মেইন ম্যেনু

যমজ সন্তানদের রহস্যময় গ্রাম

কোনদিনহি গ্রামে ঢোকার পর কিছুটা সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। ভারতের কেরালা রাজ্যের মালাপুরম জেলায় অবস্থিত একটি ছোটো গ্রাম এই কোনদিহিনি। গ্রামে প্রবেশের কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ সামনের মুখগুলো এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। আপনার অবচেতন মনই আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাইবে যে, আপনি ভুল দেখছেন। কিন্তু যদি এক্ষেত্রে মনের কথা শোনেন তাহলেই বরংচ ভুল ভাবছেন। কারণ প্রকৃতির আজব খেয়াল সবসময় মনের খেয়াল অনুযায়ী চলে না। কোনদিহিনি হলো ভারতের সেই রহস্যময় গ্রাম, যেখানে সবচেয়ে বেশি যমজ সন্তান জন্মায়।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের করা এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কোনদিহিনি গ্রামে তখনই প্রায় আড়াইশ জোড়া যমজ সন্তানের বসবাস ছিল। পরবর্তী সময়ে তা আরও বহুগুন বেড়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এবিষয়ে নতুন কোনো পরিসংখ্যান না দেয়ায় বর্তমানের সঠিক সংখ্যাটা আমরা জানতে পারছি না। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর দেয়া তথ্যানুসারে, কেরালার এই গ্রামে এখনও প্রায় প্রতিটি পরিবারেই আগের মতোই যমজ সন্তান জন্মে যাচ্ছে। কিন্তু কেন এই গ্রামেই এতো যমজ সন্তান জন্মানোর হার বেশি তার কোনো সঠিক কারণে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

এই গ্রামের পত্তন থেকেই অবশ্য এই অবস্থার সূচনা হয়নি। এই যমজ সন্তান জন্মদান বিষয়টি শুরু হয়েছে আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক চিকিৎসকই এই রহস্য উদঘাটনে বছরের পর বছর কোনদিহিনি গ্রামে কাটিয়েছিলেন। কিন্তু রহস্যের কোনো কিনারা সম্ভব হয়নি। এমনকি কয়েকজন গ্রামবাসী বিয়ে করার সময় গ্রামের কোনো নারীকে না বেছে ভিন্ন গ্রাম থেকে নারীকে বিয়ে করে নতুন বসতি গাড়ার চেষ্টাও করেছিলেন এই ভেবে যে হয়তো কোনদিহিনি গ্রামের উপর কোনো দেবতার কুনজর পরেছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। দেখা গেছে সেই ভিন গায়ের নারীটিও যমজ সন্তানই জন্ম দিয়েছে।

তবে মজার বিষয় হলো, এই যমজ সন্তান জন্মগ্রহন করা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই গ্রামবাসীর। উল্টো একে তারা ঈশ্বরের আর্শীবাদ হিসেবে নিচ্ছেন। কারণ তাদের মতে, অনেক সময় অনেক পরিবার অনেক চেষ্টা করেও একটা সন্তানও জন্ম দিতে পারে না। সেখানে ঈশ্বরের আর্শীবাদের ফলেই যমজ সন্তান হচ্ছে এই গ্রামে। প্রথমদিকে যমজ সন্তানদের চিহ্নিত করা নিয়ে ঝামেলায় পরতে হতো। যেমন ধরা যাক স্কুলের কথাই, প্রায়শই দেখা যেত শিক্ষকের শাস্তির ভয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ক্লাসে না এসে তার যমজকে পাঠাতো। এই সমস্যা নিরসনে গ্রামবাসী কিছু রীতি চালু করেছে। জন্মের পর চিহ্ন হিসেবে যমজ সন্তানদের শরীরে কিছু দৃশ্যমান চিহ্ন একে দেয়ার রীতি চালু করা হয়।