মেইন ম্যেনু

যে কারণে এই নিরিবিলি বাড়িটি বেছে নিয়েছিল জঙ্গি তামিম

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ভবন থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্বে পাইক পাড়া। সরেজমিনে দেখা গেছে, এ জায়গাটি বেশ নিরিবিলি। আত্মগোপনে থাকার জন্য এমন নিরিবিলি জায়গা বেছে নিয়েছিলেন ঢাকার গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরী।

পাইকপাড়ায় শাহ সুজা রোডের বড় কবরস্থান ও ছোট কবরস্থান নামে খানিক দূরত্বে দুটি কবরস্থান আছে। মাঝে ৪১০/১ এ নিরিবিলি পরিবেশে ছিমছাম তিনতলা একটি বাড়ি। এই বাড়িটিকেই নিরাপদ আবাস হিসেবে বেছে নিয়েছিল ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষিত ওই জঙ্গি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. গনি মিয়া বলেন, ‘বাড়িওয়ালা ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি এ বাড়িতে থাকেন না। আমাদের পাইকপাড়া অত্যন্ত নিরিবিলি এলাকা। এখানে কোনো ঝামেলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নেই। কিন্তু আমাদের শান্ত নিরিবিলি এলাকাকে জঙ্গিরা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছে, ভাবতেই গা শিউরে ওঠে।’

প্রায় একই কথা বললেন ঘটনাস্থলের কিছু দূরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজাদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাসার চারপাশে পুলিশ ও র‍্যাব। বুঝতে পারলাম কিছু একটা হতে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বৃষ্টির মত গুলির শব্দ শুনতে পেলাম। কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। প্রায় একঘণ্টা পর গুলির আওয়াজ থেমে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তবে আজ মনে হলো মুক্তিযুদ্ধ বুঝি এমন ছিল।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার জন্ম এখানে। জন্মের পর থেকে এমন পরিস্থিতি দেখিনি। আমাদের পাইক পাড়া অত্যন্ত নিরিবিলি ও শান্ত।’

রিয়াজুল ইসলাম নামে এক মুসল্লি বলেন, ‘শুনেছি আমাদের পাইক পাড়ার এই মসজিদেই জঙ্গিরা নামাজ পড়ত। কী সাংঘাতিক ব্যাপার। হয়ত আমাদের পাশে বসেই নামাজ পড়েছে কিন্তু আমরা কখনো বুঝতে পারিনি।’

পাইক পাড়া এলাকার গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ভোরে নামাজের ওজু করতে উঠে দেখি কারা যেন বাসার চারপাশে অবস্থান নিয়েছে। ভয় পেলাম। পরে একজন এগিয়ে এসে জানাল যে তারা পুলিশের লোক।’

তিনি বলেন, ‘আমার বিয়ের পর থেকে প্রায় ৩০ বছর এখানে আছি। কিন্তু কখনো এমন ঘটনা দেখিনি।’

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে তামিম চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া অভিযান শেষ হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। এক ঘণ্টার ‘হিট স্ট্রং ২৭’ অভিযানে অংশ নেয় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, সোয়াত, র‌্যাব ও পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, জেএমবির এক সদস্যকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের এই আস্তানার খোঁজ মেলে।