মেইন ম্যেনু

যাদের হাতে হিলারি, ট্রাম্পদের ভাগ্য

যুক্তরাষ্ট্র গলা উঁচিয়ে দাবি করে থাকে তারা উত্তম গণতন্ত্রের চর্চা করে থাকে। কিন্ত কেন? প্রধান দুটি দল ছাড়া দেশটিতে তৃতীয় কোনো দলের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

দুই দলসর্বস্ব রাজনীতির দেশে গণতন্ত্র তবে কোথায়? হ্যাঁ, গণতন্ত্র অবশ্যই আছে, যা বোঝার জন্য একটু গভীরে চোখ রাখতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এলেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সামনে চলে আসে। গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর মার্কিন সংবিধান ও সরকার দাঁড়িয়ে আছে। তা জানতে বা বুঝতে একাডেমিক জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এলে সাধারণ জনগণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যুক্ত হয়, তারা মতামত দেওয়ার সুযোগ পায়।

কে তাদের প্রেসিডেন্ট হবেন, তা আগে দলীয়ভাবে তৃণমূল থেকে যাচাই করে নেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদমর্যায় অধিষ্ঠিত, সেহেতু এই পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা থাকা মানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা গণতান্ত্রিক।

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এ কথা আবারও স্পষ্ট করে বলছি। কিন্তু তারা তাদের রাষ্ট্রনেতা নির্বাচনে যে ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যায়, তা গণতন্ত্রের বড় পরিসর, সবার নজরে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি আলাদাভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থী বাছাই করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা আসলে কীভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে এই আলোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে চলতি বছরের ৮ নভেম্বর। প্রতি চার বছর পর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। ৮ নভেম্বর লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন দুই দলের মাত্র দুজন প্রার্থী। কিন্তু তার আগে দলীয় ভোটে একাধিক বা বহু মনোনয়নপ্রত্যাশী লড়াই করবেন। শেষ পর্যন্ত যে দুজন লড়াইয়ে টিকে যাবেন, তারাই দলীয় মনোনয়ন পাবেন।

মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের বাছাই প্রক্রিয়ায় লড়তে হয়। এবার বাছাই প্রক্রিয়া ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে, শেষ হবে জুলাই মাসে।

ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টি দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে দুই ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। প্রাইমারি এবং ককাস। প্রাইমারিতে দলীয় ভোটাররা সরাসরি ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করেন। আর ককাসে দলীয় ভোটার-সমর্থকরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রার্থী পছন্দ করেন। ককাসে সরাসরি ভোট হয় না।

প্রাইমারি ও ককাসে বিজয়ী প্রার্থীরা পৃথক পৃথক রাজ্যের নিয়মানুযায়ী প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারে ডেলিগেটস (প্রতিনিধি) পান। যদি তাদের পছন্দের প্রার্থী শেষ পর্যন্ত বাছাই প্রক্রিয়ায় টিকে থাকেন, তাহলে তাকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রতিনিধিরা ভোট দিতে পারেন না। এ ধরনের ডেলিগেটসদের বলা হয় প্লেজড ডেলিগেটস বা প্রতিশ্রুত প্রতিনিধি।

যদি বাছাই প্রক্রিয়া থেকে বাদ যান বা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন, তাহলে প্রতিশ্রুত প্রতিনিধিরা তাদের পছন্দের অন্য প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারেন অথবা তারা আগে যাকে সমর্থন করেছিলেন, তার পরামর্শমতো অন্য প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারেন।

প্লেজড ডেলিগেটস বণ্টনের নিয়ম
ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী বাছাই নির্বাচনে সাধারণত প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারে প্লেজড ডেলিগেটস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বণ্টন হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য, রাজধানী অঞ্চল ডিস্ট্রিক অব কলাম্বিয়া এবং অন্য প্রশাসনিক অঞ্চলে আলাদা আলাদাভাবে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে নির্বাচন হয়।

কোন রাজ্যে কতজন ডেলিগেট থাকবেন, তা দলীয় গঠনতন্ত্রের আলোকে নির্ধারিত হয়। প্লেজড ডেলিগেটের সংখ্যা নির্বাচনী বছর ভেদে কম-বেশি হতে পারে।