মেইন ম্যেনু

যে কারণে বেড়েছে গরু মাংসের দাম

ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে শীর্ষ-পর্যায়ের বৈঠকের পর আজ ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সীমান্তে গরু পাচারের ঘটনা গত এক বছরের মধ্যে আশি শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

বস্তুত সীমান্তে এই কড়াকড়ির ফলেই বাংলাদেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম ভীষণ বেড়ে গেছে বলে তারা মনে করছেন।

বিজিবি-র মহাপরিচালকও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে সীমান্তে গরু পাচারের গতিপ্রকৃতির দিকে যারা নজর রাখেন, তাদের ধারণা এই কারবার চট করে বন্ধ হওয়ার নয় – কারণ এখানে আর্থিক অঙ্কটা বিশাল, আর এতে সীমান্তরক্ষীদেরও মদত আছে।

ভারতে গত বছরের মে মাসে নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচার রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছে।

দিল্লিতে আজ বিএসএফ ও বিজিবি-র মহাপরিচালকদের বার্ষিক সম্মেলনের পর বিএসএফের প্রধান দেবেন্দ্র কুমার পাঠক বলেছেন দুদেশের সীমান্ত নিশ্ছিদ্র না-হওয়া সত্ত্বেও তারা এই লক্ষ্য অর্জনে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন।

মি পাঠক জানান, ‘গত বছরও যেখানে অন্তত কুড়ি লক্ষ গরু পাচারের ঘটনা ঘটেছিল, এ বছরের জুনেই সেটা চার লাখে নেমে এসেছে। বিজিবি-র সঙ্গে যৌথ টহলদারি, পাচারের রুটগুলি চিহ্নিত করা, রাতে সমন্বিত পাহারা – এই সব নানা পদক্ষেপের ফলেই পাচারের ঘটনা এতটা কমেছে।’

সীমান্ত এলাকায় দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে যাতে পাচারকারীদের তৎপরতা রোখা যায় – সে জন্য সেখানে পাটচাষ বন্ধ রাখতেও সরকারকে সুপারিশ করেছে বিএসএফ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন মহলও বিএসএফকে নির্দেশ দিচ্ছেন, যে কোনও মূল্যে সীমান্তে গরু পাচার ঠেকাতে হবে।

তবে মানবাধিকার কর্মী কিরীটি রায় সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখেন, তিনি বলছেন বাস্তবতা আসলে অন্য রকম।

তিনি বলছেন, ‘একটি গরুও আসলে বিএসএফের অনুমতি ছাড়া সীমান্তের ওপারে যেতে পারে না। আর এই ব্যবসার শিকড় কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক দূরে রাজস্থান-হরিয়ানা-বিহার-ইউপি পর্যন্ত বিস্তৃত!’

এটা ঠিকই, ঢাকার বাজারে গত বছরেও যে গরুর মাংসের কেজি ছিল তিনশো সোয়া তিনশো টাকা, এখন সেটা সাড়ে চারশো-পাঁচশো টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

সীমান্তে কড়াকড়ির জন্যই যে এই অবস্থা, তা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই বিজিবি-র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদের, যদিও তিনি এটাকে সুযোগ হিসেবেই দেখতে চান।

বিজিবি প্রধানের যুক্তি, ‘এক সময় আমাদের চাল আমদানি করতে হত – কিন্তু এখন আমরা চালে স্বনির্ভর, এমন কী রফতানিও করি। তেমনিভাবে এটাও আমাদের খামারিদের জন্যও এটা একটা দারুণ সুযোগ – যাতে বাংলাদেশকে মাংস উৎপাদনে কারও ওপর নির্ভর করতে না-হয়। আর সেই লক্ষ্যেই আমরা তাদের উৎসাহ দিচ্ছি।’

যদিও কিরীটি রায় মনে করেন, ভারতে এই চোরা অর্থনীতির অঙ্কটা এত বড় যে এই গরু পাচার বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব।

পুরোপুরি বন্ধ না-হোক, সীমান্তে গরু পাচার ঠেকানোর জন্য বিএসএফের ওপর যে প্রবল সরকারি চাপ আছে তাতে অবশ্য কোনও সন্দেহ নেই। দিল্লির বৈঠকে বিজিবি-ও তাদের সেই কাজে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে – বিএসএফের জন্য বড় ভরসা সেখানেই। বিবিসিবাংলা