মেইন ম্যেনু

যেখানে কোটিপতি কৃষকের সংখ্যা ২৩৯জন!

কৃষক কোটিপতি! সে-ও আবার এক দুইজন না। ২৭৪৬ জন কৃষক! আর এরমধ্যে শুধু কলকাতাতেই আছেন ২৩৯ জন। ২০০৮-’০৯ থেকে ২০১৫-’১৬ অর্থ বছরের আয়কর দফতরে নথি পেশ করে এসব তথ্য জানিয়েছেন তারা।

তারা জানিয়েছেন, কৃষি থেকে তারা নাকি কোটি টাকারও বেশি আয় করেছেন। দেশের বড় শহরগুলির মধ্যে ‘কোটিপতি কৃষিজীবী’র সংখ্যায় তিন নম্বরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী।

আয়কর দফতর সূত্রের খবর, ওই ন’টি অর্থবর্ষে ২,৭৪৬ জন নাগরিক তাদের আয়ের নথি পেশ করে জানিয়েছেন যে, কৃষি থেকে নাকি তারা কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘কোটিপতি কৃষক’ রয়েছেন বেঙ্গালুরুতে (৩২১ জন)। তারপরেই রয়েছে দিল্লির নাম (২৭৫)। তালিকায় কলকাতার পরে যে শহরগুলি রয়েছে সেগুলি হল যথাক্রমে মুম্বই (২১২), পুণে (১৯২), চেন্নাই (১৮১), হায়দরাবাদ (১৬২), তিরুঅনন্তপুরম (১৫৭) এবং কোচির (১০৯) নাম।

তবে এই সমস্ত ‘কোটিপতি’র মধ্যে প্রকৃত ‘কৃষক’ কতজন, তা নিয়ে যথেষ্টই সংশয় রয়েছে। আয়কর দফতরের ধারণা, এদের মধ্যে অনেকেই কর ফাঁকি দিতে (যেহেতু কৃষি থেকে আয় করযোগ্য নয়) অন্য সূত্র থেকে আয়কে কৃষি-আয় বলে চালাতে চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আয়কর দফতর ইতিমধ্যে তদন্তও শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, অমিতাভ বচ্চনও নিজেকে ‘কৃষিজীবী’ বলে একাধিকবার দাবি করেছেন। ২০০৭ সালে কৃষক পরিচয়ে উত্তরপ্রদেশের বারাবঁকী জেলায় তিনি একটি জমি কিনলে মামলা হয়। আদালত পরে রায় দেয়, অমিতাভ ‘কৃষক’ নন।

প্রসঙ্গত, আয়করের হিসাবে কারচুপি করতে অনেকেই যে নিজেদের ‘কৃষক’ বলে দাবি করছেন, মঙ্গলবার রাজ্যসভায় জেডি(ইউ) নেতা শরদ যাদব, বিএসপি নেত্রী মায়াবতীরা সেই প্রসঙ্গ তোলেন।

শরদ জানান, প্রায় দু’হাজার লক্ষ কোটি টাকা বেআইনিভাবে কৃষি আয় বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চান তিনি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আয়কর দফতর।

বিরোধীদের উদ্দেশে জেটলি এরপর বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে, তাদের অনেকেই সমাজে পরিচিত। তদন্তে যে সব নাম প্রকাশিত হবে, সেগুলি দেখে আপনারা যেন বলবেন না যে এরা রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার।’