মেইন ম্যেনু

যে কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত ১৫৪ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে না

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ১৫৪ জঙ্গির আপিল আবেদন উচ্চ আদালতে ঝুলে আছে। মামলাজটের দীর্ঘসূত্রতায় বছরের পর বছর দন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের বিষয়টির কোনো সুরাহা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো নিস্পত্তি করতে কোনো বিশেষ আদালত গঠনের প্রয়োজন নেই। বিষয়টি উচ্চ আদালতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করলে দ্রুত নিস্পত্তি সম্ভব হবে।

জানা গেছে, গত ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের মূলনেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই ও শায়খ আবদুর রহমানসহ শীর্ষ ৬ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। কিন্তু এরপর আর কোনো জঙ্গির ফাঁসির রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। অথচ দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১৫৪ ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি রয়েছে।

জানা গেছে, যশোরের উদীচি অনুষ্ঠানে রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণ, পল্টনে সিপিবি জনসভা, খুলনা ও মিরপুরে কাদিয়ানি মসজিদে, দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা, ঝালকাঠিতে বিচারকের ওপর বোমা হামলাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বোমা হামলার ঘটনায় গত ১০ বছরে ১৫৪ জঙ্গিকে ফাঁসির দন্ড দেয় নিন্ম আদালত। এছাড়াও ৫ শতাধিক জঙ্গিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

জঙ্গিরা ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করে। বছরের পর বছর পার হচ্ছে কিন্তু উচ্চ আদালতে নিস্পত্তি না হওয়ার এদের ফাঁসির রায়ও কার্যকর করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবি এ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ মিয়া বাদশা বলেন, উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা মামলাগুলোকে ২ ভাগে বিভক্ত করা যায়। একটি হচ্ছে হাইকোর্ট ডিভিশন, অপরটি এ্যাপিলেট ডিভিশন। এপিলেট ডিভিশনের মামলাগুলো প্রধান বিচারপতি ইচ্ছে করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিস্পত্তি করতে পারেন। আর হাইকোর্ট ভিশনের মামলাগুলো এটর্নী জেনারেল বা তার সহকারীরা উদ্যোগ নিলে দ্রুত নিস্পত্তি করা সম্ভব।

সূত্র জানায়, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশে ২০০২ সাল থেকে জঙ্গিবাদ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়। রাজশাহীর বাগমারা রানীনগর আত্রাই ও আশপাশ এলাকায় একাধিক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। মুক্তমনা মানুষদের নাস্তিক ও মুরতাদ আখ্যা দিয়ে তারা হত্যাযজ্ঞ চালায়। ওই সময় তৎকালীন ডিআইজি সেখানে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালালে জনৈক মন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে জঙ্গিদের গ্রেফতার না করার অনুরোধ জানান। এরপরই ওই ডিআইজিকে খুলনা রেঞ্জে পানিশমেন্ট পোস্টিং দেয়া হয়। এরপর ২০০৪ সালের গোড়ার দিকে ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা করে এবং ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় হামলা চালিয়ে প্রায় ২৪ জনকে হত্যা করে তাদের বাংলাদেশে তাদের শক্ত অবস্থানের কথা জানান দেয়। এরপর অবশ্য বিএনপি সরকারই বাংলাভাই ও শায়খ আবদুর রহমানসহ জেএমবির সব শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে এবং হরকাতুল জেহাদ ও জেএমবিসহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির প্রশ্নে আইনজ্ঞ এ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক বলেন, দ্রুত নিস্পতি করতে আন্তরিক সদিচ্ছার দরকার। সেটা কে করবে। তিনি বলেন, এটা পারেন প্রধান বিচারপতি আর পারেন এটর্নী জেনারেল। তিনি মনে করেন এ ব্যাপারে নতুন করে বিশেষ কোনো ট্রাইব্যুনাল গঠন করার দরকার নেই। গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলাগুলোর শুনানি করলে দ্রুত নিস্পত্তি করা সম্ভব।