মেইন ম্যেনু

যশোর টাউন হল ময়দানে সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ, অভিযোগ বামমোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হকের

ঢাকা থেকে সুন্দরবনমুখী গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার রোডমার্চ শনিবার বেলা দুইটা ৫০ মিনিটে যশোর শহরের প্রবেশমুখ পালবাড়িতে এসে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক অভিযোগ করেন, মাগুরায় তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বাম নেতাকর্মীদের ওপর। এতে সাইফুল হক নিজেসহ মোর্চার অন্তত পাঁচজন কর্মী আহত হন।
তিনি বলেন, ‘শুধু মাগুরায়ই নয়, পথে পথে বাধা দেওয়া হচ্ছে শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে। রোডমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ঝিনাইদহে দুপুরের খাবার গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ সেখানে তাদের খাবার খেতে দেয়নি। যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে সমাবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ শহরে ঢুকতে দেয়নি। পুলিশ জোর করে বাইপাস সড়ক ধরিয়ে দিয়েছে।’বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির্র সম্পাদক সাইফুল হক আরও বলেন, ‘এদেশে আইনের শাসনের নামে একদলীয় স্বৈরশাসন চলছে। সুন্দরবন রক্ষা তথা দেশের কোটি কোটি মানুষকে বাঁচানোর জন্য বন-সংলগ্ন রামপালে পরিবেশবিধ্বংসী বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’এ সময় বামমোর্চার অন্যতম নেতা জুনায়েদ সাকি অভিযোগ করে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসুচিতে বাধা দিয়ে সরকার তাদের মুখোশ উন্মোচন করেছে।’তিনি অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ থেকে তারা মূলত পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। পুলিশ তাদের অজানা গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ‘পুলিশের উদ্দেশ্যে কী আমরা জানি না। রোডমার্চ আগমন উপলক্ষে শহরের প্রবেশপথ পালবাড়িতে পদস্থ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। রোডমার্চ শহরের বাইপাস সড়ক হয়ে চাঁচড়া অভিমুখে যাওয়ার পথে পুলিশ তাদের পিছু নেয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পালবাড়ি মোড়ে অবস্থানরত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক, সহকারী পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) ভাস্কর সাহা,যশোর কোতয়ালী থানার ওসি শিকদার আককাছ আলী প্রমুখ। জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, ‘আমরা রোডমার্চে বাধা দিচ্ছি না। রোডমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। শহরের মধ্যে ঢুকলে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হতে পারে আশঙ্কায় বাইপাস সড়ক ধরে রোডমার্চটি খুলনার দিকে যাবে।’রোডমার্চে নেতৃত্বদানকারীরা জানান, ঝিনাইদহে দুপুরের খাবার খেতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা যশোর-খুলনা মহাসড়কের ধারে ক্ষণিকা পিকনিক স্পটে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন।