মেইন ম্যেনু

যে ৫ টি কারণে আমাদের সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়েই চলেছে

বিয়ের পরে যৌনতার অভাবের কারণে অনেক দম্পতির মধ্যেই দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা। আসলে প্রেম করে বিয়ে হোক অথবা দেখা-শোনা করে, বিয়ের পর যৌন জীবন অন্য মাত্রা পায়। বিবাহিত জীবনে যে নিয়মিত যৌনতা আসে তা প্রাক-বিবাহ জীবনে সম্ভব নয়। এদেশে বিয়ের পরে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দিনে দিনে বাড়ছে। এই বিবাহবিচ্ছেদের কারণগুলো এরকম।

যৌনতার অভাব – বিয়ের পরে যৌন বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের ক্ষেত্রে অন্য একটা সমস্যাও থাকে। একেবারে অপরিচিত একটি মানুষের সঙ্গে যৌনতায় কিছু প্রাথমিক অস্বস্তি থাকা একেবারে স্বাভাবিক। কিন্তু এই বিষয়টিই অনেক সময়ে দম্পতিদের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করে দেয়।

প্রত্যাশাপূরণের অভাব – প্রত্যেকটি ছেলে বা মেয়ের মনেই আদর্শ স্ত্রী বা স্বামী সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি থাকে বিয়ের আগে থেকেই। বিয়ের পর সেই ধারণার সঙ্গে বাস্তবের স্ত্রী বা স্বামীটির মিল পাওয়া যায় না অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। সেখান থেকেই তৈরি হয় প্রত্যাশা অপূর্ণ থাকার একটি হতাশা।পরিবারের সদস্যদের অনধিকারচর্চা – স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেরই পরিবারের সদস্যদের নাক গলানো যে কোনও নবদম্পতির কাছে একটা বড় সমস্যা। বাড়ির বড়রা যদি কথায় কথায় পরামর্শ, উপদেশ বা আদেশ দিয়ে নববিবাহিত স্বামী-স্ত্রীকে নিজেদের ইচ্ছেমতো চালনা করতে চান তাহলে খুব মুশকিল। তাঁদের এই অবাঞ্ছিত নাক গলানো স্বভাবের ফলে সমস্যা তৈরি হয় স্বামী স্ত্রীর মধ্যেও।

ধৈর্যের অভাব – বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিয়ের পর স্বামীর অথবা স্ত্রীর কোনও একটি বিশেষ অভ্যাস বা জীবনযাপনের কোনও একটি দিক অন্যজনের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। স্বামী হয়তো অফিস বেরনোর আগে ভিজে তোয়ালেটা রেখে যাচ্ছেন বিছানার উপর, সেটা স্ত্রীর পছন্দ নয়। আবার স্ত্রী হয়তো রোজ বাথরুমে গিজারের সুইচটা অফ করতে ভুলে যাচ্ছেন, সেটা পছন্দ নয় স্বামীর। সেই নিয়েই বেঁধে যাচ্ছে ঝগড়া।

কেরিয়ার নিয়ে সমস্যা – বিয়ের পর কেরিয়ার আর পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই দ্বন্দ্ব বেঁধে যায়। বিয়ের পর স্বামী আশা করেন, স্ত্রী চাকরি ছেড়ে পরিবারকে সময় দেবেন। স্ত্রী-ও আশা করেন স্বামীর কাছে তাঁর অফিসের থেকে বেশি প্রাধান্য পাবেন তিনি নিজে। সেই আশা পূরণ না হলেই দেখা দেয় সমস্যা।

ভালো দাম্পত্য জীবন পেতে তাই আগে থেকেই এই সমস্যাগুলো যাতে জীবনে থাবা বসাতে না পারে, তেমনভাবে নিজেকে তৈরি রাখুন। আর এরপরও যদি কোনও একটি সমস্যা আপনাদের জীবনেও চলে আসে, তাহলে ভেঙে না পড়ে, সেগুলোর প্রতিকারের রাস্তা খুঁজুন দুজনে বসে। আপাতত আপনার সুখী দাম্পত্য জীবনের শুভেচ্ছা থাকলো।