মেইন ম্যেনু

যেসব কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য আপনার পিছু ছাড়ছে না

কোষ্ঠকাঠিন্য ভীষণ নাকাল করে দেয় সবাইকেই। সাধারণত খাদ্যভ্যাসে কিছু পরিবর্তন নিয়ে এসেই এই সমস্যাটিকে দূর করা যায়। কিন্তু শত চেষ্টার পরেও কেউ কেউ সব সময়েই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগে থাকেন। এর কারণ কী? আসলে আমাদের নিজেদেরই কিছু ভুল অথবা অভ্যাসের কারণে বারবার কোষ্ঠকাঠিন্য ফিরে আসছে। দেখে নিন, আপনিও কী কষ্ট পাচ্ছেন এসব কারণে?

১) আপনি যথেষ্ট পানি পান করছেন না

আমরা সবাই জানি কোষ্ঠকাঠিন্য হয় যথেষ্ট ফাইবার না খাওয়ার কারণে। কিন্তু আমরা এটা খেয়াল করি না যে, ফাইবার খাবার পাশাপাশি যথেষ্ট পানি পান না করলেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। পানি কম পান করলে ফাইবার উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, বলেন ডাক্তার এলানা মাসার। শরীর যথেষ্ট পানি না পেলে আমাদের পেটের ভেতরে ফাইবার খাদ্যটুকু শক্ত হয়ে থাকে, ফলে আমাদের কষ্ট বাড়ে। তাই যথেষ্ট পানি পান করতে হবে।

২) আপনি কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর ভুল ওষুধ খাচ্ছেন

কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর কিছু ওষুধ আছে যা মাঝে মাঝে খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু নিয়মিত খেলে সমস্যা হবে। তখন এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিলে আবার আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য ফিরে আসতে পারে। ডক্টর নেহা শাহ বলেন, আমাদের শরীর তখন ওই সব ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায় এবং ওই ওষুধ ছাড়া পেট পরিষ্কার হতে চায় না।

৩) ভ্রমণের ফলে আপনার পেট কষে গেছে

কোথাও বেড়াতে গেলে আপনার খাদ্যভ্যাস এবং জীবনচর্চায় বেশ কিছুটা পরিবর্তন আসে। এগুলোর সাথে আমাদের পেট খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। প্লেনে ভ্রমণ করলে এই সমস্যাটি বেশি হয়। একটি গবেষণায় দেখা যায়, ৯ শতাংশ মানুষ বিদেশে বেড়াতে গিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগেছেন। এছাড়াও ভ্রমণের স্ট্রেস থেকেও এটা হতে পারে। ভ্রমণ করলে যথেষ্ট পানি পান করুন। ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন একটু হলেও।

৪) পিরিয়ড এবং মেনোপজ

পিরিয়ডের আগে দিয়ে মেয়েদের পেট কষে যেতে পারে। এই সময়ে শরীরে প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে। মেনোপজের পরেও এই সমস্যা হতে পারে। গবেষণায় দেখা যায় ৩৪.৭ শতাংশ নারী মেনোপজের পর কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগে থাকেন। আপনি যদি দেখেন যথেষ্ট পানি পান এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরেও সমস্যা যাচ্ছে না তবে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

৫) থাইরয়েডে সমস্যা

হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে অনেক সময়ে হজমের প্রক্রিয়াটি ঠিক থাকে না। মূলত ৬০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মাঝে এটি দেখা যায়। এর পাশাপাশি থাকে শুষ্ক ত্বক, ক্লান্তি, ঠাণ্ডা আবহাওয়া সহ্য করতে না পারা এবং ওজন বেড়ে যাবার মতো সমস্যাগুলো। এর জন্য অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। যদি এই সমস্যাটি আপনার থেকে থাকে তবে তা নিরাময়ের জন্য যথাযথ ওষুধ খেতে হবে। হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজমের কারণেও এই সমস্যাটি হতে পারে।

৬) ওষুধের কারণে সমস্যা হতে পারে

কিছু কিছু ওষুধের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, ব্লাড প্রেশারের কিছু ওষুধ, নারকোটিক বা ওপিওয়েড এগুলো দায়ী হতে পারে। এ নিয়ে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন এবং দেখুন এমন ওষুধ ব্যবহার করা যায় কিনা যা কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করবে না।

এ ছাড়াও আরো কিছু কারণ থাকতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্যের পেছনে:

– কোলন বা রেক্টামে কোনো প্রতিবন্ধকতা
– কোলন বা রেক্টামের আশেপাশে স্নায়বিক কোনো সমস্যা
– পেলভিক মাসলগুলোতে সমস্যা
– ডায়াবেটিস
– গর্ভাবস্থা

নিঃসন্দেহে বেশ বিব্রতকর একটি সমস্যা হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। কিন্তু অনেক দিন ধরে এই সমস্যাটি থাকলে এবং কোনো ঘরোয়া উপায়ে কাজ না হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে খুলে বলুন সব সমস্যা। তিনিই আপনাকে সবচাইতে ভালো সমাধানটি বাৎলে দেবেন।