মেইন ম্যেনু

যুগে যুগে যুদ্ধ এবং মানবসভ্যতার বিকাশ

মানবসভ্যতার ইতিহাস ফুলের মত কোমল নয়। বরং অনেক হিংসা, যুদ্ধ আর নৃশংসতার। বিভিন্ন সভ্যতায় অঙ্কিত দেয়াল চিত্র, ট্যাপেস্ট্রি দেখলেই আমরা তার আন্দাজ করতে পারি। ক্ষমতা আর আধিপত্য বিস্তারের যে আদিম তাড়না মানুষের মধ্যে রয়েছে, সেখান থেকেই সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে মানব সভ্যতায়। আসুন এক ঝলকে জেনে নেই ইতিহাসের কিছু যোদ্ধা জাতির পরিচয়।

রাজপুত-
ভারতের রাজস্থানের এই যোদ্ধা জাতি হিন্দু ক্ষত্রিয় বর্ণের। দুর্ধর্ষ জাতি হিসেবে এই রাজপুতদের সুনাম বহুযুগের। ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীতে এই যোদ্ধা জাতির অনেকেই কাজ করছে। তাদের বাসস্থান এখন ভারতের রাজস্থান। তাদের রণকৌশল এবং অস্ত্রগুলোকে মনে করা হয় সময়ের তুলনায় অনেক আধুনিক। অনেকে বিশ্বাস করেন তাদের নারকীয় অস্ত্রাগার নকশা করা হয়েছিল হত্যা করার ভৌতিক ক্ষমতা দিয়ে!

গ্রীক ফ্যালান্স-
গ্রীসের ফ্যালান্স ছিল বর্ষা, পাইকস, সারিসাসসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত বিশাল ও চৌকস সামরিক সংগঠন। আলেকজান্ডারের বৃহৎ সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর এরা ব্যাপক পরিচিতি পায়। ফ্যালান্সরা গ্রীক সেনাবাহিনীকে একটি পূর্ণতায় নিয়ে আসে যার ফলশ্রুতিতে সবচেয়ে সফল এবং বুদ্ধিমান শাসকরা রাজত্ব করেছেন গ্রীসে নির্বিঘ্নে।

অমর পারসিয়ান সেনা-
পারস্য সাম্রাজ্যকে (৫৫০ খৃষ্টাব্দ থেকে ৩৩০ খ্রিষ্টাব্দ) প্রথমে বলা হত আখেমেনীয় সাম্রাজ্য। তাদের ছিল চমৎকার যুদ্ধবাহিনী, এদের বলা হত অমর। গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের গবেষণা মতে, এই আর্মি ছিল ১০,০০০ সদস্যের এবং এই সংখ্যা কখনো কমতো না, এমনকি কমতো না দলের শক্তিও। এরা সত্যিই অমর ভূমিকাই রেখে গেছে পারস্য ইতিহাসে। দেশকে যেভাবে তারা সুরক্ষা দিয়েছে একইভাবে নিশ্চিত করেছে সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি।

রোমান সেনা-
৬,০০০ সৈন্যের এক বিশাল সেনাবাহিনী ছিল রোমানদের। কিন্তু সব সৈন্যরাই ছিল সংগঠিত। এরা গ্রীক ফালান্সদের দ্বারা ভীষনভাবে প্রভাবিত ছিল। কিন্তু নিজস্ব যুদ্ধ কৌশল এবং বুদ্ধিমত্তা তাদের গ্রীকদের থেকে আলাদা করেছিল পৃথিবীর ইতিহাসে। এই সৈন্যরাই রোমান সাম্রাজ্যকে দিয়েছে সর্বোচ্চ দ্যুতি, করেছে ইতিহাসের প্রভাবশালী অংশ।

নরম্যান-
নরম্যানরা নিজেদের পরিচয় দিত নরম্যান্ডি হিসেবে। এটি উত্তর ফ্রান্সের একটি জাতি। এই যোদ্ধাদের আগমন হয় ভাইকিং বিজেতা এবং জাতীয় ক্যারোলিঞ্জিয়ান সংস্কৃতি থেকে যা পরবর্তীতে ফ্রান্স এবং রোমে ছড়িয়ে পড়ে। দুই শতাব্দির ব্যাবধানে নরম্যান্ডিদের জমিদারিত্ব ইউরোপিয়ান এফেয়ার্সের প্রধান প্রভাবক হয়ে দাঁড়ায়। আর সেটা শুধু ইংল্যান্ডের বিজয় সম্পন্ন করতেই নয়, বরং এর শক্তিকে ইতালি এবং সিসিলি পর্যন্ত বিস্তৃত করতেও কাজে লাগে।

নিনজা যোদ্ধারা-
সামন্ততান্ত্রিক জাপান সমাজে নিনজা ছিল বেতনভোগী গোপন গোয়েন্দা। নিনজাদের বহুবিধ কাজের মধ্যে ছিল গুপ্তচরবৃত্তি, নাশকতা করা, গুপ্তহত্যা এবং প্রয়োজনমত সরাসরি যুদ্ধ। তাদের রণকৌশল তাদেরকে সামুরাইদের থেকে পৃথক করেছে। তাদের ছিল সম্মান এবং লড়াইয়ের বিষয়ে কঠিন নিয়মকানুন। মিলিটারি ইতিহাসবেত্তাদের মতে, এই আধুনিক যুগে বিভিন্ন দেশের বিশেষ ফোর্সের নিয়মকানুনগুলো অনেকাংশে নিনজাদের দ্বারা প্রভাবিত।

বোই-
যদিও বোই জাতির উৎপত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় নি, তবু ধারণা করা হয় সম্ভবত এরা জার্মান আদিবাসীদের দক্ষিনে মধ্য ইউরোপের পরাজিত কোন জাতি। প্রাচীন লেখকরা তাদের লেখনীতে অনেকবার ‘বোই’ জাতির উল্লেখ করেছেন। এমনকি জুলিয়াস সিজারও হালভেত্তির পাশে এদের সাথে যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। বোইদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে সবল, জনাকীর্ণ এবং গরীব কিন্তু যুদ্ধপ্রিয় জাতি হিসেবে। ৪০০ শতাব্দীতে পো ভ্যালি আক্রমণের মাধ্যমে এরা প্রথম নজরে আসে।