মেইন ম্যেনু

যেকারণে নারীদের জন্য নিষিদ্ধ এই পর্বত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি গ্রীসের অ্যাথোস পর্বত ভ্রমন করেছেন। এক হাজার বছর ধরে এই পর্বতে অর্থোডক্স সাধুরা পরিভ্রমন করে। পর্বতটি মোট ৩৩৫ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় নারী বিবর্জিত এলাকা হিসেবে ধারণা করা হয়। কিন্তু এই এলাকাতে কোন নারীর প্রবেশ নিষেধ নয় শুধু পাশাপাশি নারী কোন পশুপাখি, জন্তু জানোয়ারও এই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে এমন নিষেধাজ্ঞা হওয়ার কারণ কি হতে পারে।

অ্যাথোস পর্বতে যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে যে কাজ করতে হবে তা হলো অ্যাথোস তীর্থ সংস্থার কাছে আপনার পাসপোর্টের এক কপি জমা দিতে হবে। প্রতিদিন সেখান থেকে এক’শজন অর্থোডক্স সন্ন্যাসী এবং দশজন অর্থোডক্স নয় এমন পুরুষকে সেখানে তিন রাত থাকার অনুমতিও দেয়া হয়। ওই এলাকাজুড়ে মোট বিশটি উপাসানলয় আছে। মেয়েদের এখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ যদি কোন পুরুষ তার বান্ধবীকে নিয়ে এখানে আসে তাহলে তাকে বাইরে রেখে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। আবার সেই বান্ধবীর জন্যও বাইরে আছে সুব্যবস্থা।

এখানে প্রায় এক হাজার বছর ধরে নারীদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এমনকি এই পর্বতের ৫০০ মিটার এলাকা পর্যন্ত তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। অ্যাথোস পর্বতের একজন মুখপাত্র বলেন, প্রায় দশম শতাব্দীর দিকে এখানে নারী পশুপাখি প্রবেশ নিষেধ ছিলো। এরপর থেকেই নারীদের এখানে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। এরপর থেকেই এটা পুরুষদের উপসানলয় হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। ধারণা করা হয়, নারীদের কারণে পুরুষের ধ্যানে বিঘ্ন ঘটে বিধায় এই নিয়ম করা হয়েছে। সাধারণত তাদের কৌমার্য রক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে এর পেছনে আর একটি কারণ আছে বলে মনে করা হয়।

বলা হয়ে থাকে, কুমারী মেরি সাইপ্রাস থেকে এখানে এসেছিলেন। এরপর তার এই স্থানটি অনেক ভালো লেগে যায়। তিনি মনে মনে প্রার্থনা করতে লাগলেন তার যদি কোন ছেলে হয় তাহলে সে যেন এই সমস্ত এলাকাটি তার নামে করে দেয়। এবং পরবর্তীতে তার ছেলে হলে তিনি সেটা তার মায়ের নামে করে দেয়। সেজন্য এখানে আর কোন নারীকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। বলা হয়ে থাকে এখানে সে একাই রাজত্ব করতে চেয়েছিল। তাই তার কথামতো সন্ন্যাসীরা কোন নারীকে প্রবেশ করতে দেয় না। এছাড়া এই এলাকাটিকে দেবতা মা মেরির বাগানও বলা হয়ে থাকে। তবে এর কিছু ব্যাতিক্রম আছে এখানে নারী এবং পশুপাখি নিষিদ্ধ হলেও বিড়াল এখানে তার ইচ্ছেমতো প্রবেশ করতে পারে। উপসানলয়ের আশেপাশে অনেক বিড়াল দেখতে পাওয়া যায়।