মেইন ম্যেনু

যে কারণে সাংবাদিকদের সাথে প্রেম নয়

অনেকেই মনে করেন সাংবাদিকতা পেশাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিশেষ করে মেয়েরা এই পেশার ছেলেদের প্রতি অন্যরকম এক ধরণের আকর্ষণ বোধ করেন।

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় ছেলেরা একটু বেশিই আকর্ষণীয় হন মেয়েদের চোখে। অবশ্য ছেলেরাও সাংবাদিক মেয়েদের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ বোধ করেন। অবশ্যই এই পেশার গ্ল্যামারের কারণে।

সাংবাদিকতা অদ্ভুত উত্তেজনাপূর্ণ একটি পেশা। যখন যেখানে খুশি, যেভাবে প্রয়োজন সেভাবে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অদ্ভুত এক ধরণের গুণ থাকে সাংবাদিকদের। অনেকে বলতে পারেন কথার ফুলঝুরি সাজানোতে পারদর্শী বলেই বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের কাছে তারা আকর্ষণীয় বেশি।

তবে যে যাই বলুক না কেন, আসলেই এই পেশার মানুষগুলো আকর্ষণীয়। কিন্তু এই আকর্ষণ দিয়ে তো আর জীবন চলে না। জীবনে পাশাপাশি চলতে গেলে আরও অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। এই পেশার মানুষজন যতটা আকর্ষণীয় ঠিক ততটাই সঙ্গী হিসেবে খারাপ। কি? বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন তবে দেখে নেওয়া যাক সেই ১০টি কারণ, যার ফলে একজন সাংবাদিকের সাথে আপনার প্রেম মোটেও সুখের হবে না!

সময়ের অভাব:
সাংবাদিকদের পেশাটাই এমন যে কোনো কিছুর নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। খবরের খোঁজে তাদের হুটহাট এদিক-সেদিক চলে যেতে হয়। খবরের কভারেজের জন্য ছুটতে হতে পারে দূর-দূরান্ত। আর এই কারণে নিজের মনের মানুষকে একটু কমই সময় দিতে পারেন তারা। হঠাৎ দেখা গেল, ডেটিং করতে গিয়ে একটি ফোন পেলেন আর সাথে সাথে ছুট দিতে হলো। যদি মনের মানুষটি এই জিনিস মেনে নিতে পারেন তবেই জীবন সুখের হবে, নতুবা নয়।

খুঁতখুঁতে স্বভাব:
একজন সাংবাদিকের পক্ষে আপনি সত্য বলছেন না মিথ্যা বলছেন তা ধরে ফেলাটা সহজ একটি কাজ। কারণ তাদের পেশাই এমন। নিজের পেশায় মনোনিবেশ করতে করতে বাস্তব জীবনেও তিনি এই কাজটি করেন। আপনি কী করছেন, কী পড়ছেন কথায় যাচ্ছেন-সবই খুঁটিয়ে লক্ষ্য করবেন তিনি। এখনকার যুগে এতটা খুঁতখুঁতে হওয়া অনেকেই পছন্দ করেন না। সুতরাং দ্বন্দ্ব তো হবেই।

কথা ধরার বিরক্তিকর অভ্যাস:
পেশাগত কারনেই সাংবাদিকদের স্মৃতিশক্তি বেশ প্রখর হয়। আপনি যা বলবেন বা যা করবেন তার সবটা না হলেও খানিকটা তিনি মনে রাখবেন। এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা হল সঠিক সময়ে আপনার কথা দিয়ে আপনাকেই খোঁচা দিয়ে কথা বলবেন তিনি। কারণ তাদের কাজটাই এমন। আর এ কারণে ঝগড়াটা একটু বেশিই বাঁধে। তাই সাংবাদিকদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক সুখের হয় না।

কথায় ব্যকরণগত ভুল ধরবে:
সাংবাদিকদের কাজই এমন যে সব সময় কথার পিঠে কথা বলতে হয়। একজনের কথার ভুল খুঁজতে খুঁজতে তারা এমনই হয়ে যান যে তার প্রিয় মানুষটির কথাতেও ভুল খুঁজতে থাকেন। সেই সব কথা সব সময় কার শুনতে ভালো লাগবে বলুন?

