মেইন ম্যেনু

যে তিন নেতাদের কারণে সবথেকে বেশি মানুষ মরছে!

জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে! এ তো শুধুর কবির কল্পনা নয়, ঘোর বাস্তব। বড্ড বাস্তব। কিন্তু সেই বাস্তবতার চূড়ান্ত ‘খিল্লি’ শুরু হয়েছে যেন গোটা পৃথিবী জুড়ে! মানুষ আগে মারা যেত, জানোয়ারের হাতে। মানুষ তখন মারা যেত ভয়ঙ্কর রোগে। কারণ, তখন যে চিকিত্‍সা বিজ্ঞানের এত উন্নতি হয়নি।

এখন মানুষ চিকিত্‍সা বিজ্ঞানের উন্নতির কিছুটা সাহায্য তো পায়-ই পায়। অনেক মানুষ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসে শুধু ডাক্তারদের জন্যই। কিন্তু এই পৃথিবীতে প্রচণ্ড রকমভাবে বেড়ে গিয়েছে দুর্ঘটনায় মৃত্যু। প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা তো বাড়বেই। কিন্তু একটু পড়াশোনা আর চারপাশ ঘেঁটে টেটে দেখলাম, এই পৃথিবীতে মানুষ সবথেকে বেশি মারা যাচ্ছে যে তিনটি কারণে, সেগুলো এরকম। ১) দেশের জন্য প্রাণ যাচ্ছে। ২) রাজৈনতিক মতাদর্শের কারণে প্রাণ যাচ্ছে। ৩) ধর্মীয় কারণে প্রাণ যাচ্ছে।

এই তিনের জন্য অনেক পিছনে চলে গিয়েছে অসুখ করে মরা থেকে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের দাদাগিরিতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো। আর এই তিন তথ্যকে নিয়ে একটু ভাবার পর যা মনে হল সেগুলোই ছোট করে শেয়ার করি আপনাদের সঙ্গে। আসলে তিন ধরনের ‘নেতা’-রাই এই পৃথিবীর এত মৃত্যুর কারণ। তবে, কখনও এই তিন ধরনের নেতাদের এক আসনে বসাবেন না। আমি নিজেও বসাচ্ছি না। কিন্তু এই তিন ধরনের নেতাদের জন্য পৃথিবী জুড়েই প্রাণ যাচ্ছে নেতা না, এমন মানুষগুলোর। একে একে আলোচনা করলেই বুঝতে পারবেন।

১) দেশের জন্য প্রাণ যাচ্ছে কেন? – উরিতে মৃত্যু হল এতজন জওয়ানের! এটা তো একটা ঘটনা। দেশের নানা প্রান্তে, বিশ্বের নানা প্রান্তে, প্রতিবেশী দেশের মানুষের সঙ্গে লড়তে লড়তে মারা যাচ্ছেন কত কত জওয়ান। যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের কাছে উল্টোদিকের লোকেরা জঙ্গি।

সবক্ষেত্রেই বিষয়টা এক। আমাদের দেশে কাশ্মীর সমস্যা। দুই কোরিয়ায় আরেকরকম সমস্যা। সারা বিশ্বের নানা ক্ষেত্রে সমস্যার কারণগুলো আলাদা। কিন্তু পরিণতি এক। – সেনাবাহিনীর লোকের সংখ্যা কমবে। তারপরেই নতুন রিক্রুট! বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রনেতারা কোনও সমাধান খুঁজে পাবেন না। আর বছরের পর বছর ধরেই প্রাণ যাবে সেনা-জওয়ানদের! এ কী অবিচার!

যদি রাষ্ট্রনেতারা ৭০ বছর ধরে চেষ্টা চালিয়েও একটা সমস্যার সমাধান খুঁজে না পান, তাহলে তাদের অত উপরের পদে বসতে কে বলেছে? উপরে বসে থাকব। কিন্তু কিছুই করতে পারব না, জওয়ানের মৃতদেহতে জাতীয় পতাকা মুড়ে দেওয়া ছাড়া! এটার বন্ধ কি কোনওদিন হবে না? সারা বিশ্বের রাষ্ট্রনেতারা অনেক অনেক মস্তিষ্ক খাটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিদান দেবেন – যুদ্ধ!

তাহলে জওয়ানদের হাতেই কেন তুলে দেওয়া হয় না, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার ক্ষমতা? তাহলে মরার জন্য পড়ে থাকবে কে! এভাবে বছরের পর বছর ধরে সব দেশের সেনারা শুধু মরেই যাবে! কতই বা বয়স হয় জওয়ানদের! দেশে তারা আর থাকলেনই বা কটা দিন!অথচ, বুক চিতিয়ে প্রাণটা দিয়ে দিলেন। এর বিনিময়ে কী দিতে পারি আমরা তাঁদের? সত্যিই ভাববেন। কী দেবেন আপনি ওঁদের! শ্রদ্ধা জানানোর থেকেও বেশি শ্রদ্ধার মানুষ তারা।

২) রাজনৈতিক কারণে প্রাণ যাচ্ছে যাঁদের – চিরকালীন ঘটনা। সারা বিশ্বেই। রাজনৈতিক নেতারা নির্দেশ দিচ্ছেন, প্রেরণা দিচ্ছেন, স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। আর সাধারণ, ফানুসের পিছনে দৌড়তে গিয়ে মারা যাচ্ছে। আমাদের শহর, আমাদের জেলা, আমাদের রাজ্য, আমাদের দেশ, আমাদের পৃথিবী, সব জায়গাতেই গল্পটা এক। নেতাদের কথায় উতি‍সাহিত হয়েই প্রাণ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে মানুষের।

