মেইন ম্যেনু

যেকোনো পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাশে থাকবে চীন

কাশ্মীরের উরি সেনাক্যাম্পে জঙ্গি হামলা নিয়ে ভারতের পাশাপাশি গোটা বিশ্বই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সোচ্চার। ভারতের মতো সবারই ধারণা হামলা পাকিস্তানই চালিয়েছে। অর্থাৎ সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিরাই এ হামলা চালিয়েছে। ভারত কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ভারতের পাশে এসে দাড়িয়েছে। তাই বলে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে পাকিস্তান নিঃসঙ্গ। তার পাশে কেউ নেই। সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে যখন গোটা বিশ্ব সোচ্চার তখন তাদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চীন। এমনকি পাকিস্তানকে ওপর কেউ হামলা করলে তা প্রতিহত করারও আশ্বাস দিয়েছে চীন।

পাকিস্তানের মতো ভারতও চীনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। অরুণাচল সীমান্ত নিয়ে ভারতের সঙ্গে চীনেরও কূটনীতিক সম্পর্কের টানাপড়েন রয়েছে। এ নিয়ে যুদ্ধও হয়েছে দুই দেশের মধ্যেও। এশিয়ার অর্থনৈতিক দুই পরাশক্তি চীন ও ভারত এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে চলে স্নায়ুযুদ্ধ। তাই তো ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানেক সব সময় হাতে রাখে পাকিস্তান। দুই দেশের দ্বন্দ্বে অবশ্য লাভবান হয় পাকিস্তান। দুঃসময়ের অন্তত একজন সঙ্গী পায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অবশ্য পাকিস্তানের দ্বন্দ্বে চীনেরও লাভ। ভারতের বিরুদ্ধে তারা একজন সাথী পায়।

গত কয়েকদিন ধরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে চরম উত্তেজনা। উরির সেনাক্যাম্পে হামলার পর পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। যদিও চীন এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেনি। তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তারা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে। পালে কোন দিকের বাতাস লাগে। এরই মধ্যে আগ বাড়িয়ে পাকিস্তানে হামলা হলে চীন তাদের সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছে। এ বার্তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ভারত ও তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। সন্ত্রাসবাদ দমন ইস্যুকে একসময় মার্কিনিরাও পাকিস্তানের খুব কাছে মিত্র ছিল। সেই একই ইস্যুতে আবার অনেক দূরের মিত্রে পরিণত হয়েছে তারা। আর কাছে চলে এসেছে ভারত।

চীনের কনসাল জেনারেল ইউ বোরেনের বরাত দিয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তানের ওপর কোনো রকম (বহিরাগত) হামলা হলে আমরা সব রকম সমর্থন দেব।’ ব্যস এতেই সন্তুষ্ট ইসলামাবাদ।

এখানেই শেষ নয়, কাশ্মীর ইস্যুতেও পাকিস্তানের অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বোরেন। তিনি বলেছেন, ‘কাশ্মীর ইস্যুতে আমরা পাকিস্তানের পাশে আছি এবং আগামীতেও থাকব। নিরস্ত্র কাশ্মীরিদের দমন-পীড়নের এখনো কোনও বিচার হয়নি। কাশ্মীরের বাসিন্দাদের কথা অনুযায়িই এ সংকটের সমাধান হওয়া উচিত।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চীনা কূটনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই আলোচনায় এই বার্তা দেওয়া হয়েছে বেজিংয়ের পক্ষ থেকে।

চীনের এমন সমর্থন দেওয়া সম্পর্কে দিল্লির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, আসলে ভারতীয় সেনা হামলা করতে পারে বলে এমন আশঙ্কায় ভুগছে পাকিস্তান। তাই আগেভাগেই সীমান্তের গ্রামগুলো খালি করে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে দিতে চাইছে। চীন নিজে আনুষ্ঠঅনিকভাবে এ বিষয়ে কিছু বলেনি। তবে চীনের কূটনৈতিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে কথা বলে পাকিস্তান পাল্টা চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। সূত্র: দ্য হিন্দু।-এফএ



« (পূর্বের সংবাদ)