মেইন ম্যেনু

যেভাবে কাটছে শরণার্থীদের রমজান

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস। বিশ্বব্যাপী ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছরই এই দিনটি বিশ্ব শরণার্থী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শরণার্থীদের দুঃখ কষ্ট লাঘবে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠন ও তাদের সুন্দর জীবনমান নিশ্চিত করাই এ দিবসটি মূল লক্ষ্য। আজই শরণার্থীদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের পদক্ষেপ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট দিন। অথচ এ দিনে সারা বিশ্বের প্রায় ৬ কোটি মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করছে। বিশেষ করে মুসলিম শরণার্থীরা পবিত্র রমজান অতিবাহিত করছে সীমাহীন দুঃখ দুর্দশায়।

চলছে পবিত্র রমজান মাস। মুসলমান যে অবস্থায়ই থাকুক তাকে রমজানের রোজা পালন করতে হয়। কেননা রোজা পালন আল্লাহর বিধান। আর এ মাসের ইফতার ও সেহরি মুসলমানদের জন্য গুরুত্ব সুন্নাত কাজ। এ সব শরণার্থীদের রমজানের রোজা পালন এবং ইফতার-সেহরির জন্য চলছে হাহাকার। এ সব শরণার্থী শিবিরে প্রয়োজনের তুলনায় খাদ্য সামগ্রী একেবারেই অপ্রতুল। যতসামান্য যাই পাওয়া যায়, তার দামও অনেক চড়া। যা কেনার সামর্থ্য নেই আবার অনেকেরই। তাই নিরবে নিভৃতে অনাহারে অর্ধাহারে অতিবাহিত হচ্ছে শরণার্থী শিবিরের মুসলিমদের রমজান।

এ সকল শরণার্থীদের ইফতার সেহরির প্রচণ্ড সংকট। উপায়ন্তর না পেয়ে তাদের মাঝে অনেকেই ঘাস সিদ্ধ করে খেতে মরিয়া। ডাস্টবিনের খাদ্য সংগ্রহেও চলছে প্রতিযোগিতা। রমজানে শরণার্থীদের এ এক করুণ বাস্তবতা। যেখানে শুধু পানির জন্যই দীর্ঘ লাইনের জট বেঁধে থাকে সর্বক্ষণ।

এ সব শরণার্থীদের মধ্যে রয়েছে সিরিয়া, ফিলিস্তিন, সোমালিয়াসহ যুদ্ধবিধ্বস্ত আরবের অন্যান্য দেশসমূহ। সবচেয়ে দুঃখ দুর্দশায় আছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার ২৫ লাখ শরণার্থী। যারা এক সময় নিজেদের বাড়িতে কাটিয়েছে রমজান। অসহায় গরীবদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে। আজ তারা নিজেরাই অসহায় অস্থায়ী তাবুতে ছিন্নমূল শরণার্থী। কারো কাছ থেকে ইফতার পাওয়ার অপেক্ষায় অতিবাহিত হয় তাদের সময়। তারা জানে না, কবে হবে তাদের এ শরণার্থী জীবনের অবসান।

বিশ্বব্যাপী শরণার্থীর সঠিক সংখ্যা নিরূপন করা সম্ভব নয়; তথাপিও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে মানবেতর অসহায় জীবন-যাপন করছে। শুধুমাত্র মুসলিম বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত আরবদেশ সিরিয়াতেই রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ শরণার্থী। আর বাঁচার তাগিদে ভূমধ্যসাগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েছে ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থী।

বিশ্ববিবেকের কাছে প্রশ্ন?
সারা বিশ্বের ‍যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে আর কতদিন সময় লাগবে? আর কতদিন পর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত ছিন্নমূল শরণার্থীরা ফিরে যাবে আপন নীড়ে? অসহায় শিশুরা কবে নাগাদ পাবে সুশিক্ষার পরিবেশ? বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত নারীদের নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তার অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে কবে?

পরিশেষে…
হে আল্লাহ! সারা বিশ্বের অগণিত অসংখ্য বনি আদমকে এ ছিন্নমূল শরাণার্থী অবস্থা থেকে হিফাজত করুন। যারা মনের অজান্তে অস্ফুটস্বরে আপনার দরবারে ফরিয়াদ জানায়, ‘হে প্রভু! তুমি আমাদের জালেম অধ্যুষিত এসব জনপদ কিংবা শাসন-শোষণের হাত থেকে মুক্তি দাও, রক্ষা করো অত্যাচারীদের হাত থেকে। আল্লাহ তাআলা সকল ছিন্নমূল অসহায় শরণার্থীদের হিফাজত করুন। শান্তির লক্ষ্যে বিশ্ব মোড়লদের হিদায়াত ও সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।