মেইন ম্যেনু

যে ৫ টি বিষয় টিটেনাস ইনফেকশনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে

বেশীরভাগ মানুষ লোহার মত ধাতব বস্তুর দ্বারা আঘাত পেলেই কেবল টিটেনাস টিকা নিয়ে থাকে। ধাতব বস্তুটি যদি মরিচা পড়া থাকে তাহলে অধিক সচেতনতার প্রয়োজন বলে বিশ্বাস করা হয়। হ্যাঁ মরিচা অনেক বেশি ব্যাকটেরিয়াকে আকৃষ্ট করে এবং ব্যাকটেরিয়ায় ঠাসা থাকে। কিন্তু এমন আরো অনেক জিনিস আছে যা টিটেনাসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং এগুলোর জন্যও টিটেনাসের টিকা নেয়া প্রয়োজন। টিটেনাস ইনফেকশনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এমন কিছু বিষয় সম্পর্কেই জানবো এই ফিচারে।

১। কাঠ দ্বারা কেটে গেলে

কাঠ ব্যাকটেরিয়ার আশ্রয়স্থল। ভোপালের আস্থা স্পেশিয়ালিটি ক্লিনিকেরর ডা. রতন ভাইস বলেন, বর্ষার সময় আমাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকা উচিৎ। কারণ ভেজা কাঠে ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই বৃদ্ধি লাভ করে। এজন্যই কাঠের দরজা বা টেবিলে লেগে কেটে গেলেও টিটেনাস ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

২। পোষা প্রাণীর কামড়

পোষা প্রাণীরা যে কোন স্থান চাটতে পছন্দ করে। মেঝের ধুলাবালি থেকে শুরু করে ভেজা কাঠ বা মরিচা পড়া ধাতব বস্তু পর্যন্ত সবকিছু চাটে পোষা প্রাণীরা যা কিনা ব্যাকটেরিয়ায় পরিপূর্ণ থাকতে পারে। যদি এমন কোন পোষা প্রাণী বা অন্য প্রাণী আপনাকে কামড়ায় তাহলে আপনি টিটেনাস হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

৩। ধুলো-ময়লা

ধুলো, কাদা ও ময়লায় বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। যদি আপনার কেটে যাওয়া স্থানে বা ক্ষততে এগুলো লেগে যায় তাহলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনে রাখবেন নোংরা ক্ষত মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

৪। শিশুর জন্মের সময়

আগেকার দিনে গর্ভবতী নারীরা ঘরেই বাচ্চা প্রসব করতেন। বাচ্চার নাড়ি কাটার জন্য লোহার ছুরি, কাস্তে, সুপারি কাটার সরতা বা জাঁতি ব্যবহার করা হত। এর ফলে মা ও শিশু উভয়েই মারাত্মক টিটেনাসের ঝুঁকিতে থাকতো। একটা সময়ে এই উপমহাদেশে নবজাতকের মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিলো টিটেনাস। নবজাতক ও নতুন মায়েদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে তাদের টিটেনাস ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই গর্ভাবস্থায় টিটেনাসের টিকা নেয়া প্রয়োজন।

৫। ইমিউনিটি কম

অধিকাংশ মানুষই টিটেনাসের টিকা নেন না এবং এ কারণেই ইনফেকশনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রত্যেকেরই উচিৎ টিটেনাসের টিকা নেয়া।

টিটেনাস শনাক্ত করা কঠিন। সাধারণত ধুলাবালি, ময়লা ও পশুর মলে টিটেনাস সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani পাওয়া যায়। এর বীজ ত্বকের কাটা অংশ দিয়ে রক্তস্রোতে মিশে যায়। তারা শরীরের মধ্যে বৃদ্ধি লাভ করে ও অঙ্কুরিত হয়। অঙ্কুরিত স্পোর থেকে টক্সিন – টিটেনোস্প্যাজমিন উৎপন্ন হয় যা স্নায়ুতন্ত্রের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে। এই বিষ প্রথমে ত্বকের ক্ষত স্থানের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তারপর এটি স্নায়ুরজ্জু ও মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে টিটেনাসের সবচেয়ে ভীতিকর লক্ষণটি দেখা যায়, আর তা হল – লক জ বা দাঁতকপাটি লাগা। তারপর আক্রান্ত রোগীর ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, ঢোক গিলতে সমস্যা হয় এবং পেট অনমনীয় হয়ে যায়। বিষ ছড়িয়ে পড়লে পেশীতে খিঁচুনি শুরু হয়। এই লক্ষণগুলো কয়েকসপ্তাহ স্থায়ী হয়।

একবার টিটেনাসের সংক্রমণ শুরু হয়ে গেলে একে বন্ধ করা যায় না। টিটেনাসকে ম্যানেজ করা যায় কিন্তু পুরোপুরি নিরাময় করা যায় না। টিটেনাস মারাত্মক আকার ধারণ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ভালো খবর হচ্ছে টিটেনাসের টিকা নেয়ার মাধ্যমে একে প্রতিরোধ করা যায়। প্রথমে ৩ পর্বে টিটেনাসের টিকা নিতে হয়। তারপর প্রতি ১০ বছর পর পর ১ টি করে টিকা নিতে হয়।