রাজনৈতিক শহিদ! তবু, যদি সেখানে মতাদর্শ আজকের সিমেন্ট কোম্পানির বিজ্ঞাপনগুলোর মতো শক্তপোক্ত থাকতো। আজ যে এই দলের হয়ে ওই দলকে মুখেই বোমাবাজি করছেন, কাল সে-ই গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন উল্টোদিকের শিবিরে! সাধারণ যে, নেতাকে বড় ভালোবাসে। তাদের বড় ভাবে। তাদের মুখের কথার স্বপ্ন নিজেদের চোখে দেখে। আর একদিনে বা রাতে খুন! আবার সেই পতাকায় মুড়ে দেওয়া মৃতদেহটাকে! তবে, এবার আর দেশের পতাকায় নয়, সেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলেরই!‌

৩) ধর্মীয় কারণে মারা যাচ্ছে যাচ্ছে যারা – এই পৃথিবীতে এত ধর্ম। আর ধর্ম মানুষকে এতটাই শক্তি জোগায় যে, তার জন্য প্রাণ দিতে তো কোনও ব্যাপারই নয়, সামনের মানুষটার প্রাণ কেড়ে নেওয়াতেও কোনও দ্বিধা নেই! সেখানেও এই সাধারণ জঙ্গিদের প্রেরণা জোগাচ্ছে উপরের সারির নেতারা! তারা যেমন বলছে, যেভাবে চললে ‘সর্বশক্তিমানের’ কাছে পৌঁছানো যাবে, সেভাবেই ঝাঁপ দিচ্ছে নিচের সারির সাধারণ! তারপর ছিন্নভিন্ন মৃতদেহটাকে আর পতাকায় মুড়বে কীভাবে! কোনও ধর্মকে আলাদা করছি না। একেক জায়গায় একেক ধর্মের মানুষ, এক এক ধর্মের মানুষকে মারছে। নিজেরাও তো মারা যাচ্ছে! কী অদ্ভূত জীবন! পৃথিবীতে এলাম। ধর্ম শিক্ষা পেলাম। সামনের মানুষটাকে মারলাম। এ পৃথিবী ছেড়ে চললাম!

একবার ভেবে দেখুন তো এই তিন ধরনের মৃত্যু যারা বরণ করছে, তাদের পরিবারের কথা। তাদের সবার মায়েরাই যখন পেটে সন্তান আসছে জানতে পেরেছিল প্রথমবার, কত স্বপ্ন দেখেছিল! কীভাবে বলেছিল, নিজের স্বামীকে। ‘আমাদের ভালোবাসা পরিপূর্ণ হল!’ ছেলে কত বড় হবে! জানি মায়েরা নিজেদের স্বান্তনাও ঠিক দিয়ে দেন হয়তো। কিন্তু এবার এগুলো বদলানোর দরকার।

জওয়ানের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা না জানিয়ে, জওয়ানকে যাতে যুদ্ধে যেতেই না হয়, এমন পরিস্থিতি তৈরি করার কথা ভাবতে হবে। রাজনীতি ছেলে করুক। কিন্তু সেটা লোভের জন্য নয়। শুধুই নেতার জন্যও নয়। নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়েও। এটুকু শিক্ষা কেউ তো একটা দিক। আর ধর্মের ক্ষেত্রেও তাই। বাবা-মায়ের নাম শেখার পরই শিশু যেন শিখে যায়, কাউকে মারতে নেই। ওটাই আসল ধর্ম। ২০১৬ সালে মানুষ এটুকুও ভাবতে না শিখলে, তাহলে আর পৃথিবীটা কীসের এত এগোলো! পিছনোর দিন কিন্তু অনেকদিন শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন বোধহয় আর ফেরার উপায় নেই।

কারণ, পৃথিবীটায় এই তিন ধরনের নেতাদেরই শাসন চলে। সেখান থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করলে যে আবারও রক্তারক্তি। সাধারণরা তো এটাই পারে না। তাই দেশের জন্য শহিদ, রাজনৈতিক শহিদ, ধর্মীয় শহিদ বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে! ‘মশা’-রাও এবার জিকার, ডেঙ্গির, ম্যালেরিয়ার, চিকনগুনিয়ার জীবাণু নিয়ে এসে কার শরীরে দেবে, সে লোক পাবে না বোধহয়! সাধারণেরও এবার উচিত নেতাদের আজও রাজা এবং নিজেদের উলুখাগড়া ভাবাটা বন্ধ করা।

(সবশেষে বারবার করে বলে দেওয়া – নেতা মানে সব নেতা নন। শহর, জেলা, রাজ্য, দেশ, বিশ্বের সব নেতাই নন। তবে, ভাবনাটা একটু বদলালে ভালো হয়। দল পাল্টানো এত সহজ। আর চেষ্টা করলে একটু ভাবনা বদলাবে না! তাতে যে কটা মানুষ এই পৃথিবীতে আরও একটু বেশি বেঁচে থাকতে পারে।) – জি নিউজ