মেইন ম্যেনু

যেভাবে স্ত্রীরা না বুঝেই “নির্যাতন” করে থাকেন স্বামীদেরকে!

পারিবারিক নির্যাতন বলতে সকলে নারীকে নির্যাতনটাই বুঝে থাকেন। আমাদের সমাজে এখনো এই ধারণাটিই কারো মাঝে নেই যে পুরুষও নির্যাতিত হতে পারেন! নির্যাতন মানেই কেবল গায়ে হাত তোলা নয়, মানসিক নির্যাতনও একজন মানুষকে শেষ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এবং সত্যি কথা বলতে কি, অধিকাংশ স্ত্রী না বুঝেই নিজের স্বামীকে এই মানসিক নির্যাতনগুলো করে থাকেন। অনেক নারী আবার ইচ্ছা করে এই কাজগুলো করে থাকেন স্বামীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। অনেক পুরুষ তাঁর পুরো জীবনেও বুঝতে পারেন না যে স্ত্রীর দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন। যারা বিয়ে করেছেন বা বিয়ে করবেন ভাবছেন, নারী-পুরুষ উভয়েই পড়ে দেখুন এই ফিচারটি। দাম্পত্যের অনেক বড় একটি ভুল থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন।

সব বিষয় নিয়ে অযথা ঘ্যানঘ্যান বা ঝগড়া

এটা পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক স্ত্রী করে থাকেন, আর সেটা হলো তুচ্ছ বিষয়কে বিশাল বানিয়ে ফেলা। বাজার করা বা নিজের জিনিস গুছিয়ে রাখার মত সামান্য সব বিষয়কে কেন্দ্র করে স্ত্রীরা অযথা ঘ্যানঘ্যান করতে থাকেন, এবং সামান্য সেই বিষয়টিকেই বিশাল ঝগড়ায় পরিণত করেন। নারীরা এটা ভুলে যান যে বাজার করার মত বিষয় তাঁদের কাছে যতই বড় মনে হোক, পুরুষদের কাছে এটা নিতান্তই তুচ্ছ। আর সামান্য সব কারণে অনবরত কথা শুনতে শুনতে স্বামীরা প্রচণ্ড একটা মানসিক চাপ বোধ করেন।

“তোমাকে বিয়ে করে আমার জীবন নষ্ট”

এই কথাটিও নারীরা খুব বলেন। একটি বারও তারা ভেবে দেখেন না যে স্বামী এতে কী পরিমাণ মনে কষ্ট পেতে পারেন। নারীরা যে এই কথা কেবল স্বামীকে বলেন, তা নয়। শ্বশুরবাড়ি-বাবার বাড়িতেও বলে বেড়ান। ফোলে যা হবার তাই হয়। স্বামী বেচারা মনে মনে কষ্ট পান, নিজেকে অযোগ্য মনে করতে থাকেন। সব মিলিয়ে মানসিক ভাবে নির্যাতিত হতে থাকেন।

আকাশচুম্বী চাহিদা

এটা যে কত বড় এটি অত্যাচার, সেটা আমাদের দেশের অনেক স্বামীই হাড়ে হাড়ে জানেন। এই দেশে অসংখ্য নারী আছেন, যাদের চাহিদা কখনো শেষ হয় না। স্বামীর সাধ্য আর সীমাবদ্ধতা তারা বুঝতে চান না, ক্রমাগত এমন জিনিসের দাবী করে যান যেগুলো দেয়া স্বামীর পক্ষে সম্ভব না। আর এই অন্যায় দাবীর জাঁতাকলে পিষ্ট হতে থাকেন স্বামী পুরুষ।

সর্বক্ষণ উপদেশ

হ্যাঁ, সংসারের বিষয়ে স্ত্রী অনেক বেশী জানেন। আর স্বামী জানেন অনেক কম। তিনি হয়তো জানেন না কীভাবে ঘর সামলাতে হয় বা বাচ্চা পালতে হয়। এছাড়াও তিনি একজন মানুষ। মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারেন। তিনি একটা কিছু পারেন না বা একটা ভুল করলেন মানে তাঁকে সারাক্ষণ উপদেশ দিতে হবে, এটা একেবারেই অন্যায়। যদিও অসংখ্য স্ত্রী এই কাজটি করে থাকেন। তাঁদের উপদেশ আর চেঁচামেচির কারণেই স্বামীরা মিথ্যা বলতেও বাধ্য হয়ে পড়েন।

নিজেকে স্বামীর জীবনে বোঝা বানিয়ে ফেলা

পুরুষটি আপনাকে বিয়ে করেছেন বলে সারা জীবন তিনি আপনার ঘানি টানবেন, এটা কেমন কথা? দাম্পত্য একটা সমতার সম্পর্ক, দাম্পত্য মানে স্বামী ভারবাহী গাধা নন। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ স্ত্রী নিজের সমস্ত দায়িত্ব স্বামীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। কখনো বুঝতেও পারেন না যে স্বামীর জন্য এটা কত বড় একটি বোঝা।

স্ত্রীরা মনে রাখবেন, স্বামী আপনার চাকর নন, আপনার হুকুমের গোলামও নন। দাম্পত্য একটি গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক। চাল-ডালের হিসাব করতে গিয়ে সামান্য কারণে এই সম্পর্কটিকে বিষিয়ে তুলবেন না।