মেইন ম্যেনু

যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারছে না কয়েক হাজার ব্রিটিশ

চলতি বছর গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে হাজার হাজার ব্রিটিশ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারছে না। গত মাসে মার্কিন সরকারের নতুন এক আইনের কারণে হঠাৎই বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন কয়েক হাজার বিদেশগামী যাত্রী।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট ছাড়া আর কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না। এক্ষেত্রে যদি ওই যাত্রী অনলাইন অনুমতি ‘ইসটা’ সংগ্রহ করে তবুও তাকে যেতে দেয়া হবে না।

১ মে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে ব্রিটিশ নাগরিক ভিক রায়ান যাচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী, মেয়ে এবং মেয়ের বন্ধু। নিয়ম অনুযায়ী ইসটাও সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বিধি বাম, যখন তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছালেন জানতে পারেন বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

রায়ান বলেন, ‘১ এপ্রিল থেকে নতুন এই নিয়ম চালু হলেও, আমাদের কাছে কোন বার্তা আসেনি। আমাকে রেখেই অন্যরা বেড়াতে চলে গেল এবং আমি বাড়ি ফিরে আসলাম।’

রায়ানকে জানানো হয়, তিনি মঙ্গলবারে নতুন পাসপোর্ট পাবেন। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে এর আগে সম্ভব ছিল না।

রায়ান জানান, ইস্ট মিডল্যান্ডের এয়ারপোর্টে আমার মতো অনেকেই ছিল। তবে তাদের জন্য কোন সহায়তার ব্যবস্থা ছিল না।

ব্রিটিশ অনলাইন ইন্ডিপেনডেন্টের হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছর শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে ৮০ হাজার নন-বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারী যুক্তরাষ্ট্রে যাবার পরিকল্পনা করেছিল। ইলেকট্রনিক চিপ সম্বলিত ‘ই-পাসপোর্টে’ রয়েছে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সকল তথ্য। ২০০৭ সাল থেকে দেশটিতে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু হয়।

অবশেষে ই-পাসপোর্ট নিয়ে রায়ান ফ্লোরিডাতে তার পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে যায়। কিন্তু এজন্য তাকে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত পাঁচশ পাউন্ড।

এয়ারলাইন্স এবং ট্যুর অপারেটরা যদিও এই সমস্যার জন্য যাত্রীদের দুষলেন। তাদের মতে, ২০১৫ সাল জঙ্গিদের ভ্রমণ বন্ধে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়।

অপরদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, নতুন এই আইনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাদের কিছুই জানায়নি।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, আমাদের যেসব যাত্রী যুক্তরাষ্ট্রে যাবে, তাদের আমরা এক সপ্তাহ আগেই মেইল করে বিষয়টি জানিয়েছি।’