মেইন ম্যেনু

যেসব কারনে আপনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন

বিপদ বলে কয়ে আসে না। হার্ট অ্যাটাক এমনই এক বিপদ যা একেবারে হুট করেই উপস্থিত হতে পারে। এটা ঠিক যে যাদের কিছু শারীরিক সমস্যা থাকে বা পারিবারিক ইতিহাস থাকে তাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু এমন কিছু কাজ আমরা সবসময়েই করে থাকি যার কারণে নিজেদের অজান্তেই হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছি আমরা। দেখুন তো, এসব লক্ষণ আপনার জীবনেও দেখা দিচ্ছে কিনা?

আপনি ছোটখাটো ব্যাপারেই রেগে যান

খুব রগচটা মানুষ আপনি? অল্পতেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন? এই মাথা গরম করার প্রবণতা আপনার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। ইউনিভার্সিটি অফ অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা ৩১৩ জন হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের রাগের পরিমাণ সম্পর্কে। দেখা যায়, বড় ধরণের রাগারাগি করার দুই ঘন্টার মাঝে এসব মানুষের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে অন্যদের তুলনায় ৮.৫ গুণ বেশি!

আপনি সারাদিন স্ক্রিনের সামনে বসে থাকেন

আপনার পেশা যদি এমন হয় যে কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে বসেই সারাদিন চলে যায়, তবে আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে। টিভি দেখার ক্ষেত্রেও এই কথাটি প্রযোজ্য। এই কাজগুলো হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ায় ১২৫ শতাংশ। অনেক সময় বসে থাকলে শরীরের লিপোপ্রোটিন লাইপেজের সাপ্লাই কমিয়ে দেয়। এই এনজাইম ফ্যাট ভাঙতে সাহায্য করে। এর অভাবে আমাদের আর্টারি ব্লক হয়ে যাবার ঝুঁকি বাড়ে।

আপনি ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান

ব্যস্ত জীবনে অনেক সময়েই দেখা যায় যথেষ্ট ঘুম হচ্ছে না। কিন্তু এভাবে ছয় ঘন্টার কম ঘুম নিয়মিত হতে থাকলে আপনার হার্ট অ্যাটাক করার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। একটি গবেষণায় দেখা যায় যেসব জাপানি পুরুষ ছয় ঘন্টার কম ঘুমান, তাদের হার্ট অ্যাটাক করার সম্ভাবনা থাকে অন্যদের চাইতে পাঁচ গুণ বেশি। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় জাপানি নারীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

আপনার এলাকায় ধোঁয়াশা বেশি

ফুসফুসের জন্য ধোঁয়া যেমন খারাপ, হার্টের জন্যও তেমনি খারাপ। দক্ষিণ বস্টনে বসবাসকারী মানুষের ওপরে গবেষণা করে দেখা যায়, বেশি ঘনত্বের বায়ু দূষণের মাঝে থাকার কারণে তাদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ে।

আপনার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে

১৬ হাজার নারী-পুরুষের ওপর করা ১৮ বছরব্যাপী একটি গবেষণা থেকে দেখা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের পর নারীদের হার্ট অ্যাটাকে সম্ভাবনা ২৫ শতাংশ বাড়ে বিবাহিত নারীদের তুলনায়। একাধিক বিবাহ বিচ্ছেদের ইতিহাস থাকলে তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত। পুরুষের ক্ষেত্রে দুই বা তার বেশি বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে তাদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ে ৩০ শতাংশ।

আবহাওয়া বেশি গরম বা ঠাণ্ডা

গবেষণা বলে, অতিরিক্ত গরম এবং অতিরিক্ত ঠাণ্ডা দুই আবহাওয়াই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। একদিকে দেখা যায়, ১৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে তাপমাত্রা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত। আরেকদিকে দেখা যায় ৬৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের পর প্রতি ১.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে দুই গুণ।

এছাড়াও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি যে ধূমপান, মদ্যপান, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যভ্যাস, শরীরচর্চায় অনীহা এবং অতিরিক্ত ওজনের কারণে বাড়ে তা আমরা জানি। এছাড়াও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে নারীর তুলনায় পুরুষের মাঝে বেশি। নারীদের আবার মেনোপজের পরে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি হয়। ডায়াবেটিস রোগীদেরও ঝুকিটা থাকে বেশি। এ কারণে নিজের জীবনযাত্রার বাপারে সচেতন থাকুন এবং নিজেকে রাখুন ঝুঁকিমুক্ত।