মেইন ম্যেনু

যেভাবে হামলা হয় শোলাকিয়ায়

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মানুষের ঢল নামে। এই জনস্রোতের মধ্যেই দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর বোমার বিস্ফোরণ ও গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। এতে দুই কনস্টেবল, এক নারী এবং এক হামলাকারী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলায় অংশ নেওয়া ওই ব্যক্তি নিজের বাড়ি দিনাজপুর বলে উল্লেখ করে বলেছেন, ২৭ রোজার দিন তারা কিশোরগঞ্জে আসেন। এ হামলায় আটজন সন্ত্রাসী অংশ নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোরগঞ্জ পুলিশের একটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম এসব কথা বলছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের একজন আনসার উল্লাহকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার এক সহকর্মী জানান, শোলাকিয়ায় ঈদগাহের কাছে আজিমুদ্দিন হাইস্কুল সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকার ধোপাবাড়ি মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তারা তল্লাশি করছিলেন, এমন সময় ৫-৬ জন যুবক আসে। তাদের তল্লাশি করা কথা বললে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে আনসার উল্লাহকে কোপায় তারা।

বোমা হামলার বিবরণ পাওয়া গেছে প্রত্যক্ষদর্শী এক স্থানীয় বাসিন্দার জবানিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ওই বাসিন্দা কিশোরগঞ্জ শহরের একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। প্রতিবারের মত এবারও ঈদের জামাতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি শোলাকিয়া মাঠের উদ্দেশে রওনা হন।

শোলাকিয়ার জামাত হওয়ার সময় ঠিক ছিল সকাল ১০টায়। আগেই পৌঁছে যাওয়ায় মাঠে না গিয়ে সকাল ৯টার দিকে রেললাইনের কাছে আজিমউদ্দিন হাইস্কুলের গেইটের পশ্চিম পাশে এক বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন ওই ব্যাংকার।

‘ওখান থেকে আনুমানিক ১০০ মিটার দূরে ইদগাহের দিকে যাওয়ার পথে চেকপোস্টে হঠাৎ পরপর দুটো বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল। আমি ধোঁয়া দেখলাম। কয়েকজন পুলিশ দেখলাম লুটিয়ে পড়ল।’

হামলা হয়েছে বুঝতে পেরে কয়েক সেকেন্ড পর আতঙ্কে উল্টো দিকে ছুটতে শুরু করেন প্রত্যক্ষদর্শী এই যুবক। ‘আমি যখন দৌড়াচ্ছি, তখন পেছনে আরও কয়েকটা বোমা ফাটার আওয়াজ হল।’

প্রত্যক্ষদর্শী ওই ব্যাংকার বলেন, সাধারণত স্কুলের গেইটের পথ দিয়েই তিনি প্রতিবছর শোলাকিয়া মাঠে যান ঈদের নামাজ পড়তে।

‘বোমাবাজি শুরুর পর আমার আর সাহস হয়নি। এলাকায় ফিরে গিয়ে পাড়ার মসজিদে নামাজ পড়েছি,’ বলেন তিনি।

হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঈদ জামাতে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের জনস্রোতের মধ্যেই হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রথমে তারা এটিকে নামাজের রেওয়াজ অনুযায়ী মাঠে শটগানের গুলি ফোটানো ভেবেছিলেন।

কিন্তু এরপর আরও শব্দ এবং পুলিশের বাঁশি, গাড়ির সাইরেন, আহতদের নিয়ে ছোটাছুটিতে সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে তারা জেনে যান সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। তারা ছোটাছুটি করতে থাকেন।

এদিকে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলাস্থলের কাছে নীল রঙের ঢোলা পাঞ্জাবি ও পায়জামা পরা একজন অল্পবয়সী ছেলের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশ বলছে, নিহত অজ্ঞাত এই যুবক সন্দেহভাজন হামলাকারী। গোলাগুলির মধ্যে পড়ে সে নিহত হয়। তার পোশাকের মধ্যে বিশেষ কায়দায় চাপাতি জাতীয় অস্ত্র রাখার চেম্বার ছিল।

পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ওই চিকিৎসাধীন ব্যক্তি শুধু এটুকুই জানিয়েছেন। পুলিশ আরও বলছে, ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য কড়া নিরাপত্তায় ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।