মেইন ম্যেনু

যাকাতে সাবধান, ঘটা করে দিতে চাইলে পুলিশকে জানান

যাকাতে সাবধান, ঘটা করে জাকাত দিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশকে জানাতে হবে। পুলিশ সেখানে দায়িত্ব পালন করবে, যাতে প্রাণহানি বা কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

অতীতে বড় আয়োজন করে যাকাত নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একদিকে যাকাত নিতে গিয়ে জীবন গেল অন্যদিকে যাকাত দেয়া ব্যক্তিকে আইনি ঝামেলায় পড়তে হলো।

তাই ঘটা করে যাকাত দিতে চাইলে আগেভাগেই পুলিশকে জানাতে হবে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, জাকাত প্রদান নিশ্চয়ই ভালো উদ্যোগ। তবে মানুষের নিরাপত্তার কথা অবশ্যই ভাবতে হবে। অতীতে দেখা গেছে বড় আয়োজন করে যাকাতের কাপড় দেয়ার সময় পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এবছর যাকাত প্রদান অনুষ্ঠানে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য আয়োজকদের সহায়তা করতে চায় পুলিশ। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

গত বছর রমজানে ময়মনসিংহে যাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। তাই এবার বড় আয়োজন করে যাকাত দেয়ার বিষয়ে কড়া অবস্থানে পুলিশ।

এখন থেকে বড় আয়োজন করে যাকাত প্রদানের আগে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। সেখানে যাকাত প্রদান করা যাবে কি-না, এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট দেবেন। পুলিশ সুপার তার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জানাবেন।

প্রতিবছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এলাকায় ব্যাপক প্রচার করে যাকাত দেয়ার কথা জানান। এতে অসংখ্য মানুষের সমাগম

ঘটে। দরিদ্র মানুষ যাকাতের কাপড়ের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এতে পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
১৯৯০ সালের ২৬ এপ্রিল পাহাড়তলীর আবুল বিড়ি ফ্যাক্টরিতে যাকাত আনতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ৩৫ জন মারা যান। এসময় আহত হন দুই শতাধিক মানুষ।

১৯৮৯ সালের ৫ মে চাঁদপুরে যাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যান ১৪ জন। এসময় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন।

১৯৮৭ সালের ২৩ মে ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় সরকারিভাবে যাকাত প্রদানকালে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটে। একপর্যায়ে জনগণ উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পড়ে মারা যান ৪ জন।

১৯৮৩ সালের ৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যাকাতের টাকা নিতে গিয়ে ভিড়ের চাপে পড়ে ৩ শিশু মারা যায়।

১৯৮০ সালে ঢাকার জুরাইনে যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যায় ১৩ জন।

যাকাত প্রদানের বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া ও প্ল্যানিং বিভাগের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম শহিদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, যাকাত প্রদানের সময় যাতে কোনো রকম বিশৃঙ্খরা না ঘটে সে বিষয়ে বরাবরের মত এবারো সতর্ক রয়েছে পুলিশ।

তিনি বলেণ, যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি একসঙ্গে বেশি মানুষকে যাকাতের কাপড় বা উপহার সামগ্রী দিতে চায় আমরা তাদের সহায়তা করবো। তবে আগেভাগেই আয়োজকদের অবহিত করতে হবে।

পুলিশকে না জানিয়ে কেউ যদি বড় আয়োজন করে যাকাত প্রদান করে এবং সেখানে যদি কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে এর দায় তাকেই বহন করতে হবে বলে জানান তিনি।