মেইন ম্যেনু

যে মাশরুমের কেজি ৪ লাখ টাকা

বিশ্বব্যাপী সুস্বাদু এবং জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি হচ্ছে ‘ট্রাফল’। এটা আসলে এক ধরনের মাশরুম। অত্যন্ত মূল্যবান এই খাবারটি মূলত উৎপন্ন হয় ইউরোপে, বিশেষ করে ইতালি এবং ফ্রান্সে। এই মাশরুমটিকে মূলত জনপ্রিয় করেছে ইতালি এবং ফ্রান্স। মনে করা হয়, দেশ দুটির বাইরে সাধারণত পাওয়াও যায় না ট্রাফল।

তবে আপনি চাইলে এ ধারণাটিকে ভুল প্রমাণ করে দিতে পারেন। যেকোনো জায়গা থেকেই আপনি খুঁজে বের করতে পারেন ‘মহামূল্যবান’ ট্রাফল। অস্ট্রেলিয়ার দ্বীপ তাসমানিয়ার ভূ-তল থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের বাগান থেকে নিয়ে স্লোভেনিয়ার বনাঞ্চল পর্যন্ত- আপনি চাইলেই পেতে পারেন এই ছত্রাকটি।

এখানে এমন পাঁচটি দেশের নাম দেয়া হলো যেখানে বিভিন্ন ধরন, স্বাদ আর দামের ট্রাফল আপনি সহজেই খুঁজে পেতে পারেন:

ইতালি: ইতালি এবং ফ্রান্স- এই উভয় দেশেই সহজে খুঁজে বের করা যায় ট্রাফল। তবে এর জন্য আছে ব্যতিক্রমী এক পদ্ধতি। দুই দেশেই ব্যবহার করা হয় এক ধরনের প্রশিক্ষিত কুকুর। এদের নাম ‘লাগোটো রোমানিয়োলো’। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা ট্রাফল খুঁজে বের করতে পারে এ ধরনের কুকুরেরা। অবশ্য কখনো কখনো এই কাজে ব্যবহার করা হয় শূকর। তবে সমস্যা হচ্ছে খুঁজে পাওয়ার পর মাশরুমগুলো খেয়ে ফেলে শূকরেরা।

ট্রাফলের একটা ধরন হচ্ছে সাদা ট্রাফল। ইউরোপে দূর্লভ এই মাশরুমটির দাম প্রতি পাউন্ড ২২০০ ইউরো, যা বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকারও বেশি। অর্থাৎ, প্রতি কেজির দাম চার লাখ টাকারও বেশি। ইতালির পিডমন্ট, মার্কি এবং টুসক্যানি এলাকায় পাওয়া যায় এই মাশরুম। পোপলার, বিচ, হ্যাজলনাট, ওক এবং উইলো গাছের মূলে পাওয়া যায় সাদা ট্রাফলের ছত্রাক। এগুলো খুবই সুগদ্ধময় হয়ে থাকে।

আরো এক ধরনের ট্রাফল হচ্ছে ‘ব্ল্যাক ডায়ামন্ড ট্রাফল’। দেখতে কালো হিরার মতো হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘ব্ল্যাক ডায়ামন্ড ট্রাফল’। তবে নাম যাই হোক দাম কিন্তু সাশ্রয়ী। অন্তত সাদা ট্রাফলের চেয়ে অনেক কম। প্রতি পাউন্ডের দাম ৭৫০ ইউরো। অর্থাৎ, বাংলাদেশি টাকার ৬৪ হাজার ৫০০ টাকার মতো। দাম কম হওয়ায় হয়তো সুগন্ধটাও একটু কম এর। ইউরোপের সব জায়গায়ই জন্মায় এটি। বিশেষ করে গরমকালে।

ফ্রান্স: ‘ব্ল্যাক ডায়ামন্ড ট্রাফল’র সবচেয়ে সহজলভ্য জায়গা হচ্ছে ফ্রান্স। স্থানীয়রা এটিকে বলে ‘পেরিগোর্ড ট্রাফল’। পেরিগোর্ড এলাকায় বেশি পাওয়া যায় বলেই এটিকে এ নামে আখ্যায়িত করা হয়। তবে সম্প্রতি ফরাসী গণমাধ্যম সিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দিন দিন ট্রাফলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। আর এ কারণে অবশ্য দামও বেড়ে যাচ্ছে এই মাশরুমটির।

