মেইন ম্যেনু

যেভাবে খুন করা হয় তাভেল্লা সিজারকে

কোন জঙ্গিসংগঠন নয় টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনীরাই ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজারকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। সোমবার বেলা পৌনে ১২ টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত রবিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান, বাড্ডা এলাকা থেকে তাভেল্লা সিজারের হত্যাকা-ে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন- রাসেল চৌধুরী ওরফে চাকতি রাসেল, মিনহাজুল আরিফিন রাসেল ওরফে ভাগ্নে রাসেল ওরফে কালা রাসেল, তানজিদ আহমেদ রুবেল ওরফে মোবাইল রুবেল ওরফে শ্যুটার রুবেল ও সাখাওয়াত হোসেন শরিফ।

এদের মধ্যে চাকতি রাসেলকে রাজধানীর গুলশান থেকে, ভাগ্নে রাসেলকে বাড্ডার সাতারকুল থেকে শ্যুটার রুবেল ও শরিফকে বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপি কমিশনার বলেন, হত্যাকা-ের আগে ভাগ্নে রাসেল শরীফের কাছে গিয়ে অপারেশন আছে বলে মোটরসাইকেল ভাড়া করে। সে অনুযায়ী ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে যায় এবং রাতেই ফেরত দেয়।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, শ্যুটার রুবেল ঘটনার দিন চাকতি রাসেলকে নিয়ে গুলশানের ৯০ নম্বর রোডে অপেক্ষা করতে থাকে। সেখানে মোটরসাইকেলযোগে ভাগ্নে রাসেল যায়। এসময় তাভেল্লা সিজারকে দেখতে পেয়ে মোটরসাইকেলযোগে ভাগ্নে রাসেল ও শ্যুটার রুবেল ৯০ নম্বর রোডে কিছুদূর ধরে গিয়ে থেকে ইউটার্ন নেয়। পরে তাভেল্লা সিজারের কাছাকাছি পৌঁছে শ্যুটার রুবেল তাকে গুলি করে। এরপর তারা মটরসাইকেলযোগে ৮৩ নম্বর রোড হয়ে পালিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানে তাভেল্লাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় মোটর সাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। নিহত ইতালীয় নাগরিক আইসিসিও কো-অপারেশন নামে একটি সংস্থার প্রুফ (প্রফিটেবল অপরচ্যুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি) কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ডিএমপি কমিশনার জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই রাসেল ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশায় আক্রান্ত এবং বিভিন্ন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া শ্যুটার রুবেল দুধর্ষ ও ঠান্ডা মাথার খুনী। শাখাওয়াত হোসেন ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহকারী। টাকার লোভে ও সরকারকে চাপে ফেলে বিব্রত করা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

তিনি জানান, কথিত এক বড়ভাইয়ের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে একজন সাদা চামড়ার বিদেশিকে হত্যার চুক্তি করে চাকতি রাসেল। যে টাকায় চুক্তি হয় তার অর্ধেক টাকা হত্যাকান্ডের আগে পরিশোধ করা হয়। বাকী টাকা তারা এখনো পায়নি।

তাভেল্লা সিজার হত্যাকান্ডে কত টাকার লেনদেন হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকার অঙ্ক এখনো পর্যন্ত সঠিকভাবে জানা যায়নি। একেক জন একেক রকম তথ্য দিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকা-ে দায়ীদের বাঁচাতেই জঙ্গি সংগঠন আইএসের ওপর দোষ চাপানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে ডিবি ও প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. দিদার আহম্মদ, ক্রাইম অ্যান্ড অপস বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান, ক্রাইম বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মীর রেজাউল আলম, গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।