মেইন ম্যেনু

যিনি রাঁধেন, তিনি কি চুলও বাঁধেন না?

ছোটপর্দার দেবী পার্বতীকে যে-ই না বিকিনিতে লাস্যময়ী রূপে দেখল দুনিয়া, কথাটা বেমালুম ভুলে মেরে দিল!

ঘটনাটা ‘দেবোঁ কে দেব মহাদেব’ ধারাবাহিকের পার্বতী সোনারিকা ভাদোরিয়াকে নিয়ে! ধারাবাহিকটি তো জনপ্রিয় হয়েছিল বটেই! এবং তার মুখ্য চরিত্র শিব-পার্বতীর ভূমিকায় অভিনয় করে ঠিক ততটাই জনপ্রিয় হয়েছিলেন মোহিত রায়না এবং সোনারিকাও! এক সময়ে তিনি পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবি করলে ধারাবাহিক-কর্তৃপক্ষ তাঁর জায়গায় নিয়ে আসেন বাংলা ছায়াছবির নায়িকা পূজা বসুকে। কিন্তু, পূজা পার্বতী হিসেবে মোটেই নাম কিনতে পারেননি! টিআরপি পড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত দাবি মেনে নিয়ে আবার সোনারিকাকেই ফিরিয়ে আনতে হয়!

তবে, এই জনপ্রিয়তা যে এবার উল্টো চাপ দেবে, কে ভাবতে পেরেছিল! আসলে, ধারাবাহিক শেষ হয়ে গিয়েছে অনেকদিন হল! সেই জনপ্রিয়তাকে সম্বল করে সোনারিকাও ছোটপর্দা থেকে পা বাড়িয়েছেন বড়পর্দার দিকে। সই করেছেন একটি দক্ষিণী ছবি। তার শুটিংয়ের ফাঁকেই সমুদ্রসৈকতে দিন কয়েকের অবসরযাপনে মন দিয়েছিলেন তিনি। তার সঙ্গেই নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিলেন যৌবনোদ্ধত কয়েকটি ছবি। সেই সব ছবিতে দেখা গেছে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের অনুষঙ্গে তাঁর উতলা যৌবনের ছবি।

ব্যস! আর যায় কোথায়! সঙ্গে সঙ্গে দেশ জুড়ে শুরু হল গেল, গেল রব! বক্তব্য, দেবী পার্বতীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যিনি, তাঁর এ কী বেহায়াপনা! সনাতন ধর্ম বলে তো তাহলে আর কিছুই রইল না!

সমালোচনা এতটাই খারাপ দিকে যায় যে শেষ পর্যন্ত ছবিগুলো মুছে দিতে বাধ্য হন সোনারিকা। এবং লিখতেও বাধ্য হন একটা জবাবদিহি!
কী লিখেছেন সোনারিকা?

জানি না কোন পৃথিবীতে বাস করি! যেখানে এখন সারা পৃথিবী বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে গলা তুলেছ, সেখানে শুধুমাত্র বিকিনি পড়েছি বলে আমায় সমালোচনার শিকার হতে হল! আমি একটা বিকিনি-পরা ছবি পোস্ট করেছিলাম। এবং তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে সেটাকে মুছে দিতেও বাধ্য হলাম। কেন না, যে ভাবে আমায় গাল-মন্দ করা হচ্ছিল, তা আর নিতে পারছিলাম না, বক্তব্য সোনারিকার!

বোঝাই যাচ্ছে, ব্যাপারটা কতটা খারাপ লেগেছে তাঁর! লাগাটাই স্বাভাবিক! কিন্তু, সমালোচনার মুখে পড়ে কেন ছবি মুছে দিলেন তিনি? ওটা তাঁর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। সেখানে কী থাকবে, সেটা তো তিনি-ই ঠিক করবেন!

কেন ছবি মুছে দিলেন, তার জবাব অবশ্য দিয়েছেন তিনি। আমি ব্যাপারটা উপেক্ষা করতেই পারতাম, কিন্তু নেতিবাচকতা সামলানোর মতো প্রাপ্তমনস্ক আমি নই, অকপট জবানবন্দী তাঁর!

সত্যিই, ভারত পরিণত হয়েছে মূর্খের দেশে! এই ভারতের বুকে বসেই কালিদাস তাঁর কুমারসম্ভবম কাব্যে দেবী পার্বতীর রূপবর্ণনা করেছিলেন। লিখেছেন, পার্বতীর স্তনদুটি এতটাই বড় এবং গায়ে গায়ে চাপা যে একটি সুতোও গলার জায়গা পাবে না! লিখেছিলেন, পার্বতীর ঊরুদ্বয় লজ্জা দেবে কলাগাছ এবং হাতির শুঁড়ের আদলকেও! খোলাখুলি লিখেছিলেন হরগৌরীর যৌনমিলনের বর্ণনাও! ভারত সেই সব ভুল গেছে।

এখন তর্কের খাতিরে মেনে নেওয়াই যায়, ওটা সংস্কৃত বলে অধিকাংশ মানুষ পড়ে উঠতে পারেননি! অনুবাদ থাকা সত্ত্বেও!
কিন্তু, মন্দিরের গায়ের ভাস্কর্য? সেখানে দেবী পার্বতীর যে মূর্তি চোখে পড়ে, তা লজ্জা দেবে দুনিয়া-কাঁপানো পর্নস্টারদেরও!
তাহলে?

অজ্ঞানতাই কি এই দেশের একমাত্র ভবিষ্যৎ পরিণতি?