মেইন ম্যেনু

যেসব কারণে ওবামাকে মনে রাখতে হবে

দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন বারাক ওবামা। এই সময়ের মধ্যে তিনি এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা তাঁকে স্মরণীয় করে রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনই নয়টি বিষয়:

ইতিহাস সৃষ্টি
ইতিহাসবেত্তারা যদি ওবামার শুধু একটি বিষয় নিয়ে কিছু লিখতে যান, তাহলে তাঁদের অবধারিতভাবেই লিখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলোপের ১৪৩ বছর পর ইলিনয়ের এক অপেক্ষাকৃত তরুণ বিশ্বের মহাশক্তিধর দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে আসা সেই তরুণ মার্কিন সমাজ ও প্রশাসনে দৃষ্টান্তমূলক বহু ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন।

আর্থিক মন্দা মোকাবিলা
ওবামাকে তাঁর প্রথম মেয়াদের পুরোটা সময় আর্থিক মন্দার পাগলা ঘোড়া সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে হয়েছে। আবাসন ব্যবসায় ধস নামার পর সে আঘাত লাগে ওয়ালস্ট্রিটের ব্যাংক আর ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। ওবামার সাফল্য এই যে, এর মধ্যেও গত ৭৫ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে একটানা কর্মসংস্থান বেড়েছে।

লাদেন নাটকের সমাপ্তি
২০১১ সালের ২ মে ওবামা ঘোষণা দেন, মার্কিন কমান্ডোদের গোপন অভিযানে আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন নিহত হয়েছেন। ৯/১১ হামলার হোতা দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় অনেকের মনে যে ক্ষোভ ছিল, ওবামার ঘোষণায় তার অবসান ঘটে।

আইন প্রণয়ন নিয়ে সংগ্রাম

ওবামা তাঁর বিদায়ী স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে বলেছেন, সরকারি ও বিরোধী দলের তিক্ততা কমার বদলে বেড়েছে। এটি তাঁর দায়িত্বকালের অন্যতম আক্ষেপ। ওবামা নির্বাচিত হওয়ার মুহূর্তেই রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যরা তাঁকে আপাদমস্তক অসহযোগিতা করবেন বলে ঘোষণা করেন। গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধ এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের ক্ষেত্রে সেই বিরোধিতা ছিল মারাত্মক প্রবল।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি

পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দুই দশক ধরে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া ওবামার সাহসী পদক্ষেপের একটি। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে এক চুক্তির মাধ্যমে ইরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রাখা সাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পায়। এতে ইরানের দুই শত্রু দেশ ইসরায়েল ও সৌদি আরব ক্ষুব্ধ হয়।

সিরিয়া নীতিতে অনড়

সিরিয়ায় সেনা অভিযান না চালানোর সিদ্ধান্তে অনড় থেকে ওবামা প্রশংসা ও নিন্দা দুই-ই কুড়িয়েছেন। এক পক্ষ বলছে, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সরব উপস্থিতি না থাকার সুযোগে সেখানে আইএসের প্রভাব বেড়েছে এবং বাসার আল-আসাদের বেপরোয়া অভিযানে বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে। অপর অংশ মনে করছে, মার্কিন বাহিনী সিরিয়ায় গেলে সেখানে উত্তেজনা আরও বাড়ত।

জলবায়ু পরিবর্তন

ওবামা ক্ষমতায় এসেই পরিবেশ রক্ষা, সামুদ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে বেশ কিছু আইন পাস করেন। রিপাবলিকানরা এ বিষয়ে তাঁর নীতির বিরোধিতা করে এসেছেন।

ওবামাকেয়ার

ওবামার সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পদক্ষেপের একটি হলো ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। এর আওতায় কয়েক কোটি স্বল্প আয়ের নাগরিককে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা হবে। অবশ্য নতুন ট্রাম্প সরকার এটি বাতিল করে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন

দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে ওবামা কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেন। কিউবার বিপ্লবের পর থেকে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সে দেশ সফর করেন। তিনি ভেনেজুয়েলার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচক হুগো শাভেজের সঙ্গে করমর্দন করেছেন। দেখা করেছেন নিকারাগুয়ার ড্যানিয়েল ওর্তেগার সঙ্গে।