মেইন ম্যেনু

ময়লার সঙ্গে সেলফি তুলে রাখুন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, আগামী দুই বছরে ঢাকা শহরের চেহারাই পাল্টে যাবে। ফুটপাতে অবৈধ দখল থাকবে না, যত্রতত্র কার পার্কিং থাকবে না, থাকবে না রাস্তায় যানজট। সরিয়ে ফেলা হবে বিলবোর্ড। রাস্তায় ময়লা আবর্জনার টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই রাস্তায় ময়লা আবর্জনা দেখলে এখনই একটা সেলফি তুলে ফেলুন।

নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে মতামত নিতে সোমবার ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে বৈঠকে আনিসুল হক এ কথা বলেন।

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও অনুষ্ঠিত মেয়রের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের বার্তা বিভাগের পরিচালক শাইখ সিরাজ, মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সম্পাদক সৈয়দ ফাহিম মুনায়েম, একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান বুলবুল, একাত্তর টিভির সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামিয়া জামান, এনটিভির হেড অব নিউজ খায়রুল আনোয়ার, বৈশাখী টেলিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু আলম, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার ফিরোজ, আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান, সময় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জুবায়ের, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুর রহমান এবং বাংলাভিশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশরাখ হোসেন প্রমুখ।

আনিসুল হক বলেন, ‘মেয়র হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার আট মাস পূর্ণ হয়েছে আমার। বাস্তবে নগরীতে হাজারো সমস্যা। দ্রুত এগুলো সমাধান করা খুবই কঠিন। তবে আমরা বসে নেই। পর্যায়ক্রমে কাজ করে যাচ্ছি। কিছু অসাধ্য কাজ এরমধ্যে করে ফেলেছি, আগামীতে আরো কিছু করব। গত ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার বিলবোর্ড তুলে ফেলেছি। যদিও যানজট নিরসন সিটি করপোরেশনের কাজ নয়। তবুও যতদূর সম্ভব এ সেক্টরে আমারা কাজ করছি। এছাড়া নতুন নতুন বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করছি। অর্থসঙ্কট বা বড় ধরনের কোনো সমস্যা না হলে কোনো কাজ থেমে থাকবে না।’

সিটি করপোরেশন প্রধানত দুটি কাজ করে থাকে উল্লেখ করে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘প্রথম কাজ হলো সড়কবাতি নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয় কাজটি বর্জ্য অপসারণ করা। এ দুটি কাজই খুব জোরেসোরে শুরু করেছি। আমারা পর্যায়ক্রমে সব সড়কের বাতি এলইডি করে দেব। একশটি উন্নতমানের পাবলিক টয়লেট তৈরি হবে। চারটি ভালো মানের মোবাইল টয়লেট করা হবে।’

‘এখন সড়কের পাশে ময়লা দেখলে ওখানে সেলফি তুলে রাখুন’ উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে সড়কে কোনো ময়লা দেখতে পাবেন না। বর্জ্য অপসারণে ৭২টি ট্রান্সফার পয়েন্ট তৈরি করছি। এরমধ্যে ১৪টি ডিএনসিসির নিজস্ব জায়গায়। বাকিগুলো বিভিন্ন সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায়। তাই এসব জমি পেতে একটু ঝামেলা হচ্ছে বলে এ ট্রান্সফার পয়েন্টগুলো তৈরি করতে আরো তিন-চার মাস সময় লাগবে। এছাড়া আগামী ৬ মাসের মধ্যে সড়কের পাশে আরো ৫ হাজার পাকা ডাস্টবিন লাগানো হবে। এরমধ্যে দুই হাজার ডাস্টবিন অতিসত্বর স্থাপন করা হবে। এক হাজার হাই রেজুলেশনের সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এ ক্যামেরায় একটি সুই পড়লেও ধরা পড়বে। এতে নাগরিক নিরাপত্তা বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘তবে যত কিছুই করি না কেন, এর সুফল পেতে সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা। এজন্য প্রতি টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ থেকে জনসচেতনা বৃদ্ধিতে দৈনিক ৩০ সেকেন্ড বা এক মিনিটি করে প্রচারণার সুযোগ চাইছি।’

মুক্ত আলোচনায় শাইখ সিরাজ বলেন, ‘আপনি যে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তা বাস্তবায়ন হোক আমরা সবাই চাই। তবে একদিন ১০ মিনিট বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে অচল হয়ে যায়। এ জলাবদ্ধতা কীভাবে দূর করবেন? আপনার পরিকল্পনায় সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এছাড়া যতদিন যাচ্ছে ঢাকাবাসী আরো স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে। রাস্তাগুলোতে যেন সাইকেল চালানো যায় এ জন্য পৃথক লেন করার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যদিকে নগরীর ফুটপাতগুলো অবৈধ দখল হয়ে যাচ্ছে। যারা করছেন তারা শতভাগ স্থানীয় প্রভাবশালী। দখল হওয়া এসব ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের টং দোকানে মাদকদ্রব্য ও ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। অনেক তরুণ লেখাপড়া বা কাজ ছেড়ে এসব দোকানে আড্ডা দেয়। এতে নারীসহ পথচারীদের ফুটপাতে চলাচলের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে আবাসিক এলাকাগুলো তার আবাসিক চরিত্র হারাচ্ছে। এখন আবাসিক এলাকায় স্কুল, কোচিং সেন্টারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানা তৈরি হয়েছে। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় প্রয়োজন। এছাড়া প্রতিটি বাড়ির ছাদে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।’

শাইখ সিরাজের উত্তরে মেয়র বলেন, ‘বাড়ির ছাদে বাগানের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য অভিজ্ঞরা আমাদের সহযোগিতা করছেন। আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে প্রধান সড়কগুলো হকারমুক্ত করা হবে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। প্রয়োজনে কোথাও হকার থাকলে তাও একধরনের সমন্বয়ের মধ্যে থাকতে হবে। আর জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে এখন কিছুই করা সম্ভব নয়। কারণ সিটি করপোরেশনের মাঝখানে স্যুয়ারেজ লাইনের মালিকানা ঢাকা ওয়াসার। এই স্যুয়ারেজ লাইন থেকে পানি যে খালে গিয়ে পড়ে সে খালগুলো দখল হয়ে গেছে। বর্তমানে ঢাকার ২৮টি খাল দখল হয়ে আছে। এগুলো উদ্ধার করতে না পারলে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়।’

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘জনসচেতনতার কথা বলছেন বেশ ভালো কথা। তবে জনসচেতনতা শুরু করতে হবে যারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তাদের থেকে। রাস্তায় যানজটে দীর্ঘক্ষণ হাজার হাজার মানুষ আটকে থাকবে আর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে যদি বিচারকরা, মন্ত্রীরা উল্টো পথে তাদের গাড়ি চালিয়ে যায় তাহলে তো সাধারণ মানুষ আইন মানবে না। এছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে লাইব্রেরি তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন বই, সব পত্রিকা এবং টেলিভিশন দিয়ে দিলে তরুণরা বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক কিছু শিখতে পারবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলররা উদ্যোগ নিলে সফল হবে বলে আশা করা যায়।’