মেইন ম্যেনু

যেখানে প্রতি ১০ জনে ৪জন শিক্ষক ‘শিক্ষার্থীদের আক্রমণের শিকার’

যুক্তরাজ্যের প্রতি ১০ জন শিক্ষকের মধ্যে চারজনই শিক্ষার্থীদের আক্রমণের শিকার এবং ৯ জনই শ্রেণিকক্ষে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। সম্প্রতি এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইংল্যান্ডের শিক্ষকদের সংগঠন দ্য অ্যাসোসিয়েশন আব টিচারস অ্যান্ড লেকচারার্স (এটিএল) এই শিক্ষক আক্রমণের জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংসতার শিকার শিক্ষকদের প্রায় ৭৭ ভাগের দাবি, তারা শ্রেণিকক্ষে ধাক্কাধাক্কির মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন, কখনও শিক্ষার্থীদের লাথি মারতে উদ্যত হতে দেখা গেছে, এমনকি কেউ কেউ শিক্ষকদের দিকে কিছু একটা ছুঁড়ে মেরেছ।

অন্যদিকে সহিংসতার শিকার এমন দশজনের মধ্যে অন্তত ৯ জনের দাবি, তারা শ্রেণিকক্ষে অনেক জটিল পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের অনেককেই চিৎকার চেচাঁমেচি করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করেছে।

ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি প্রভাবশালী শিক্ষক প্যানেলের দাবি, গত দুই বছর তারা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বিরূপ আচরণের শিকার হয়েছেন। এতে তারা মানসিকভাবে প্রচণ্ডরকম আহত হয়েছেন।

শুধু শিক্ষকরা নন, স্কুলের স্টাফরাও এ ধরনের আক্রমণ শিকার হন। যেমন: বেডফোর্ডশায়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী জানান, তিনি একাধিকবার শিক্ষার্থীদের সহিংস আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তার ভাষ্য মতে, শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করতে গিয়ে প্রায়ই তার মাথায় কিছু একটা ছুঁড়ে মারা হয়েছে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, মুখে ডিউডোরেন্ট স্প্রে করার মতো পরিস্থিতিরও শিকার হয়েছে তিনি। এমনকি একজন সহকারীর পায়ে চেয়ার ছুঁড়ে মারার ঘটনাও দেখেছেন।

এছাড়া, বিশেষ দিনগুলোতে বিদ্যালয়ের স্টাফদেরকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করতে দেখা যায়। বলতে গেলে খুব কম দিনই গেছে যে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে।

ওই জরিপে দাবি করা হচ্ছে, প্রায় ৭৮ ভাগ শিক্ষক তথ্য দিয়েছেন, এক লাখের মতো শিক্ষার্থী বাড়িতে নিঃসঙ্গ থাকে, যাদের অবস্থা আরও বিপজ্জনক। এদের আচরণ আরও ভয়াবহ, বিরোক্তিকর এবং সহিংস। আর এই আচরণের জন্য নিঃসঙ্গতাজনিত মানসিক বিকারকেই দায়ী করা হচ্ছে।

গবেষক হান্নান রিচার্ডনের দাবি, গবেষণাটি এই বার্তা দেয় যে আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলো আসলে কোন পর্যায়ে রয়েছে। এটি ভাববার বিষয়।

এটিএল জেনারেল সেক্রেটারি মেরি বোস্টেড জানান, যাদের নিয়ে এই জরিপ তাদের অধিকাংশই খুব গম্ভীর। এরা সামান্য বিষয়েও সহিংস আচরণ করে। এদের অধিকাংশই মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত। এর জন্য বাবা-মায়ের উদাসীনতা বা অক্ষমতাই অনেকাংশে দায়ী।

জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষকদের এক তৃতীয়াংশ মনে করেন, শিক্ষার্থীরা গত দুই বছর আগে বর্তমানের চেয়েও বেশি সহিংস ছিল।

এদিকে এই সমস্যা প্রসঙ্গে শিক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, শিক্ষক এবং শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তা পাওয়া তাদের অধিকার। এ ধরনের পরিস্থিতি একেবারেরই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তার জন্য যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেব যাতে সহিংস আচরণের কোনো সুযোগ সৃষ্টি না হয়।

দেশটির শ্রমমন্ত্রী ডেকিন বলেন, দেশে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব রয়েছে। সরকারের টার্গেট সবসময় ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে যথার্থ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে।

তিনি বলেন, আমাদের উচিত সকলের সচেতনতার মাধ্যমে সহিংস আচরণ কমিয়ে আনার দিকে মনোযোগী হওয়া। শ্রেণিকক্ষে বিরূপ প্রভাব ফেলে এমন আচরণ থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত রাখা, শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতা এবং এমনকি শ্রেণিকক্ষে যাতে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে সেদিকে মনোযোগী হওয়া।

উল্লেখ্য, স্কটল্যান্ডের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই জরিপের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।