মেইন ম্যেনু

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় পাচার হচ্ছে বাংলাদেশি নারী

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াতে বাংলাদেশের নারীদের পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিরিয়া থেকে ফেরত আসা এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই পাচারচক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতারের পর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে সিআইডির কর্মকর্তারা।

বুধবার সিআইডির সদর দফতরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অর্গানাইজ ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি গ্রুপ বাংলাদেশ থেকে নারী পাচার করছে। গত কয়েক বছরে অন্তত দেড়শ’ নারীকে তারা সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ এই চক্রটি কম শিক্ষিত নারীদের টার্গেট করে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখায়। এরপর তাদের বিদেশ পাঠানোর কথা বলে। বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে নারীদের সৌদি আরব, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়ায়সহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে।’

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ২ নভেম্বর এক নারী এই চক্রকে টাকা দিয়ে সিরিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসেন। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে। তিনি বাংলাদেশে এসেই সিরাজ শিকদারের নামে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর- ২। এরপর সিআইডি বিষয়টি তদন্ত করে।তদন্তে সিরাজের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।এরপর মঙ্গলবার রাতে সিরাজকে গুলশান থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে প্রাথমিকভাবে মানবপাচারের কথা স্বীকার করেছে।’

সিআইডি জানায়, চক্রটি নারীদের এক দেশে পাঠানোর কথা বলে আরেক দেশে পাঠায়। পাশাপাশি বিদেশে নারীদের জোরপূর্বক দেহব্যবসা করতে বাধ্য করা হয়। নারীদের জিম্মি করে তারা মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপকর্ম করে। আমরা যাকে গ্রেফতার করেছি সে এপর্যন্ত দেড়শ’ নারীকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে।’

ভিক্টিম ওই নারীর বরাত দিয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, নারীদের পাচার করার সময় সিরাজ শিকদার নিজেই তাদের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যায়। এরপর তাদের সেখানে বিক্রি করে দেশে ফিরে আসে। সিরিয়া থেকে ফিরে আসা ভিক্টিম নারী জানিয়েছেন, তাকে লিবিয়ায় পাঠানোর কথা বলে দুবাই নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুবাই যাওয়ার পর সিরাজ তাকে জানায়, সিরিয়াতে লেবাননের চেয়ে বেশি বেতন পাওয়া যাবে। এরপর তাকে দুবাই থেকে সিরিয়ায় পাঠানো হয়। সিরিয়ায় যাওয়ার পর ওই নারীরর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তিনি বেতন চাইলে বলা হয়, তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। টাকা দিলে সেখান থেকে বের হতে পারবেন। ওই নারী দেশে যোগাযোগ করে বিষয়টি তার পরিবারকে জানান। এরপর পরিবার টাকা দিয়ে তাকে সিরিয়া থেকে দেশে ফেরত নিয়ে আসেন।’

গ্রেফতারকৃত সিরাজ শিকদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মানবপাচারের অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে।