মেইন ম্যেনু

যে কারণে কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা এখন দেশে

কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা মাঝেমধ্যে চুপিসারে দেশে বেড়িয়ে যান। এই আসা-যাওয়ার খবর সাধারণত গণমাধ্যম পর্যন্ত গড়ায় না, সীমাবদ্ধ থাকে পরিবারের মধ্যেই। সম্প্রতি তিনি বোনের ছেলের বিয়ে উপলক্ষে দেশে এসেছেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে তিনি কুশলবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন মুহূর্তে হাস্যোজ্জ্বল শাবানাকে ক্যামেরাবন্দি করেছেন ফটোগ্রাফার অপূর্ব আবদুল লতিফ।

বাংলা চলচ্চিত্রের আলোচিত এবং বহুল জনপ্রিয় নায়িকা শাবানা। এখনো তিনি আছেন ভক্তদের মনে। অভিনয় ছেড়েছেন ১৯৯৭ সালে। সেই থেকে মিডিয়ার সামনে থেকেও একেবারেই সরে গেছেন। এর পর থেকে তাঁকে আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি। শুধু চলচ্চিত্রই নয়, সঙ্গে দেশও ছেড়েছেন এ অভিনেত্রী। যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ২০০০ সালে। সেখানেই থাকেন এখন, নিউজার্সিতে আবাস তাঁর।

১৯৬৭ সালে প্রখ্যাত পরিচালক এহতেশামের পরিচালনায় ‘চকোরী’ চলচ্চিত্রে চিত্রনায়ক নাদিমের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আবির্ভাব ঘটে আফরোজা সুলতানার, যাকে আমরা সবাই ‘শাবানা’ নামেই চিনি। ওই সময় ‘চকোরী’ চলচ্চিত্রটি দারুণভাবে ব্যবসা সফল হয়। যদিও তখন উর্দু চলচ্চিত্রের সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা হতো এবং শাবানা প্রথমদিকে উর্দু চলচ্চিত্রেই বেশি অভিনয় করতেন। ‘অবুঝ মন’ এবং ‘মধুমিলন’ ছবির মাধ্যমে তিনি রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি গড়ে তোলেন।

পরবর্তী সময়ে শাবানা তাঁর বাবাকে নিয়ে নতুন চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। যেখান থেকে নির্মাণ করা হয় ‘মুক্তি’ চলচ্চিত্রটি, যা ১৯৬৯ সালে মুক্তি পায়। প্রাথমিক অবস্থায় নাদিমের সঙ্গে শাবানাকে জড়িয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও সেখানে আটকে যাননি মোটেও।

‘শাবানা’ নামটি পরিচালক এহতেশামের দেওয়া। তাঁর পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে। চলচ্চিত্রজগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর ১৯৭৩ সালে ওয়াহিদ সাদিককে বিয়ে করেন শাবানা। ওয়াহিদ সাদিক ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে তিনি শাবানার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসএস প্রোডাকশনের দেখাশোনা করতেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের মা। বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন করে নেওয়া অভিনেত্রী শাবানা দীর্ঘ ৩৪ বছর অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।