মেইন ম্যেনু

যেভাবে মুসলিম তরুণরা জঙ্গি সন্ত্রাসে আকৃষ্ট হচ্ছে!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্ত্রাসী দলগুলো তরুণদের আকৃষ্ট করে বেশি কারণ তাদের মধ্যে যৌথভাবে একাত্ম হওয়ার এক তীব্র মনোভাব কাজ করে। তাদের যে গল্প বলা হয় তা ভীষণ প্রভাব ফেলে। স্কুল, নিজ সম্প্রদায় ও অনলাইনে তারা এমন গল্প শুনতে পায়।

এ নিয়ে ঢের বিতর্ক রয়েছে যে কিভাবে সন্ত্রাসবাদ সংগঠিত হয় এবং কে সন্ত্রাসী। তবে সন্ত্রাস করতে জঙ্গিরা তরুণদেরই বেছে নেয়। সন্ত্রাসের জন্যে কাঠামোগত ও কৌশল এমনভাবে নেওয়া হয় যাতে তরুণদের ঠেলে দেওয়া হয় চরমপন্থার দিকে। তরুণদের সংগঠিত করে সন্ত্রাসই একমাত্র পথ এমন এক ভাবধারা তাদের মধ্যে গড়ে তোলা হয়। তরুদের টার্গেট করে তাদের অপকৌশলে সন্ত্রাসে সামর্থ ও সক্ষমতা দেখানো হয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ইন্টারনেট থেকে অস্ত্র ও বোমা বানানোর কলা কৌশল এবং সন্ত্রাসী কর্মকা-ের ফুটেজ দেখিয়ে তাদের প্রলুব্ধ করা হয়। ধংসাত্মক কাজে তাদের আবেদনময় আহবানে তরুণরা অনেক সময় কোনো পূর্বাপর বাছ বিচার না করে সহজে সাড়া দিয়ে ফেলে। কেন তরুণরাই এধরনের সন্ত্রাসী কাজে সাড়া দেয় বা তাদের বিষয়টি আকৃষ্ট করে?

দেখা গেছে আইএস জঙ্গিরা বিশ্বের আনাচে কানাচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। জঙ্গিদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রায় প্রতিটি ভাষায় উন্নত মানের সন্ত্রাসী ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করা। আইএস জঙ্গিরা ৪০ হাজার টুইটার এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সারাবিশ্বে তরুণদের তথাকথিত জিহাদে যোগ দিতে এবং কিভাবে যোগাযোগ করতে হবে সে পথ বাৎলে দিচ্ছে।

প্রচলিত ধ্যান ধারণার বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিক পথে তরুণরা সহজেই আকৃষ্ট হয়। এদিকটি খেয়াল রেখে জঙ্গিরা তরুণদের বিপথে নিতে তাদের মূলধারা থেকে বিচ্যুত করতে উস্কানি দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয়ের প্রতি তাদের বিতৃষ্ণা সৃষ্টি ও তার সমূলে উৎপাটনের জন্যে সন্ত্রাসকেই একমাত্র পন্থা হিসেবে তরুণদের তালিম দিয়ে থাকে সন্ত্রাসীরা। তরুণদের পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করতে জঙ্গিরা তাদের বুঝায় তারা যা ধারণা করে সেটাই সঠিক এবং তাদের ধংসাত্মক মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে প্রাণ গেলেও ‘মর্যাদা’ পাওয়া যাবে মৃত্যুর পর। এটাই তাদের নাগরিক অধিকার। অবিচার দূর করতে হলে প্রাণঘাতি কর্মকা-ের কোনো বিকল্প নেই এমন ভাবাধারায় তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।
জঙ্গিদের এমন বিধ্বংসী আবেদনে অনেক তরুণ ভুল বুঝে সাড়া দিয়ে ফেলে। জীবন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা, হতাশা, বৈষম্য সহ নানা সংকটে জর্জরিত তরুণ ধংসের পথকেই মুক্তির পথ মনে করে বসে। জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দিতে পারলে তাদের পরিচয়ের আরো উন্নতি হবে এমন অদ্ভুত ধারণাও তাদের দেওয়া হয়। পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর ধরনের জনগোষ্ঠী থেকে আসা তরুণ এ ধারণার সঙ্গে অনেক সময় এক ধরনের চূড়ান্ত গন্তব্য পেয়ে বসে বলে মনে করে। তরুণদের বুঝানো হয় তাদের গুরুত্ব বেড়ে যাবে। তোমাদের মানুষ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে ভাববে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এভাবে তারা তরুণদের মাঝে সামগ্রিকভাবে সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাব গড়ে তোলে। যাদের মধ্যে নেতিবাচক আবেগ কাজ করে তাদের উল্লেখযোগ্য হিসেবে বাছাই করা হয়। সমাজের সুবিধা ও অধিকার বঞ্চিত তরুণদের টার্গেট করা হয়। তাদের শোনানো হয় হারাবার কিছু নেই। ফলে তরুণরা স্বপ্ন দেখতে ভুলে যায়। জঙ্গি বিশেষজ্ঞ চার্লি উইন্টার বলেন, যাদের মনে এক ধরনের ক্ষোভ জমা হয়ে থাকে সমাজের প্রতি তাদের সহজেই টার্গেট করে জঙ্গিরা।

জীবনে কিছু করতে হলে অনেক বড় ধরনের বিনিয়োগ তথা ধৈর্য, পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে যেতে যারা সাহস রাখে না, তাড়াহুড়া করে নগদ প্রাপ্তি যারা চান এমন তরুণদের টার্গেটের ক্ষেত্রে জঙ্গিরা খেয়াল রাখেন সমাজ সম্পর্কে তাদের ধারণা কেমন? সমাজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ধারণা থাকলে এমন তরুণদের তারা বেছে নেন সহজে। ইসলামের জেহাদ সম্পর্কে অপব্যাখ্যা দিয়ে আল-কায়েদার মত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো অনেক নিরীহ তরুণদের বিপথে নিয়েছিল। তারই পরবর্তী ভারসন বা ক্লোন হচ্ছে আইএস জঙ্গি। মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অনেক ঘটনা এসব জঙ্গি সংগঠন মুসলিম তরুণদের সামনে উপস্থাপন করে। প্রযুক্তি ও প্রকৃত শিক্ষা বিমুখ এবং সুযোগ বঞ্চিত তরুণদের জঙ্গি সংগঠনগুলো খুঁজে বের করে। সমাজ পরিবর্তনের কথা বলে তাদের জিহাদের সবক দেওয়া হয়। আর এধরনের জিহাদের নামে নির্দোষ ও নিরীহ মানুষকে হত্যার পথে নিয়ে যাওয়া হয় যা কোনো ধর্মই বৈধতা দেয় না। কিন্তু প্রথমেই তারা তরুণদের সন্ত্রাসের কথা বলে না। বলে উল্লেখযোগ্য ও ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করতে হবে যা সে আগে কখনো করেনি। এভাবে উদ্বুদ্ধ করে তোলা হয় এবং মগজ ধোলাইয়ের কাজ চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত জঙ্গিদের ফাঁদে পা দিয়ে অনেক তরুণ বিপথে পরিচালিত হয় যেখান থেকে তাদের ফিরে আসা খুবই কষ্টকর ও অনেকটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।-ঢাকা ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদন অবলম্বনে