মেইন ম্যেনু

যেভাবে পৃথিবীর আলো দেখল বুলেটকন্যা সুরাইয়া

জন্মের ১৯ দিন পর মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়াকে ‘সবার চেষ্টায় আল্লাহর রহমতে বাঁচানো গেছে’ বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা। সোমবার মাগুরার গুলিবিদ্ধ মা ও শিশুকে যাঁরা চিকিৎসা দিয়েছেন সেই চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চিকিৎসকেরা এ কথা জানান।

ওই অনুষ্ঠানে শিশুটির জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও শিশুটির আরও ১০ ধরনের সমস্যা ছিল। তাকে সিরিঞ্জে করে এক ফোঁটা এক ফোঁটা করে মায়ের বুকের দুধ দেওয়া হচ্ছিল। এখন সে মায়ের দুধ টেনে খাচ্ছে। আজ সকালে দেখেছি সে হাতের ব্যান্ডেজ চুষে খাচ্ছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম সোমবার মাগুরার চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। অনুষ্ঠানে শল্যচিকিৎসক শফিউর রহমান বলেন, ‘২৩ জুলাই বিকেল পাঁচটায় জরুরি বিভাগ থেকে জানানো হয় গুলিবিদ্ধ একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী হাসপাতালে এসেছেন। আমি গিয়ে দেখলাম তাঁর পেটের ভেতরেও রক্তক্ষরণ হচ্ছে। বাইরে তো হচ্ছেই। এর মধ্যেই আমাদের সঙ্গে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসক ও শিশু বিশেষজ্ঞ যোগ দেন।’

চিকিৎসকেরা বলেন, সুরাইয়া পৃথিবীতে আনার পর ওকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। শিশুটির পুরো শরীর ছিল নীল এবং সে কাঁদছিল না। শিশু চিকিৎসক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু সঙ্গে সঙ্গে ওকে কাঁদানোর চেষ্টা করেন, কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থাও করেন। শিশুটি কিছুক্ষণ পর সাড়া দিলেও, চিকিৎসকেরা দেখেন ওর ডান চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। এ অবস্থায় তাঁরা শিশুটিকে পাঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

২৬ তারিখ ভোর সাড়ে চারটায় শিশুটি যখন ঢাকায় পৌঁছায় তখন তার চিকিৎসা দেন সদরুল্লাহ আল মাসুদ। পরদিন সকাল থেকে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কানিজ হাসিনার কাছেই আছে। পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন বিভাগের আরও ১০ চিকিৎসক। চিকিৎসায় যারা যুক্ত ছিলেন তাদের অনেকেই আজ উপস্থিত ছিলেন। তবে চিকিৎসকেরা এখনো বলছেন, শিশুটি মারাত্মক প্রতিকূলতার মধ্যে জন্মেছে। তার আরও বেশ কিছুদিন চিকিৎসা চলবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, শিশুটির মায়ের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত খাবার সরবরাহ করছে। এমন কক্ষে রাখা হয়েছে যেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি কম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকেরা একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক চিকিৎসকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।