মেইন ম্যেনু

যে কারণে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বিপদজনক

বেশিরভাগ মানুষই দিনের অনেকটা সময় বসে কাটায়– বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে ও ভ্রমণের সময়। যেকোন ধরণের বসে থাকা যেমন- টিভি দেখার সময়, কর্মক্ষেত্রে কাজ করার জন্য অনেকক্ষণ বসে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বসে থাকা ধূমপানের মতই ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে স্বাস্থ্যগত যে সমস্যাগুলো হয় তা সম্পর্কেই জানবো এই ফিচারে।

১। পেটের মেদ বৃদ্ধি পাওয়া

বেশিক্ষণ বসে থাকলে মেদ বৃদ্ধি পায় বিশেষ করে কোমরের মেদ। নড়াচড়া না করলে শরীরে চর্বি পুড়েনা। নড়াচড়া এবং ব্যায়াম করার ফলে পেশী লাইপোপ্রোটিন লাইপেজ নামক অণু নিঃসৃত করে। এই অণুগুলো চর্বি ও চিনিকে প্রসেস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে চিনি ও চর্বি ঠিকভাবে প্রসেস হয়না। ফলে উদর অঞ্চলে ফ্যাট জমা হয়। বস্তুত, কোমরের মেদ বৃদ্ধি সামগ্রিক ওজন বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি বিপদজনক। পেটের ভুঁড়ি বৃদ্ধি পেলে বিভিন্ন ধরণের ক্রনিক রোগ যেমন- হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

২। হৃদরোগ

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা আভ্যন্তরীণ অঙ্গের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে বিশেষ করে হৃদপিণ্ডের উপর। ঘন্টাব্যাপী একই স্থানে বসে থাকা হৃদপিণ্ডসহ শরীরের রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়। দুর্বল রক্তপ্রবাহ সহজেই হৃদপিণ্ডে প্লাক সৃষ্টি করে। যার ফলশ্রুতিতে উচ্চরক্তচাপ, কোলেস্টেরলের সমস্যা ও কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ হয়। বস্তুত, যারা বেশীক্ষণ বসে থাকে তাদের মধ্যে ৮২% এর হার্ট ডিজিজ ও স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৩। পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথা

বসার ভঙ্গি ঠিক না থাকলে ও বেশীক্ষণ একইভাবে বসে থাকলে তা ঘাড় ও পিঠের জন্য খুবই খারাপ। এর ফলে মেরুদন্ডে অনেক বেশি চাপ পরে ও ক্ষয় সৃষ্টি হয়। এ কারণেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ করে নড়াচড়া করলে পেশীতে টান পরে। ফলে ঘাড় ও পিঠের পেশীতে ব্যথা হয়।

৪। ব্লাড সুগার লেভেল বৃদ্ধি পায়

যে সমস্ত ব্যক্তি বসে সময় কাটান ও নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন করেন তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে অগ্নাশয় অনেক বেশি ইনসুলিন উৎপাদন করে এর ফলে ডায়াবেটিস হয়।

৫। ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়

ব্যক্তির নিশ্চল আচরণ কলোরেক্টাল, ফুসফুস, জরায়ু, পেট, ডিম্বাশয়, বৃহদান্ত্র ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারের প্রধান কারণ স্থূলতা। খাওয়ার পর পর বসে থাকলে রক্তে চিনির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যার কারণে কোলন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেরে যায়। ২০১১ সালে আমেরিকান জার্নাল অফ এপিডেমিওলজি তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরামর্শ দেয়া হয় যে, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে ডিস্টাল কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বেরে যায়। যদি আপনার দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে হয় তাহলে একটু পর পর বিরতি নিন।

৬। মানসিক স্বাস্থ্য

ডেস্কে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ও ভালো নয়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মস্তিষ্কের চারপাশের রক্ত প্রবাহ ও অক্সিজেন প্রভাবিত হয়। যার ফলে মস্তিষ্কের কাজ ও প্রভাবিত হয়। মৌলিক কাজের প্রতি ফোকাস করতেও সমস্যা হতে পারে। অপরদিকে আপনি যখন নড়াচড়া করেন তখন অনেক বেশি সতেজ রক্ত ও অক্সিজেন মস্তিষ্কে পৌছায় এবং মস্তিষ্ক মুড ভালো করার রাসায়নিক নিঃসৃত করে।

৭। দুর্বল পা

কোন বিরতি না নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাস যাদের তাদের পা ও পায়ের গ্লুটিসে সমস্যা হতে পারে। ঘন্টার পর ঘন্টা পায়ের পেশী ব্যবহার না করলে পেশীর ফাইবার ভেঙ্গে যায়। এর ফলে পেশীর ক্ষয় হয় এবং পায়ের পেশী দুর্বল হয়ে পরে। নিতম্বের গতিশীলতার উপর ও গ্লুটিসের শক্তির উপর প্রভাব পরে। দুর্বল পা ও গ্লুটিস হাঁটা ও দাড়িয়ে থাকার উপর প্রভাব ফেলে। যার কারণে পরে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৮। ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস

শরীরের কোন ডিপ ভেইনে যখন রক্ত জমাট বেধে যায় বিশেষ করে পায়ের শিরায় তখন প্রচন্ড ব্যথা হয়। যখন পা ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যবহার করা না হয় তখন রক্ত সংবহন দুর্বল হয়ে পরে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই কাজ নিয়ে যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন একটু পর পর পা নাড়াচাড়া করুন।

টিপস :

– দাঁড়িয়ে বা হেঁটে হেঁটে ফোনে কথা বলুন

– ডেস্কে ৩০ মিনিট কাজ করার পরই কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন।

– প্রতিদিন ব্যায়াম বা ইয়োগা করুন

– সঠিক ভঙ্গিমায় বসুন। পিঠ ও ঘাড় সোজা রেখে বসুন এবং কাঁধ রিলেক্স রাখুন।