মেইন ম্যেনু

যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাক্ষীর বয়স ১ বছর!

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার মো. ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে আনীত তদন্ত প্রতিবেদনের ২৫ নম্বর সাক্ষীর বয়স মাত্র ১ বছর। নির্ধারিত দিন অনুসারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান কবিরকে জেরা করার সময় এই তথ্য উঠে আসে।

সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ সময় তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দু সোবহান তরফদার। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল।

আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার জেরাকালে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি মামলাটি তদন্তকালে ১ থেকে ৩২ জনের যে সাক্ষ্য ও জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছেন তার মধ্যে ২৫ নম্বর সাক্ষী আলী রেজা কাঞ্চনের বয়স যুদ্ধের সময় (১৯৭১) ১ বছর ছিল কি ?’

এমন প্রশ্নে আপত্তি জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি উক্ত আইনজীবীকে মামলার সাক্ষ্য ও জবানবন্দির বাইরে জেরা করা যাবে না বলে জানিয়ে দেন।

উত্তরে আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘উনি (তদন্ত কর্মকর্তা) তার তদন্ত রিপোর্টে লিখেছেন যে, তিনি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে ১ থেকে ৩২ জনের সাক্ষ্য ও জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছেন।’

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনের সাক্ষী আলী রেজা কাঞ্চনের বয়স একাত্তর সালে ১ বছর ছিল বলে উত্তর দেন। পরে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার এই জেরার অংশটি লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন।

এ ছাড়াও মামলার অন্য সাক্ষীদের মধ্যে কয়েকজন সাক্ষীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তারিখ জানতে চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা হয়।

জেরা চলাকালে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী মো. মতিউর রহমানের জন্ম ১৯৬৮ সালের ১৩ মার্চ, ৪ নম্বর সাক্ষী আবু তাহেরের জন্ম ১৯৬১ সালের ১০ মে, ৬ নম্বর সাক্ষী মো. গিয়াস উদ্দিনের জন্ম ১৯৬২ সালের ৩১ ডিসেম্বর, ৮ নম্বর সাক্ষী আব্দুল মান্নান সবুজের জন্ম ১৯৫৭ সালের ৪ মে, ৯ নম্বর সাক্ষী মঞ্জু মিঞার জন্ম ১৯৬৫ সালের ১০ জুন এবং ২০ নম্বর আব্দুল খালেক আকন্দের জন্ম ১৯৬২ সালের ১ জানুয়ারি মর্মে ট্রাইব্যুনালকে জানান।

পরে মামলার আংশিক জেরা অসমাপ্ত রেখে মামলাটি আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি রাখার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত ছয়টি অভিযোগের ওপর বিচারকাজ পরিচালনা করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মামলা পরিচালনার সময় আসামিরা নির্ধারিত আসামির ডকে উপস্থিত ছিলেন।