মেইন ম্যেনু

যে কারণে মহররম মাস স্মরণীয়

সুরা তাওবায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন হতেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর নিকট নিশ্চয়ই মাসসমূহের সংখ্যা হলো বারো। এর মধ্যে চারটি মাস হলো নিষিদ্ধ (পবিত্র)। এটাই সরল বিধান। অতএব তোমরা মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।’

বারো মাসের মধ্যে হিজরি বছরের প্রথম মাস হলো মহররম। বিশ্বনবির ঘোষণা অনুযায়ী অপরাধীর ক্ষমা লাভের মাস এটি। এ মাসেই ঘটেছে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। যে কারণে ইসলামের ইতিহাসে মাসটি স্মরণীয় হয়ে আছে। সংক্ষেপে মহররমের স্মরণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো-

১. মহররম মাসেই আল্লাহ তাআলা এ পৃথিবী সৃষ্টি করেন।
২. পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী হজরত আদম ও হাওয়া আলাহিস সালাম শয়তানের প্রতারণায় আল্লাহর হুকুম লংঘন করে তাঁর শাস্তির সম্মুখীন হন।
৩. আল্লাহ তাআলা এ মাসেই আরাফাতের ময়দানে হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালামকে একত্রিত করেন।
৪. এ পবিত্র মাসেই আল্লাহ তাআলা হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালামকে ক্ষমা করে দেন।
৫. হজরত নূহ আলাইহিস সালাম মহাপ্লাবনের পর তিনি ও তাঁর উম্মতগণসহ এ মাসেই পৃথিবীর মাটি স্পর্শ করেন।
৬. মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আলাহিস সালামের জন্য নমরুদের অগ্নিকুণ্ডলী শান্তিতে পরিণত হয় এ মাসেই। তাওহিদের দাওয়াত দেয়ার অপরাধে তৎকালীন জালিম শাসক নমরুদ হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে অগ্নিকুণ্ডলীতে নিক্ষেপ করেছিলেন।
৭. আল্লাহর নবি বাদশাহ হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এ মাসেই তাঁর রাজত্ব ফিরে পেয়েছিলেন।
৮. হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা মহররম মাসেই ফেরাউনের অত্যাচার থেকে রক্ষা করেন এবং ফেরাউনের দম্ভ চূর্ণ করে তাকে দলবলসহ নীল নদে ডুবিয়ে ধ্বংস করে দেন।
৯. সর্বোপরি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণপ্রিয় নাতি হজরত ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু কুফাবাসীর আমন্ত্রণে দুনিয়াতে উত্তম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করতে কুফায় যাওয়ার পথে কারবালার প্রান্তরে ইয়াজিদের নির্দেশে প্রধান সেনাপতি ওবায়দুল্লাহ জিয়াদের সৈন্যবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন।

পরিশেষে…
মহররম মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদার মাস। হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে ইসলামের অনেক ঘটনাই এ মাসে সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ মর্যাদা প্রাপ্ত এ মাসটি মুসলিম উম্মাহর ইবাদাত-বন্দেগি, আল্লাহর ক্ষমা লাভ এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্য স্মরণীয় ও বরণীয়।

আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুসলিমাকে উল্লেখিত সকল ঘটনা থেকেই তার মহান কুদরত ও শিক্ষা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।