মেইন ম্যেনু

যাঁকে ছাড়া লাদেনকে ধরাই যেত না, জানেন কি তিনি এখন কোথায়?

যাঁকে ছাড়া লাদেনকে ধরাই যেত না, তিনি এখন কোথায় জানেন, শুনলে চমকে যাবেন !

তিনি না-থাকলে কোনওভাবেই ওসামা বিন লাদেনকে ধরা যেত না, হত্যা করা তো দূর স্থান। দুঁদে মার্কিন গোয়েন্দারা তন্নতন্ন করে ফেলেছিলেন। কিন্তু লাদেনের সন্ধান জানতেন একজনই…

তাঁর নাম শাকিল আফ্রিদি। লাদেনের নাগাল পেতে পাকিস্তানে টিকাকরণের ভুয়ো ক্যাম্প খুলেছিলেন। সেই ক্যাম্পের আড়ালে থেকে এই চিকিৎসক চালিয়ে যেতেন ক্রমাগত নজরদারি। তিনি না-থাকলে ওসামা বিন লাদেনের হদিসই পেত না আমেরিকা। সিআইএ-কে তিনিই দেখিয়ে দেন, লাদেন কোথায় লুকিয়ে। কখন, কোন পথে, কীভাবে যেতে হবে আক্রমণে, তা-ও তিনি বলে দিয়েছিলেন।

জানেন, সেই শাকিল আফ্রিদি আজ কোথায়? পাকিস্তানের জেলে পচছেন। হ্যাঁ, আর অন্য কোনও শব্দ নয়, ‘‘পচছেন’’। গত পাঁচ বছর ধরে জেলবন্দি হয়ে রয়েছেন একসময়ের বন্দিত এই চিকিৎসক।

শাকিল এখন তাঁর মধ্যপঞ্চাশে। তাঁকে ২৩ বছরের কারাবাস দেওয়া হয়েছে। অথচ, আইনজীবীর সঙ্গে তাঁকে দেখা দেওয়া হচ্ছে না। একটা ছোট্ট, অন্ধকার ঘরে তাঁকে রেখে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়। বছরে মাত্র ৬ বার, তা-ও অত্যন্ত কম সময়ের জন্য।

লাদেন লুকিয়ে ছিল অ্যাবটাবাদে। কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি, যে শহরে পাকিস্তানের মিলিটারি অ্যাকাডেমি যে শহরে, যে শহরে সকাল-সন্ধে সেনার গাড়ির চাকায় ধুলো ওড়ে, সেখানেই আত্মগোপন করে থাকবে লাদেন। কিন্তু শাকিল টের পেয়ে যান। আমেরিকার সেন্ট্রাল ইনটালিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ-র সঙ্গে শাকিলের যোগাযোগ কীভাবে হয়েছিল, তা অবশ্য অজানা। কিন্তু হেপাটাইটিস সি-র টিকা দেওয়ার অছিলায় যে ক্যাম্প তিনি অ্যাবটাবাদে খুলেছিলেন, সেই ক্যাম্পই হয়ে উঠেছিল গোটা মার্কিন প্রশাসনের একমাত্র আকর্ষণ।

২০১১ সালে ঠিক আজকের দিনেই হত্যা করা হয়েছিল ওসামা বিন লাদেনকে। যে কম্পাউন্ডে লাদেন থাকত, নেভি সিল্‌স-এর দু’টি কপ্টার এই দিনে তার মাটিতে অবতরণ করে। পাক মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে চালানো এই অপারেশনে নিকেশ করা হয়েছিল বিশ্বের ত্রাসকে।

কিন্তু তার পরে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হুসেন ওবামার প্রশংসায় প্লাবন চতুর্দিকে। ধন্য ধন্য পড়ে গিয়েছে সিআইএ-র। আর শাকিল আফ্রিদি? জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে তাঁকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান। সেই যে অন্ধকার কুঠুরিতে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল, আজও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। সিআইএ এবং মার্কিন প্রশাসনও বেমালুম ভুলে গিয়েছে তাঁকে।

এই না হলে ‘ইনাম’?