মেইন ম্যেনু

যে কারনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত চাপ, সেশনজট ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া বেসকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে সুনিয়ন্ত্রিত পড়াশোনার সিলেবাস, অরাজনৈতিক পরিবেশ ও শিক্ষকদের সাথে বন্ধু সুলভ সম্পর্ক। এসব সুযোগ সুবিধার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শিক্ষা জীবন শেষে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করছে কর্মজীবনে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৪ টি। প্রতিবছর যত সংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করছে তার তুলনায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যা খুবই সীমিত। এছাড়া ভর্তি বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কিছুদিন আগেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ছিল ভ্রান্ত ধারনা। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা মনে করতেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলে ভাল কোন পেশায় যাওয়া সম্ভব নয়। তবে, তাদের সেই ভ্রান্ত ধারনা এখন অনেকাংশেই পরিবর্তিত হয়েছে। এর সুফল জানতে পেরে অনেক অভিভাবকই নিজে থেকেই ছেলে মেয়েদের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার প্রতি কেন আগ্রহ এমন প্রশ্ন জানতে কথা হয়েছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে। তারা জানিয়েছেন তাদের বিভিন্ন সুবিধা ও অভিজ্ঞতার কথা।

সুজিত চক্রবর্তী ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ মেয়াদী সিলেবাস ও সেশনজট থাকায় তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। এখান থেকে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শিক্ষাজীবনের ইতি টানতে পারবেন।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভারসিটির ট্রিপল ই এর শেষ সেমিস্টার ছাত্র ফাহিমুল ইসলাম , সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ, সেশনজট থাকা এবং বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ভাল হওয়ায় অন্য কোথাও চেষ্টা না করে সরাসরি এখানেই ভর্তি হয়েছেন।

তন্ময় বিশ্বাস তনু পড়ছেন সাউথ ইষ্ট ইউনির্ভাসিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। তার পড়ার ইচ্ছা ছিল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। তবে, এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে মাত্র একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু সীমিত আসন সংখ্যা থাকায় ভাল ফল করেও তিনি সেখানে পড়তে পারেননি। তিনি জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে বিদেশে পড়তে যাওয়া অনেক সহজ।

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী জেসমিন রহমান বীথি জানান, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অনেক ভাল ফলাফল থাকা সত্বেও তিনি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। তবে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তার মনে এখন কোন আফসোস নেই। কারণ এখানে রয়েছে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। তিনি মনে করেন, সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার বিশ্ববিদ্যালয় কোন অংশেই কম নয়