চীন: চীনের ট্রাফলগুলো অনেকটা ফ্রান্সের ট্রাফলগুলোর মতো। এজন্য এদের বলা হয়, ফরাসী ট্রাফলের খালাতো ভাই। তবে চীনে এটির দাম খুবই কম। মাত্র ১৩০ ইয়েনেই পাওয়া যেতে পারে মাশরুমটি। অবশ্য প্রজাতিভেদে এর দাম ১ হাজার ৩০০ ইয়েন পর্যন্তও হতে পারে। আর এ কারণে ফরাসী ট্রাফল বিক্রেতারা নিজেদের দেশের ট্রাফল বাদ দিয়ে চীনের ট্রাফলের দিকে ঝুঁকছে দিন দিন। এটা তাদের জন্য ৪০ গুন বেশি লাভজনক।

চীনের ট্রাফলগুলো ফরাসী ট্রাফলের চেয়ে অনেক বেশি নরম। তবে এর ঘ্রাণও অনেক কম। আর এটি চীনের একটি নিয়মিত খাবার। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশকে বলা হয় ‘হার্ট অব দ্য ট্রাফল’। এই মাশরুমগুলো সংগ্রহের জন্য বিশেষ ভ্রমণের আয়োজন করে ইউনানবাসী। এগুলোকে বলা হয় ‘মাশরুম শিকারের ভ্রমণ’। আর এ ভ্রমণে চাইলে চীনাদের সাথে যোগ দিতে পারে বিদেশি পর্যটকরাও।

নামিবিয়া: নামিবিয়ার কালাহারি মরুভূমিকে বলা হয় ট্রাফলের ‘গুপ্ত ভাণ্ডার’। এখানে বালুকাময় মরুর নিচে লুকিয়ে থাকে এসব মাশরুম। বিশ্বের মধ্যে কালাহারি মরুভূমির মাশরুমগুলোর দাম সবচেয়ে কম। অন্তত ইউরোপের ট্রাফলের চেয়ে ১০০ গুন কম। নামিবিয়াতে মাশরুম খুঁজে পেতে কোনো প্রশিক্ষিত কুকুর কিংবা শূকরের সাহায্য নিতে হয় না। এর জন্য নামিবিয়াবাসীর প্রশিক্ষিত চোখই যথেষ্ট। মরুভূমিতে ফাটল দেখলেই তারা বুঝে যায় এখানেই আছে সেই প্রকৃতির উপহার।

এখানকার মাশরুমগুলোর দাম ৩০ থেকে ৪০ নামিবীয় ডলারের মধ্যে। বাংলাদেশি টাকায় দেড়শ থেকে দুইশ টাকার মধ্যে। তবে স্থানীয়দের কাছে প্রচুর চাহিদা রয়েছে এটির। সেখানকার রেস্তোরাঁগুলোতে প্রচুর বিক্রি হয় ট্রাফল।

ক্রোয়েশিয়া: ক্রোয়েশিয়াতে সাদা এবং কালো- দুই ধরনের ট্রাফলই উৎপন্ন হয়। তবে কালো ট্রাফল উৎপন্ন হয় বছরজুড়ে। আর সাদাগুলো উৎপাদন করা হয় শরৎ এবং শীতকালে। ১৯৯৯ সালে বিশ্বের বৃহত্তম ট্রাফল পাওয়া গেছে ক্রোয়েশিয়ার ইস্ত্রিয়ান উপদ্বীপে।

সারা বছরই ট্রাফল পাওয়া যায় দেশটিতে। তবে ক্রোয়েশিয়াতে ট্রাফল খোঁজার অনন্য অভিজ্ঞতা পেতে বের হতে হবে রাতে। এপ্রিল মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলে এ খোঁজাখুঁজির কাজ।