মেইন ম্যেনু

যে লক্ষণগুলো প্রকাশ করে সঙ্গী আপনার ওপর মানসিক অত্যাচার করেন

একটি সম্পর্কে থাকলে অনেকেই দুই ধরণের মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হন। একটি হচ্ছে শারীরিক অত্যাচার এবং অপরটি মানসিক যন্ত্রণা। শারীরিক অত্যাচারের চিহ্ন থাকে এবং তা বলে অন্তত অন্য আরেকজনকে মনের যন্ত্রণাটি বোঝানো যায়। কিন্তু মানসিক যন্ত্রণা কাওকে বলে বোঝানো যায় না এবং এই যন্ত্রণার ক্ষত কাওকে দেখানোও যায় না। নিজের মনের ভেতরে সকল ব্যথা নিয়ে ধুকে ধুকে বেঁচে থাকেন ভুক্তভোগী অনেকেই। অনেকে অবশ্য বুঝতেও পারেন না তিনি সঙ্গীর মাধ্যমে মানসিক অত্যাচারের শিকার। মুখ বুজে সহ্য করতে করতে এক সময় সত্যিই বিষণ্ণতায় ডুবে যান অনেকেই। কিন্তু এটিই সমাধান নয়। আগে বুঝে নিন কখন আপনি সঙ্গীর মাধ্যমে মানসিক অত্যাচারের শিকার এবং কখন আপনার প্রতিবাদ করা উচিত।

১) আপনার কোনো কাজই সঙ্গীর পছন্দ হয় না, আপনার সব কাজেই তার অভিযোগ থাকে। এভাবে আপনি নিজের প্রতি ভরসা হারাতে থাকেন এবং কী করলে তিনি খুশি হবেন এই চিন্তায় মানসিক ভাবে কষ্ট পেতে থাকেন। এটিই মানসিকভাবে অত্যাচার করা, আপনাকে মানসিক যন্ত্রণায় রাখা।

২) আপনার যোগ্যতাকে সব সময় ছোট করে দেখা এবং নিজেকে সবসময় বড় বলে জাহির করে আপনার সব কিছু নিয়ন্ত্রণে আনতে চাওয়া সঙ্গীটি অবশ্যই আপনার উপরে মানসিক অত্যাচার করছেন।

৩) সঙ্গী কি আপনার সব ধরণের দুর্বলতাকে তিনি আঘাত করেন এবং আপনার সকল ছোটোখাটো সমস্যাকেও তিনি অনেক বড় করে উপস্থাপন করে এবং কথায় কথায় খুঁত ধরে আপনাকে অপদস্ত করার চেষ্টা করেন? এতে অবশ্যই আপনি মনঃকষ্টে ভোগেন। আর এটাই মানসিকভাবে অত্যাচার করা।

৪) আপনার কোনো কিছুকেই গুরুত্ব না দিয়ে আপনার আবেগ, অনুভূতি সব কিছুকেই ছোট করে দেখেন এবং তিনি সব সময়েই চান নিজেরটা আপনার উপরে চাপিয়ে দিতে? আপনি কি বাধ্য হন তার এই কাজে নিজের সকল স্বপ্ন, ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে মুছে ফেলতে? তাহলে অবশ্যই প্রতিবাদ করুন চুপচাপ এগুলো সহ্য না করে। কারণ এই মানসিক অত্যাচারের ফলে নিজের স্বপ্ন হারিয়ে আপনি বিষণ্ণতায় ডুবে যাবেন।

৫) আপনার সঙ্গী যদি তার বিফলতা, দুঃখ ও অসুখী জীবনের জন্য আপনাকে সবসময় দোষী করতে থাকেন তাহলে অবশ্যই এই সম্পর্ক থেকে কিছুই পাবেন না। কারণ এভাবেই তিনি মানসিকভাবে অত্যাচার করে যাবেন জীবনভর।

৬) আপনার সঙ্গী নিজে আপনার সাথে মজা করেন কিন্তু আপনার মজা করে বলা সব কিছুই অপমান হিসেবে ধরেন এবং এই নিজে আপনার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়ে যান এবং আপনি কি সব সময় অস্থিরতায় ভোগেন কোন কথাটিতে সঙ্গী ভুল ধরবেন এবং কোনটিতে ধরবেন না তাহলে আপনি খুব বেশী পরিমাণে মানসিক অত্যাচারে অত্যাচারিত। কারণ সঙ্গীর সাথে সম্পর্কটি হচ্ছে বন্ধুর মতো এখানে মেপে কথা বলার অবকাশ নেই। আপনি প্রতিটি কথা মেপে বলতে গেলে অবশ্যই আপনার মাথায় চাপ পড়তে থাকবে কোনটি বলবো কোনটি বলবো না। আর এভাবে জীবন চলতে পারে না।

৭) আপনার সঙ্গী কখনোই আপনার কথা শুনতে চান না। আপনি দু একটি কথা বললেও তিনি তা নিয়ে রাগ হয়ে যান এই বলে যে আপনি তার উপরে কেন কথা বলছেন। মোট কথা তিনি যে সব ক্ষেত্রে সঠিক তার উপরে অন্য কেউ কথা বলতে পারবে না এই জিনিসটি তিনি প্রতিষ্ঠা করতে চান। আর এটি একধরণের মানসিক অত্যাচারই বটে।

৮) কিছু হলেই যোগাযোগ বন্ধ করে বসে থাকা, কথা না বলা, সমস্যা সমাধান না করা এইসকল কাজ যদি আপনার সঙ্গী করে থাকেন তাহলে বুঝবেন তিনি চান সব সময় আপনিই তার কাছে এগিয়ে যান। আর পুরোটা সময় আপনি মানসিক ভাবে কষ্ট পাচ্ছেন তা তিনি একেবারেই বোঝেন না, কারণ তিনি শুধুই নিজের আবেগের কথা ভাবেন, আপনার আবেগ থাকতে পারে এই জিনিসটি তিনি বুঝতে চান না। এভাবে তাকে মেনে নিয়ে আপনি নিজেই প্রতি পদে মানসিক কষ্টে রয়েছেন? তাহলে প্রতিবাদ করুন, কারণ তিনি আপনার ওপর মানসিক অত্যাচার করছেন।
সূত্র:powerofpositivity.