জ্ঞান দেয়াটা স্বভাব:
সাংবাদিকদের কথা সাধারণ মানুষদের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাকরণগত শুদ্ধ হয়। লিখতে লিখতে বা বলতে বলতে বাংলা ও ইংরেজি অভিধান তাদের ঘুমের মধ্যেও যেন তাড়া করে। সুতরাং যখনই তাদের সামনে একটু গোলমেলে শব্দ বা ব্যাকরণ বলবেন, তখনই তিনি আপনাকে জ্ঞান দিতে শুরু করবেন শিক্ষকের মতো। নিজের প্রেমিককে/প্রেমিকাকে শিক্ষক হিসেবে পছন্দ করবেন না অনেকেই। সুতরাং সংঘাত অবশ্যম্ভাবী।

অতিরিক্ত সন্দেহ প্রবণতা:
খবরের মূল বিষয়বস্তু খুঁজতে খুঁজতে সাংবাদিকদের মনের মধ্যে সন্দেহ প্রবণতা বেশিই ঢোকে বোধহয়। আপনি একটি সাধারণ কথা বললেও তিনি কথাটিতে অন্য গন্ধ পেয়ে সন্দেহ করা শুরু করতে পারেন এবং সন্দেহ কোনও সম্পর্কের জন্যই সুখের হয় না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি:
ফেসবুক, ট্যুইটার, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল সাইটগুলির প্রতি অনেকেই কম-বেশি আসক্তি রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের আসক্তি একটু বেশিই হয়ে থাকে। তৎক্ষণাৎ কোনও খবর পেলেই ব্রেকিং ধরানোর তাড়ায় তারা অনেকটা সময়ই সোশ্যাল সাইটে কাটান। প্রেমিক/প্রেমিকার জন্য সময় কোথায়? এই কারণেই সুখের হয় না সম্পর্ক।

সাংবাদিকদের নিজেদের জন্য সময়ের প্রয়োজন:
পেশাগত কারণেই হোক এবং নিজেকে আরও উন্নত করার জন্যই হোক- সাংবাদিকদের নিজেদের জন্য একটু সময়ের প্রয়োজন হয়। সারাক্ষণ কাজের মধ্যে থেকে তারা নিজেরাও বেশ বিরক্ত থাকেন। নিজেদের মন-মেজাজ ঠিক করার জন্য নিজেদের জন্যও তাদের খানিক সময় বের করতে হয়। এসবের মধ্যে প্রেমিক/প্রেমিকার দিকে ঠিক মতো নজর নাও যেতে পারে। ফলে সম্পর্ক মধুরও হয় না।

অর্থনৈতিক অবস্থা:
একজন সাংবাদিক যত বেশিই খাটাখাটি করুন না কেন, একজন সৎ ও ন্যায়ের পথে চলা সংবাদিকের পক্ষে বিপুল অঙ্কের টাকা প্রতি মাসে আয় করা সম্ভব হয়ে উঠে না। সবথেকে বড় কথা হল, সাংবাদিকরা অনেক বেশি বাস্তববাদী হওয়ার কারণে তারা প্রেমিক/প্রেমিকার পেছনে একটু কমই ব্যয় করতে চান। এখানেই প্রেমিক-প্রেমিকা বা শ্বশুর-শাশুড়ির চোখে তাঁরা খলনায়ক হয়ে উঠতে পারেন।

তারা মোটেও সংসারী নন:
হ্যাঁ, সাংবাদিকেরা অনেক কিছু অনেক ভালো বোঝেন। কিন্তু তারপরেও সংসারের ক্ষেত্রে তারা মোটেও বাস্তববাদী নন। দৈনন্দিন চাল-ডাল-নুন-আলুর হিসেব তাদেরকে দিয়ে হয় না। এমনকি নিজের সন্তানদের দিকেও মনোযোগ দিতে পারেন না তারা।সম্পাদনায়, মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন।