মেইন ম্যেনু

যেখানে ভালোবাসা সেখানেই সব

মোশাররফ করিমবাংলাদেশের অনেক কিছুর মতো নাটকের সম্ভাবনাও আটকে আছে। সেটা কী রকম, তা বলার আগে একটু কথা বলে নিই। বলা হয় আগে নাটক অনেক ভালো হতো? আগে বলতে আসলে কত আগে। আমি যদি বিটিভির সময়ের কথা বলি, তাহলে সেটি ছিল নাটকের স্বর্ণযুগ।

কিন্তু ওই সময়ের নাটক নির্মাণের যে পদ্ধতি, সে ব্যাপারে আমরা যতটুকু জেনেছি বা বুঝেছি তা হলো—নাটকের শুটিংয়ের আগে দুই-তিন দিন মহড়া হতো, শুটিং হতো তিন ক্যামেরায়। তো ওই সময়ের নাটক ও এই সময়ের নাটকের তুলনা করলে সহজেই বোঝা যায়, নাটক আর সেই আগের সিস্টেমের মধ্যে নেই, মহড়াও নেই, তিন ক্যামেরার শুটিংও নেই। আবার ওই সময় একসঙ্গে এক নাটকে অনেক তারকার সমাবেশ ঘটত।

আসাদুজ্জামান নূর, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ইনামুল হক, সুবর্ণা মুস্তাফা—সব বড় বড় আর্টিস্ট এক নাটকে। দর্শক একই নাটকে সবাইকে দেখতে পেতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন এসব কিছু বাণিজ্যিক হতে লাগল, তখনই দৃশ্যপট পাল্টে গেল। এখন নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে নাটক করতে হয়। মহড়া হয় না বললেই চলে। আর এক নাটকে পাঁচ-সাতজন তারকা? সে তো দেখা মেলা কঠিন!

সত্যি কথা হলো, এত কিছুর মধ্যে আমাদের নাটক ভালো হচ্ছে। প্রশ্ন থাকে কীভাবে সম্ভব? এর একটাই উত্তর, ‘হোয়ার দেয়ার ইজ লাভ দেয়ার ইজ এভরিথিং’, অর্থাৎ যেখানে ভালোবাসা আছে, সেখানে সব আছে। একটু পরিষ্কার করি, এই সময়ের পরিচালক, ক্যামেরাম্যান, অভিনয়শিল্পী, মেকআপ আর্টিস্ট, লাইটের ছেলেটা ও প্রডাকশনের লোকজন সবার একটা সামগ্রিক প্রেমের ফসল হলো আজকের নাটক।

এরা যদি নাটক ভালো না বাসত তাহলে টিভি নাটক অনেক আগেই রসাতলে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেটা যেহেতু এখনো হয়নি, তাহলে বুঝতে হবে সবার ভালোবাসায় নাটক ভালো হচ্ছে এবং ভালো নাটকের দর্শক আছে। দর্শক ঠিকই ভালো নাটক খুঁজে দেখে ফেলছেন। সেটা আমি এই আমার নিজের অবস্থান থেকে বুঝতে পারি। আজকে আমি যে মোশাররফ করিম, সেটা তো দর্শকদের ভালোবাসাতেই তৈরি, তা-ই না?-প্রথম আলো



« (পূর্বের সংবাদ)