের সম্মেলনে আওয়াজ তুলতে হবে সবার সামনে সম্মেলনের সমাবেশে দলের বিভিন্ন কমিটির নাম ম্যাডামের উপস্থিতিতে মহাসচিব ঘোষণা করবেন। সম্মেলন শুরুর আগেই কমিটির গঠন নিয়ে বসতে হবে এবং নেতাকর্মীদের নির্ধারণ করে সম্মেলনের সাধারণ সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে। এখনও সময় আছে। জেলার নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক এরকম দেখে প্রতি বিভাগ থেকে দুজন করে ৮ বিভাগ থেকে ১৬জন এবং চট্রগ্রাম মহানগর থেকে তিনজন ঢাকা মহানগর চারজন, মহাসচিব ও ম্যাডাম সহ মোট ২৫ জনের একটি সাবজেক্ট কমিটি করে দেয়া যারা দলের সকল কমিটির নামের তালিকা মহাসচিবের মাধ্যমে কাউন্সিলরদের সামনে অনুমোদনের জন্য পেশ করবে। দলে গণতন্ত্রের চর্চা অনুশীলন করতে হবে। তাহলেই ষড়যন্ত্রের অবসান হবে এবং সে লক্ষে ম্যাডামের ওপর কমিটি করে দেয়ার অগণতান্ত্রিক দায়িত্ব এবার থেকে দেয়া বন্ধ করতে হবে। সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র কায়েমের আন্দোলনে নামার আগে দলে গনতন্ত্র আনতে হবে। এবার দলের বিভিন্ন কমিটিতে আসার যোগ্য নেতৃত্ব অনেক, তাদেরকে বাদ দিয়ে কোনো কমিটি ম্যাডাম স্বয়ং করে দিলেও এবার কিন্তু নেতাকর্মীরা মানতে নাও পারে। আমার কথা বিশ্বাস না হলে এবার যদি কমিটি করার দায়িত্ব ম্যাডাম একা নেন তাহলেই দেখতে পাওয়া যাবে। বিএনপি এখন অনেক বড় দল। গত আন্দোলনে হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল-জুলুম নির্যাতন ভোগ করেছে, তাদের বাদ দিয়ে কোনো কমিটি করলে সেই কমিটি কেউ মেনে নেবে না। ঘরে বসে দল চালানোর দিন শেষ। দলকে চাঙা করতে হলে ম্যাডামকে ঘরের বাইরে আসতে হবে আর না হলে অন্য বিশ্বস্ত কাউকে দায়িত্ব দিয়ে দলের কাণ্ডারি মানাতে হবে।

পরিশেষে আবারো দলের সম্মেলনের সফলতা কামনা করছি। জানি আমরা অনেকেই সম্মেলনের দাওয়াত পাবো না। হয়তো স্বৈরাচারী এরশাদ এবং তার সহচর ও রাজাকারেরা বিএনপির সম্মেলনের দাওয়াত পাবে। জানি না অন্যেরা কী বলে, কিন্তু দাওয়াত না পেলেও আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন থাকবে কাউন্সিলারদের প্রতি এবং কামনা থাকবে সফল সুন্দর একটি সম্মেলনের; যা নিয়ে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী শক্তি গর্বিতবোধ করবে। সেই সঙ্গে ম্যাডামের সুস্বাস্থ্য কামনা করি। কিন্তু সঙ্গত কারণেই দীর্ঘজীবন কামনা করতে পারছি না, কারণ তা দল ও আগামী নেতার জন্য শুভকর হবে না। আমাকে ক্ষমা করবেন এই চরম সত্যটি বলে ফেলার জন্য। আশা করি আমার লেখাটি ম্যাডাম দেখবেন বা ম্যাডামকে দেখানো হবে।

সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

লেখক: সাবেক সংসদ সদস্য।