মেইন ম্যেনু

মৎসকন্যা হতে পারেন সহজেই

মৎসকন্যাদের নিয়ে কত কল্পকাহিনীই না শুনে আসছি আমরা সেই ছোটকাল থেকে। গ্রীক পুরাণসহ বিশ্বের অনেক দেশে হাজার বছরের প্রচলিত কল্প কাহিনীতে মৎসকন্যাদের অবস্থান। জানা যায় আসিরীয় সভ্যতার যুগে কল্পকাহিনীতে প্রথম মৎসকন্যাদের আবির্ভাব ঘটে। উপরের দিকটা অপরুপ নারী শরীর আর নিচের দিকটা মাছের আকৃতি। কিন্তু বাস্তবে আদৌ মৎসকন্যাদের দেখা পাওয়া সম্ভব কি না তা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। কেউ ভাবেন বিশ্বব্রহ্মান্ডে তো রহস্যের কোনো শেষ নেই। তাই মৎসকন্যা দর্শন অসম্ভব নাও হতে পারে। আবার কেউ নিছক কল্প কাহিনীতেই রয়েছেন সীমাবদ্ধ। তবে কেউ দেখুক আর নাই দেখুক আমেরিকা মহাদেশের আবিষ্কারক জগদ্বিখ্যাত নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস পনেরো শতকে কোনো এক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার সময় নাকি তিনজন মৎসকন্যার দেখা পেয়েছিলেন। তবে এই আধুনিক যুগেও কিন্তু আপনি চাইলে শুধু মৎসকন্যা দর্শন নয়; নিজেও মৎসকন্যা হতে পারেন। আপনাকে মৎসকন্যায় রূপান্তর করবে সিঙ্গাপুরের একটি বিদ্যালয়।

সিঙ্গাপুরে সম্প্রতি খোলা হয়েছে এমনই এক বিদ্যালয় যা অনেকেরই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দান করবে। সহজেই যে কেউ হয়ে যেতে পারেন মৎসকন্যা। আর জলের নিচে শুরু করে দিতে পারেন ডুবো নৃত্যকলা। তবে এক্ষেত্রে অবিকল মৎসকন্যাদের মত পোশাক পরতে হবে। শিখতে হবে বিশেষ নাচ। এরও রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট। রয়েছে আলাদা নান্দনিকতা।

মৎসকন্যা হয়ে ওঠার বিষয়টা কিন্তু অতটা সহজ নয় যতটা আমরা ভাবছি। কারণ এজন্য দরকার বিশেষ শিক্ষা আর প্রশিক্ষণ। এই শিক্ষা ব্যবস্থারও রয়েছে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার মতোই বিভিন্ন স্তর বা পর্যায়। রয়েছে শ্রেণিবিন্যাস। বই খাতা পত্তর সবই প্রয়োজন মৎসকন্যা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে।

চার পর্যায়ের সিলেবাসে পুরো কোর্সটি শিক্ষা দেওয়া হয়। একেবারে প্রথম পর্যায়ের শ্রেণীর নাম হল ব্রোঞ্জ। এরপর ধাপে ধাপে উপরের শ্রেণিতে পদোন্নতি। সিলভার, গোল্ড পারি দিয়ে প্লাটিনাম পর্যন্ত এসে শিক্ষা কোর্স সমাপ্ত হবে। আর আপনিও তখন পৌছে যাবেন আপনার মৎসকন্যা হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণের একেবারে শেষ প্রান্তে।

ক্লারা নিকোল নাও নামের এক নারী এই বিদ্যালয়ের স্বর্বেসর্বা। তার একার ধারণা থেকেই এই ব্যাতিক্রমী বিদ্যালয় স্থাপণের পরিকল্পনা করেছেন। সরকারি অনুমোদন এখনও পাওয়া যায়নি। তবে তিনি আশাবাদি খুব শিগগিরিই তা মিলবে।

উল্লেখ্য ক্লারা নিজেও একজন স্বনামধন্য মৎসকন্যাদের কোরিয়গ্রাফার।



« (পূর্বের সংবাদ)