মেইন ম্যেনু

যে তিন দেব শিশুর ছবি বদলে দিয়েছে পৃথিবী (ছবিসহ)

তার ছোট্ট শরীর ভেসে এসেছিলো সমদ্রের উপকূলে, তার চারিপাশে ছিলো অসংখ্য জলরাশি। তার মুখ উপুড় করে শুয়ে থাকার ভঙ্গীটি ছিল, ঠিক যেনো জলের কোলে শুয়ে আছে একটি শিশু। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, এটা সেই ভাগ্যহীন শিশু আইলান কুর্দিরই ট্র্যাজিডিময় ভাগ্যের প্রতিচ্ছবি যা সারা বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি করেছে এক অদৃশ্য শোক তরঙ্গ। শুধু আইলান নয় ইতিহাসে রয়েছে আরও অনেক শিশু ও তাদের সাথে ঘটে যাওয়া নির্মমতার ছবি যা আজও সাক্ষী হয়ে আছে শাসকদের নির্মমতার ও শাসিতদের উপর নির্যাতনের প্রতিচ্ছবি হয়ে।

গত ২ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনা বিশ্ববাসীর মন ও মানবীয়তাকে কঠোরভাবে আঘাত করেছে। সিরিয়ার ৩ বছরের শিশুর এই শক্তিশালী ইমেজ জাতির চেতনাকে নতুনভাবে জাগ্রত করেছে এবং উদ্বাস্তুদের অধিকার সম্পর্কে এবং কয়েক মাসে তাদের উপর হওয়া নির্যাতনের উপর বিশ্বের মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

তিন বছর বয়সী আইলান, তার ভাই গালিপ (পাঁচ বছর) এবং মা রেহান সহ একসাথে মারা যায়। তারা একটি ডিঙি নৌকোয় কস এর গ্রিক দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে অন্ধকারে তাদের নৌকাটি উল্টে যায় এবং এ সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটে।

ay11

এখানে, অনুরূপ আরও একটি শক্তিশালী ছবির দিকে তাকান, যা বিশ্বের মানুষের উপর আইলানের অনুরূপ প্রভাব ফেলেছিল। দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বেলসেন-বার্গেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের পাশে একটি ছোট্ট মেয়ের মৃত প্রায় বিভীষিকাময় কঙ্কালসার শরীরের পাশে বসে একটি শকুন তার মৃত্যুর পর লোভী দৃষ্টি নিয়ে, শকুনটি অপেক্ষা করছে শিশুটি কখন মারা যাবে।

ay22

পৃথিবীর সেরা স্থিরচিত্র গুলোর মধ্যে এই ছবিটি অন্যতম। ছবিটি তুলেছিলেন সাউথ আফ্রিকান ফটো সাংবাদিক কেভিন কার্টার। আমরা ইতিহাস হতে দেখতে পাই যে এই মুহূর্তের ক্যাপচার করা সেই হৃদয়বিদারক ছবি ১৯৯৩ সালে প্রকাশের পর অবশ্যই অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছিলো। এবং সেই চিত্র শিল্পী যে শিশুকে না বাঁচিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলো ঘটনা ক্রমে সে কিন্তু আত্মহত্যা করেছিলো। সেদিন সুদানের আয়োদ গ্রামের কাছে অই ঘটনার সময় তিনি ২০ মিনিট অপেক্ষা করেছিলেন সবচেয়ে ভালো ছবিটি তুলতে। এর মধ্যে শকুনটি তার শিকার সমাপ্ত করে। তিনি শিশুটিকে বাঁচাতে পারতেন।

ay33

আরও একটি হৃদয় বিদারক ছবি আমরা দেখতে পাই ভিয়েতনাম যুদ্ধে। এখানে একটি আতঙ্কগ্রস্ত নয় বছরের নগ্ন বালিকা আগুনে তার পোশাক পুড়ে যাওয়ার পর জীবন বাঁচাতে দৌঁড়াচ্ছে সাথে আরও কিছু আতঙ্কিত কিছু শিশু। নাপাম হামলার পর তারা তদের জীবন বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিলো। এই ছবিটি ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনামী আলোকচিত্রী নিক ধারণ করেছিলো। নাপামের আগুনে দগ্ধ ও আতঙ্কগ্রস্থ কিম ফুকের নগ্ন ছবিটি ভিয়েতনাম যুদ্ধ তথা ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে আগুনে ঘৃতাহুতির মত কাজ করেছিলো। আজও বিশ্বব্যাপী শাসকদের আগ্রাসন চলছে। আর এর বড় স্বীকার হচ্ছে শিশু ও নারীরাই। গতকাল, শাসকদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকা মেইল অনলাইনেও এ নিয়ে উঠে এসেছে সমালোচনার ঝর।

এতসব পর্যালচনা করে বলা যায়, হয়তো সিরিয়ার দেবদূত শিশু আইলান কুর্দির এই হৃদয়বিদারক ছবির হাত ধরেই ইউরোপের ‘চলমান অভিবাসী সংকট’ সমস্যার সমাধান হবে এবং পৃথিবী আরও একধাপ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে আমরা কামনা করবো আইলানের মত আর কোনো দেব শিশু যেন অকালে তাদের মূল্যবান জীবনের অবসান ঘটিয়ে ও এভাবে বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়ে ইতিহাসের পট পরিবর্তন না করে, আর এ ব্যাপারে বিশ্ববাসীকেই সচেতন থাকতে হবে।