মেইন ম্যেনু

যে গ্রামে ভয়ে কেউ বাস করে না

একটি গ্রাম থেকে রাতারাতিই সব লোক উধাও হয়ে গেলেন! কোথায় গেলেন? এরপর আর কোন হদিস নেই। ঘটনাটি আজ থেকে দু’শ বছর আগের। এটি ভারতের রাজস্থানের ‘কুলধারা’ নামে একটি বর্ধিষ্ণু গ্রামে। জয়সলমীরের কাছের এই গ্রামটিকে বর্তমানে সবাই জানে ‘ভূত-গ্রাম’ বলে।

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, ‘কুলধারা’ তো দূরের কথা এর আশপাশের ৮৫টি গ্রামের ত্রিসীমানায় এখন কেউ ঘেঁষে না। কারণ, সেখানে না কি নানা রকম গা ছমছমে কাণ্ড-কারবার ঘটে! গোটা রাত সেখানে কাটানো দায়। কখনও ছায়া দৌড়ে যায়, কখনও শোনা যায় অদ্ভূত সব শব্দ। বাচ্চাদের হাতের ছাপ দেখা যায় যত্রতত্র।

ভূতকে যেমন মানুষ ভয় পায়, তেমনি ভূতুড়ে কান্ডকারখানা উপভোগ করারও আছেন এক ধরনের অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ। মরু-রাজ্যে তেমন পর্যটক টানতে এ বার সেই গ্রামটিকে ‘তুরুপের তাস’ হিসাবে বেছে নিয়েছে রাজস্থান পর্যটন। রাজস্থানের ওই পরিত্যক্ত গ্রামটিকে তাই ঘঁষেমেজে সাজানো হচ্ছে ।

অবশ্য এমনিতেই রাজস্থানে পর্যটন মানে মরুভূমি, প্রাসাদ আর দুর্গ। রাজ্যের আয়ের ১৪ শতাংশ পর্যটন থেকেই আসছে। বিদেশি পর্যটক টানার ক্ষেত্রেও বরাবরই এগিয়ে রাজস্থান। ভারতে দিল্লি, মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশের পরেই রাজস্থানের অবস্থান। দিল্লি ও মুম্বাইয়ে বিদেশি পর্যটক আসেন মূলত সেখানে বিমানবন্দরের কারণে। আর উত্তরপ্রদেশে পর্যটকেরা ভিড় করেন তাজমহল দেখার জন্য।

এই বিষয়গুলো বাদ দিলে রাজস্থানই এখন সেরা। অনেকে ভাবেন এ রাজ্যে শুধুই মরুভূমি। কিন্তু তা নয়। এখানে অনেক হ্রদও রয়েছে। পানি নিয়েও নতুন ভাবনা রয়েছে সরকারের। আগামী দিনে মরুভূমির রাজ্যে ‘ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার’ও বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে। আর কুলধারার গ্রামটি গড়া হচ্ছে নতুন করে। রাজস্থান সরকার সেই গ্রামটি অধিগ্রহণ করে নিয়েছে।

যে ভাবে গ্রামটি তৈরি হয়েছিল, সেই বৈশিষ্ট্যই রাখা হচ্ছে হুবহু। পালিওয়ার ব্রাহ্মণেরা ১২৯১ সালে এই কুলধারা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। মরুভূমিতেও তারা গম চাষ করতেন। লোকমুখে প্রচলিত, সেই সময় জয়সলমীরের ‘দিওয়ান’ সলিম সিংহ কুলধারা গ্রামের প্রধানের মেয়ের প্রেমে পড়েন ও তাকে বিয়ে করতে চান। বিয়ে না দিলে বড় মাপের খাজনা আরোপের হুমকিও দেন।

কিন্তু কুলধারা ও আশপাশের প্রায় ৮০টি গ্রামের লোকেরা মিলে এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। তার পর হঠাৎই এক দিন রাতারাতি সেই গ্রামের লোকেরা উধাও হয়ে যান। কোথায় যান, তার কোনও হদিস নেই।