মেইন ম্যেনু

যে কমিটির ৫১ সদস্যই নারী

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ধর্মীয় অনুশাসনে বন্দি করে রাখা হয় নারীদের। এমনকি ধর্মীয় আচারাদি পালনেও তাদের কোনো নেতৃত্ব ছিল না। এক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তিলক স্মৃতি মন্দিরের দুর্গোৎসব কমিটি। ৫১ সদস্য বিশিষ্ট এ দুর্গোৎসব বাস্তবায়ন কমিটির সকল সদস্যই নারী।

জানা গেছে, উৎসব উদযাপনের জন্য তহবিল সংগ্রহ থেকে শুরু করে মন্দিরের সাজসজ্জা এমনকি শৃঙ্খলা রক্ষার সকল দায়-দায়িত্বই পালন করছেন নারীরা। সারা দেশের প্রেক্ষাপটে পাথরঘাটার এ দুর্গোৎসব কমিটিকে একমাত্র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলে মনে করছেন স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ।

বরগুনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শুখরঞ্জন শীল জাগো নিউজকে জানান, অনেক দেরিতে হলেও ধর্মীয় আচারাদি পালনে নারীদের নেতৃত্বের বিষয়টি বোধ হয় এই পাথর ঘাটা থেকেই শুরু হল। তিনি বলেন, বরগুনা জেলায় তো বটেই সারা বাংলাদেশেই এটা একটি উদাহরণ। তিনি আরো জানান, বরগুনার ছয়টি উপজেলার একশ` ৫০টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গা উৎসব। জেলার সকল মণ্ডপের মাঝে স্থানীয়দের কাছে অনন্য হয়ে ফুটে উঠেছে পাথরঘাটা উপজেলার শ্রী শ্রী তিলক স্মৃতি মন্দিরের দুর্গোৎসব আয়োজন।

পাথরঘাটার তিলক স্মৃতি দুর্গোৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিলু রাণী মিত্র জাগো নিউজকে জানান, নারীরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই। কেবল সুযোগের অভাবেই নারীরা এখনও পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, বরগুনা জেলার একশ` ৫০টি মণ্ডপের চেয়ে আমাদের মণ্ডপের আয়োজন এবং শান্তি শৃঙ্খলা কোনো দিক দিয়েই কমতি নেই।

তিলক স্মৃতি দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি অপু রানী হালদার জাগো নিউজকে জানান, এ উৎসবের জন্য তহবিল সংগ্রহ থেকে শুরু করে মন্দিরের সাজসজ্জা এমনকি শৃঙ্খলা রক্ষার সকল দায়-দায়িত্ব নারীরাই পালন করেছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জাগো নিউজকে জানান, তিনি পাথরঘাটার শ্রী শ্রী তিলক স্মৃতি মন্দিরের পূজা মণ্ডপ তিনি পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, জেলার আর সকল মণ্ডপের চেয়ে এখানের সাজসজ্জাসহ সকল আয়োজনই অনন্য। তিনি আরো বলেন, পাথরঘাটার স্থানীয় অদিবাসীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, এ মণ্ডপের নারী কমিটির কর্মকাণ্ডে তারা সকলেই সন্তুষ্ট।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, পাথরঘাটার তিলক স্মৃতি মণ্ডপের আয়োজন তার ভাল লেগেছে। সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে নারীদের নেতৃত্ব। তিনি বলেন, এখানকার সকল নারীই সক্রিয়ভাবে এ আয়োজন করেছেন। পুরুষরা তাদের সহযোগিতা করেছে। তিনি আরো জানান, বরগুনার অনেক পূজা মণ্ডপ তিনি নিজে ঘুরে দেখেছেন। সর্বত্রই শানিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন হচ্ছে বলে তিনি জানান।